
সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে এক শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগে ছাত্রদলের বহিষ্কৃত দুই নেতার একাডেমিক শাস্তি কমানোর দাবিতে মানববন্ধন করেছেন শিক্ষার্থীরা। আজ বুধবার বেলা আড়াইটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পলিটিক্যাল স্টাডিজ ও পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থীরা এ কর্মসূচি পালন করেন।
শাস্তি পুনর্বিবেচনার দাবিতে আয়োজিত মানববন্ধনে ছাত্রদলের কয়েকজন নেতা-কর্মীও উপস্থিত ছিলেন। শিক্ষার্থীরা বলেন, শাস্তিপ্রাপ্ত দুজনের ভবিষ্যৎ বিবেচনায় নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ যেন শাস্তি পুনর্বিবেচনা করে।
মানববন্ধনে পলিটিক্যাল স্টাডিজ বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী হৃদয় আহসান বলেন, ‘গত ১৮ জুলাই আমাদের সহপাঠী ও জুনিয়রের মধ্যে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে। সেখানে “হিট অব দ্য মোমেন্টে” হাতাহাতির ঘটনা থেকে ঘটনাটি ঘটে গেছে। এ জন্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দুজনের বিরুদ্ধে একটি অমানবিক বিচার করা হয়েছে। তারা দুজনই চতুর্থ বর্ষের ছাত্র। তাদের ভবিষ্যতের ক্যারিয়ারের কথা চিন্তা করে সেই শাস্তি যেন কমিয়ে নিয়ে আসে—এই দাবি আমাদের।’
পরিসংখ্যান বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সাব্বির হোসেন বলেন, ‘পরিবারের কথা চিন্তা করে তাদের যেন একটি সুযোগ দেওয়া হয়। আমরা অকপটে স্বীকার করছি যে তারা অন্যায় কাজ করেছে। আমরা চাই, তাদের বিচারটি পুনর্বিবেচনা করা হোক।’
১৬ জুলাই শাহপরাণ হলের ক্যানটিনের খাবারের মান নিয়ে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে মন্তব্য করেন সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী খাইরুল খন্দকার। অভিযোগ ওঠে, এর জেরে ১৮ জুলাই রাতে তাঁকে মারধর করেন পলিটিক্যাল স্টাডিজ বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ও শাখা ছাত্রদলের যোগাযোগবিষয়ক সম্পাদক হাসিবুর রহমান এবং একই বর্ষের পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থী ও শাখা ছাত্রদলের সহদপ্তর সম্পাদক তারেক রহমান।
এ ঘটনার প্রতিবাদে ওই রাত থেকেই টানা তিন দিন বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থীরা। ১৯ জুলাই ছাত্রদল অভিযুক্ত দুই নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার করে। পরে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর গতকাল মঙ্গলবার রাতে জরুরি সিন্ডিকেট সভায় তাঁদের চার সেমিস্টারের জন্য বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।