
নারায়ণগঞ্জের সদর নৌ পুলিশের সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) গভীর রাতে মাতলামি করেছেন। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। গতকাল শুক্রবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে নারায়ণগঞ্জের বন্দর ঘাটে এ ঘটনা ঘটে।
ওই এএসআইয়ের নাম আবদুল মান্নান। ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, তাঁর গায়ে পলো গেঞ্জি ও জিনস প্যান্ট পরা। সুর করে ‘জেল হবে না ফাঁসি হবে গো আমার; জেল হবে না ফাঁসি হবে গো আমার’ গাইতে গাইতে উঠে দাঁড়ান। একপর্যায়ে আব্দুল মান্নানকে নাচতে দেখা যায়। নিজের মানিব্যাগ থেকে মুঠোফোন ও টাকা ফেলে দিতে দেখা যায়। ঘাটের মানুষজনকে বলতে শোনা যায়, টোলের টাকা কেড়ে নিয়ে পানিতে ফেলে দিয়েছেন।
এএসআই আব্দুল মান্নান মানসিক রোগী বলে জানিয়েছেন তাঁর স্ত্রী। তাঁর মানসিক রোগের চিকিৎসার ব্যবস্থাপত্র সংগ্রহ করা হয়েছে। এই ঘটনার পর তাঁকে পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়েছে। এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তাঁর ডোপ টেস্ট করা হবে।মো. রকিবুজ্জামান, ওসি, নারায়ণগঞ্জ সদর নৌ পুলিশ
লোকজন আব্দুল মান্নানের কাছে পরিচয় জানতে চাইলে নিজের পরিচয় দেন। এমন মাতলামি করার কারণ জানতে চাইলে বলেন, স্ত্রী তাঁকে মেরেছেন। বিভিন্ন ধরনের মাদক গ্রহণ করেন বলেও তিনি জানান। ভিডিওতে পুলিশ সম্পর্কে বাজে মন্তব্য করতেও শোনা যায় আব্দুল মান্নানকে। জানান, তিনি পুলিশের চাকরি থেকে অব্যাহতি নিয়েছেন।
নারায়ণগঞ্জ সদর নৌ পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ২০ দিন আগে এএসআই আব্দুল মান্নান র্যাব-৩ থেকে সদর থানা নৌ পুলিশে যোগ দিয়েছেন। কিছুদিন ধরে তাঁর স্ত্রীর সঙ্গে ঝামেলা চলছে। স্ত্রীকে ভিডিও কলে রেখে আত্মহত্যা করতে চান। শুক্রবার রাতে শহরের ৫ নম্বর ঘাট এলাকায় মাতলামি করে ভাঙচুর করেন। তাঁর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ায় এ বিষয়টি পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে প্রথম আলোকে নারায়ণগঞ্জ সদর নৌ পুলিশের ওসি মো. রকিবুজ্জামান বলেন, এএসআই আব্দুল মান্নান মানসিক রোগী বলে জানিয়েছেন তাঁর স্ত্রী। তাঁর মানসিক রোগের চিকিৎসার ব্যবস্থাপত্র সংগ্রহ করা হয়েছে। এই ঘটনার পর তাঁকে পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়েছে। এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তাঁর ডোপ টেস্ট করা হবে।