
ঝালকাঠিতে প্রতিপক্ষের হামলায় আহত হওয়ার চার মাস পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাসলিমা বেগম (৩৫) নামের এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। আজ বুধবার সকালে বরিশালের শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়। এ ঘটনার পর দুপুর ১২টার দিকে নিহত তাসলিমার স্বজনেরা লাশ নিয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেন। তবে পরে জেলা প্রশাসকের সুষ্ঠু বিচারের আশ্বাস দিয়ে স্বজনেরা সেখান থেকে সরে যান।
তাসলিমা বেগম ঝালকাঠি পৌর শহরের নতুন কলাবাগান এলাকার মো. খোকন বিশ্বাসের স্ত্রী। গত ১৫ এপ্রিল নির্মাণাধীন দেয়ালে পানি দেওয়াকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের হামলার শিকার হন তাসলিমা বেগম। এ ঘটনার তাসলিমা বেগম দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।
পুলিশ জানায়, গত ১৫ এপ্রিল প্রতিপক্ষের লোকজন তাসলিমা বেগমকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর আহত করেন। এ ঘটনায় ২৩ এপ্রিল তাসলিমার স্বামী খোকন বাদী হয়ে প্রতিবেশী হায়দার খানের ছেলে মো. সাইফুল (৩৫), তাঁর স্ত্রী রেশমা বেগম (২৫), আবুল ভূঁইয়ার ছেলে শামীম ভূঁইয়াসহ (৩৫) পাঁচজনকে আসামি করে সদর থানায় একটি হত্যাচেষ্টার মামলা করেন। এদিকে একই প্রতিপক্ষের হাতে ২০১৮ সালের ৭ নভেম্বর তাসলিমা বেগমের দেবর শাকিল বিশ্বাস (২৮) নিহত হন। এ ঘটনায় একটি হত্যা মামলা ঝালকাঠি জেলা ও দায়রা জজ আদালতে বিচারাধীন।
এদিকে নিহত তাসলিমার স্বজনেরা বরিশালের শের-ই–বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে লাশ নিয়ে সরাসরি ঝালকাঠি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের মূল ভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে আহাজারি শুরু করেন। সেখানে ঘণ্টাখানেক অবস্থানের পরে জেলা প্রশাসক মো. জোহর আলী সুষ্ঠু বিচারের আশ্বাস দিলে স্বজনেরা সেখান থেকে সরে যান।
নিহত তাসলিমা বেগমের ননদ শিরিন বেগম বলেন, ‘পহেলা বৈশাখের দিন দেয়ালে সামান্য পানি দেওয়াকে কেন্দ্র করে সাইফুলের নেতৃত্বে কয়েকজন আমার ভাইয়ের স্ত্রীকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করেন। সাইফুলের লোকজনই আমার ভাইকে তিন বছর আগে হত্যা করেছে। আমরা হত্যাকাণ্ডের সঠিক বিচার চাই।’
আহত নারীর মৃত্যুর খবর পেয়ে প্রধান আসামি সাইফুলসহ অন্য আসামিরা গা ঢাকা দিয়েছেন। তাই এ বিষয়ে তাঁদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ঝালকাঠি সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. খলিলুর রহমান বলেন, লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হবে। এ ঘটনায় আগের করা হত্যাচেষ্টার মামলাটি হত্যাকাণ্ডের মামলা হিসেবে নেওয়া হবে।