
সিলেটের জৈন্তাপুরে ‘নীল নদ’ খ্যাত সারি নদে চোরাবালিতে তলিয়ে গিয়ে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। মারা যাওয়া মো. মুসআব আমীন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০২২-২৩ সেশনের ছাত্র।
মুসআব গাজীপুর জেলার কালিয়াকৈর উপজেলার সকিপুর গ্রামের মো. শহিদুর রহমানের ছেলে। মুসআব শাকসু নির্বাচনে সৈয়দ মুজতবা আলী হল সংসদে সদস্যপদে প্রার্থী ছিলেন।
আজ শুক্রবার বেলা একটার দিকে জৈন্তাপুরের সারি নদের সাহেবমারা এলাকায় চোরাবালিতে তলিয়ে নিখোঁজ হয়েছিলেন মুসআব। পরে বিকেল চারটার দিকে ডুবুরি দলের প্রচেষ্টায় তাঁর লাশ উদ্ধার করা হয়।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, জৈন্তাপুরের সারি নদে শুক্রবার সকালের দিকে বন্ধুদের সঙ্গে বেড়াতে গিয়েছিলেন মুসআব আমীন। দুপুরের দিকে সারি নদের সাহেবমারা এলাকায় বন্ধুদের সঙ্গে নদের পানিতে গোসলে নেমেছিলেন তিনি। এ সময় নদের পানির নিচে চোরাবালিতে তলিয়ে যান। তাৎক্ষণিকভাবে সঙ্গে থাকা বন্ধুরা মুসআবকে খোঁজাখুঁজি করে তাঁকে পাচ্ছিলেন না।
সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে জৈন্তাপুর উপজেলা ফায়ার সার্ভিস ও জৈন্তাপুর থানা–পুলিশের সদস্যরা যান। পরে প্রায় তিন ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতায় ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল পানিতে নেমে বিকেল চারটার দিকে নিখোঁজ মুসআবকে উদ্ধার করা হয়। পরে জৈন্তাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
মুসআবের সঙ্গে ঘুরতে গিয়েছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকর্ম বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আসিফুর রহমান। প্রথম আলোকে তিনি বলেন, ‘আমরা কয়েকজন সিলেটের লালাখাল ঘুরতে গিয়েছিলাম। সেখানকার জিরোপয়েন্ট এলাকায় বেলা একটার দিকে নদীতে গোসল করতে নামি সবাই। ১০ মিনিট পর মুসআবকে তখন আমরা খুঁজে পাচ্ছিলাম না। তারপর আমরা খোঁজাখুজি শুরু করি। পুলিশকে খবর দেই। পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল এসে মৃতদেহ উদ্ধার করে।’
এ তথ্য নিশ্চিত করে জৈন্তাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান মোল্লা বলেন, মরদেহ জৈন্তাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মোখলেসুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, পুলিশ সুরতহালের একটি প্রতিবদেন তৈরি করবেন। এরপর লাশ ময়নাতদন্তের জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হবে। ইতোমধ্যে ছাত্রের পরিবারকে খবর দেওয়া হয়েছে। তারা আসতেছেন। ময়নাতদন্তের না করার জন্য হয়তো পরিবারের সদস্যরা সিদ্ধান্ত নিবেন।