
মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলায় পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। গতকাল মঙ্গলবার রাতে উপজেলার বরাইদ ইউনিয়নের গোপালপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আজ বুধবার সকালে সাটুরিয়া থানায় হত্যা মামলা করেছেন নিহত নারীর মা।
পুলিশ, নিহত গৃহবধূর পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় সাত বছর আগে সাটুরিয়ার গোপালপুর গ্রামের জব্বার আলীর মেয়ে মালেকা আক্তারের সঙ্গে একই গ্রামের শহীদ হোসেনের ছেলে ফেরদৌস হোসেনের বিয়ে হয়। প্রায় চার মাস আগে উপজেলার তিল্লী ইউনিয়নের এক নারীর সঙ্গে ফৌরদৌস পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন এবং বিয়ে করেন। এ নিয়ে প্রথম স্ত্রী মালেকার সঙ্গে ফেরদৌসের দাম্পত্য কলহের সৃষ্টি হয়। ফেরদৌস প্রায়ই মালেকাকে মারধর করতেন। একপর্যায়ে প্রথম স্ত্রীকে তালাক দেন তিনি।
এ ঘটনায় গ্রাম্য সালিসের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রথম স্ত্রীর বাবার বাড়ি থেকে ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা নিয়ে দ্বিতীয় স্ত্রীকে তালাক দিয়ে প্রথম স্ত্রী মালেকাকে আবারও বিয়ে করার কথা ছিল ফেরদৌসের। কিন্তু সেই টাকা নেওয়ার পর ফেরদৌস মালেকাকে আবারও বিয়ে করলেও দ্বিতীয় স্ত্রীকে তালাক দেননি। এ নিয়ে আবার মালেকার সঙ্গে ফেরদৌসের প্রতিনিয়ত ঝগড়া হয়। গতকাল রাত সাড়ে ১০টার দিকে মালেকা ও ফেরদৌসের মধ্যে ঝগড়ার সময় পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা মালেকার পেটে লাথি ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে লাঠি দিয়ে পেটাতে থাকেন। একপর্যায়ে মালেকা মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।
মালেকার বাবা জব্বার আলীর দাবি, দ্বিতীয় স্ত্রীর পরামর্শে ফেরদৌস তাঁর মেয়েকে হত্যা করেছেন। এ ঘটনায় ফেরদৌসের শাস্তি চান জব্বার আলী।
ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত ফেরদৌস পলাতক। তাঁর ব্যবহৃত মুঠোফোন নম্বরটি বন্ধ থাকায় অভিযোগের বিষয়ে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সাটুরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আশরাফুল আলম বলেন, পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূকে পিটিয়ে হত্যার খবর পেয়ে রাতেই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। পরে নিহত নারীর লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জেলা সদরের ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় নিহত নারীর মা জীবননেছা বেগম বাদী হয়ে ফেরদৌসকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা করেছেন। আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।