মুক্তিযুদ্ধ অলিম্পিয়াডে বিজয়ী শিক্ষার্থীর হাতে পুরস্কার তুলে দেন অতিথিরা। আজ দুপুরে লক্ষ্মীপুর শহরের কলেজিয়েট উচ্চ বিদ্যালয়ে
মুক্তিযুদ্ধ অলিম্পিয়াডে বিজয়ী শিক্ষার্থীর হাতে পুরস্কার তুলে দেন অতিথিরা। আজ দুপুরে লক্ষ্মীপুর শহরের কলেজিয়েট উচ্চ বিদ্যালয়ে

লক্ষ্মীপুরে মুক্তিযুদ্ধ অলিম্পিয়াড

‘৩০ লাখ শহীদের আত্মত্যাগের কথা বারবার স্মরণ করতে হবে’

‘১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লাখ শহীদের আত্মত্যাগের কথা বারবার স্মরণ করতে হবে। সেই সঙ্গে একাত্তরের গৌরবময় ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা হৃদয়ে ধারণ করে, সেই আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে আমাদের সামনে এগিয়ে যেতে হবে।’

আজ বৃহস্পতিবার সকালে লক্ষ্মীপুর শহরের কলেজিয়েট উচ্চবিদ্যালয়ে ‘বন্ধুসভা মুক্তিযুদ্ধ অলিম্পিয়াড–২০২৬’ অনুষ্ঠানে বীর মুক্তিযোদ্ধারা এ কথা বলেন। প্রথম আলো বন্ধুসভা এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

‘মুক্তিযুদ্ধের আলোয় জাগ্রত তারুণ্য’ স্লোগানে নতুন প্রজন্মের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, চেতনা ও মূল্যবোধ ছড়িয়ে দিতে মার্চজুড়ে দেশব্যাপী মুক্তিযুদ্ধ অলিম্পিয়াডের আয়োজন করা হয়েছে।

প্রথম আলো লক্ষ্মীপুর বন্ধুসভার সভাপতি শাহজাহান কামালের সভাপতিত্বে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফাহাদ বিন বেলায়েতের সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, শিক্ষক, আইনজীবী ও মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তানেরা। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন প্রথম আলো লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি এ বি এম রিপন।

মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণা করেন লক্ষ্মীপুর সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ মাইন উদ্দিন পাঠান। তিনি বলেন, ‘আমাদের চিন্তাচেতনার বিকাশ ও মূল্যবোধের ভিত্তি গড়ে উঠেছে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে। এই যুদ্ধ শুধু একটি ভূখণ্ডের স্বাধীনতা এনে দেয়নি; বরং আমাদের আত্মপরিচয়, সাহস ও জাতিসত্তার দৃঢ় ভিত্তি নির্মাণ করেছে। কিন্তু দুঃখজনকভাবে রাষ্ট্রক্ষমতায় যাঁরা থাকেন, অনেক সময় তাঁরা নিজেদের সুবিধামতো ইতিহাসকে ব্যাখ্যা করতে চান। ফলে রাষ্ট্র বদলের সঙ্গে সঙ্গে ইতিহাসের উপস্থাপনাও বদলে যেতে থাকে, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বিভ্রান্তিকর হয়ে ওঠে।’

মাইন উদ্দিন পাঠান আরও বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধ আমাদের হাজার বছরের ইতিহাসের এক অনন্য গৌরবগাথা। এই চেতনাকে হৃদয়ে ধারণ করে, দেশপ্রেম ও মানবিক মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ হয়ে নতুন প্রজন্মকে দেশ গঠনে এগিয়ে আসতে হবে।’

কলেজিয়েট উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক খোদেজা খাতুন বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধ আমাদের জাতিসত্তার মূল ভিত্তি এবং আত্মমর্যাদার প্রতীক। ১৯৭১ সালে বাঙালির দীর্ঘদিনের বঞ্চনা, শোষণ ও অবিচারের বিরুদ্ধে যে সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে উঠেছিল, তা–ই রূপ নেয় এক সর্বাত্মক মুক্তির সংগ্রামে। এই যুদ্ধে সাধারণ মানুষ, কৃষক, শ্রমিক, ছাত্র—সবাই একত্র হয়ে অসাধারণ সাহসিকতা ও ত্যাগের নজির স্থাপন করেন।’

খোদেজা খাতুন আরও বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধ আমাদের শিখিয়েছে অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে, অধিকার আদায়ে ঐক্যবদ্ধ হতে এবং মানবিক মূল্যবোধকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে। তাই এই চেতনাকে ধারণ করে একটি বৈষম্যহীন, উন্নত ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তোলাই আমাদের অঙ্গীকার হওয়া উচিত।’

মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসভিত্তিক কুইজ প্রতিযোগিতায় মোট ৭৩ শিক্ষার্থী অংশ নেয়। প্রাথমিক বাছাই শেষে পাঁচ শিক্ষার্থীকে বিজয়ী হিসেবে নির্বাচিত করা হয়। প্রথম হয়েছে মান্দারী বহুমুখী উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নাঈমুর রহমান আসাদ, দ্বিতীয় লক্ষ্মীপুর আদর্শ সামাদ সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ের মো. আহনাফ তাজওয়ার, তৃতীয় লক্ষ্মীপুর সরকারি কলেজের আশরাফ আলী নাহিদ, চতুর্থ কামানখোলা অলিউল্লা মুসলিম পলিটেকনিক একাডেমির হাসিবুর রহমান ইফাত এবং পঞ্চম হয়েছে লক্ষ্মীপুর কলেজিয়েট উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মো. রাকিব হোসেন।

পরে বিজয়ী শিক্ষার্থীদের হাতে মুক্তিযুদ্ধের গল্পের বই উপহার দেওয়া হয়। এর আগে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের শুরু হয়।

আয়োজনটির সহযোগিতায় ছিলেন প্রথম আলো লক্ষ্মীপুর বন্ধুসভার সদস্যরা।