
বিদ্যুৎ ও পানির দাবিতে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছেন উপজেলার সলিমপুর ইউনিয়নের জঙ্গল সলিমপুরের বাসিন্দারা। আজ মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে ওই গ্রামের দুই শতাধিক বাসিন্দা ফৌজদারহাট–বায়েজিদ সংযোগ সড়কের মাথায় ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করেন।
বেলা দুইটা পর্যন্ত অবরোধ অব্যাহত রয়েছে বলে জানা গেছে। প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে অবরোধ চলায় মহাসড়কের উভয় দিকে অন্তত ১০ কিলোমিটার এলাকায় যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। অত্যন্ত গরমে যানজটে আটকে দুর্ভোগে পড়েছেন কয়েক শ যাত্রী।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সলিমপুর ইউনিয়নের টিলাঘেরা একটি গ্রাম হলো জঙ্গল সলিমপুর। সেখানে একাধিক টিলা কেটে অবৈধ বসতি গড়ে উঠেছে। সম্প্রতি অবৈধ বসতি উচ্ছেদ করে সেখানে সরকারি স্থাপনা নির্মাণের কাজ শুরু করেছে জেলা প্রশাসন। এসব অবৈধ বসতি উচ্ছেদের জন্য জেলা প্রশাসন সলিমপুরের বিদ্যুৎ–সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয় বলে অভিযোগ করেছেন গ্রামের বাসিন্দারা।
আন্দোলনকারীদের একজন জঙ্গল সলিমপুরের ৬ নম্বর সমাজের বাসিন্দা মো. মাসুদ প্রথম আলোকে বলেন, এক মাস আগে জঙ্গল সলিমপুরের আলীনগর এলাকায় প্রশাসন বিদ্যুৎ–সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়। অন্যান্য এলাকায় বিদ্যুৎ–সংযোগ থাকলেও প্রায় সারা দিন লোডশেডিং চলে। মানুষ সারা দিন পরিশ্রম করে রাতে একটু শান্তিতে ঘুমাতে পারে না। বিদ্যুৎ না থাকার কারণে পানিও তুলতে পারছেন না তাঁরা। ফলে তাঁদের জীবনধারণ কষ্টসাধ্য হয়ে যাচ্ছে। এখন তাঁদের অন্য কোথাও জমি কিনে বসতি গড়ার মতো সামর্থ্য নেই। এ জন্য বাধ্য হয়ে তাঁরা আন্দোলনে নেমেছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সহকারী কমিশনার (ভূমি) আশরাফুল আলম বলেন, জঙ্গল সলিমপুরে বিদ্যুৎ–সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়নি। সারা দেশের মতো এখানেও বিদ্যুতের সরবরাহ কম। তাই ওই গ্রামে নিরবচ্ছিন্নভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না।
এদিকে আন্দোলনরত গ্রামবাসীদের সঙ্গে কথা বলতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. শাহাদাত হোসেন, সলিমপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সালাউদ্দিন আজিজ, সীতাকুণ্ড সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আশরাফুল করিম ঘটনাস্থলে গেছেন।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আশরাফুল করিম প্রথম আলোকে বলেন, বিদ্যুৎ ও পানির দাবিতে জঙ্গল সলিমপুরের বাসিন্দারা প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে রেখেছেন। বিষয়টি সমাধানে কর্তৃপক্ষ ও আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন তাঁরা। এখনো আন্দোলনকারীরা শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করছেন। যদি বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়, তখন ‘বল প্রয়োগ’ করা হবে।