গাজীপুর সাফারি পার্কে ‘সম্রাট’ ও ‘নিহারকলি’ নামের হাতি দুটি ফিরিয়ে আনা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার সকালে ‘নিহারকলি’কে ট্রাক থেকে নামানো হয়
গাজীপুর সাফারি পার্কে ‘সম্রাট’ ও ‘নিহারকলি’ নামের হাতি দুটি ফিরিয়ে আনা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার সকালে ‘নিহারকলি’কে ট্রাক থেকে নামানো হয়

জিম্মার শর্ত ভঙ্গ, ১২ দিনের মাথায় সাফারি পার্কে ফিরল ‘সম্রাট’ ও ‘নিহারকলি’

চাঁদা তোলার কাজে ব্যবহার না করাসহ বিভিন্ন শর্তসাপেক্ষে গাজীপুর সাফারি পার্কে থাকা ‘সম্রাট’ ও ‘নিহারকলি’ নামের দুটি হাতিকে দেখভালকারীদের জিম্মায় দিয়েছিল বন বিভাগ। তবে জিম্মার শর্ত ভঙ্গ করার অভিযোগে মাত্র ১২ দিনের মাথায় হাতি দুটিকে আবার সাফারি পার্কে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টুর নির্দেশে গতকাল সোমবার অভিযান চালিয়ে হাতি দুটিকে উদ্ধার করেন বন বিভাগের কর্মকর্তারা।

আজ মঙ্গলবার ভোর ৪টার দিকে নিহারকলি ও সকাল ১০টায় সম্রাটকে দুটি খোলা ট্রাকে গাজীপুরের শ্রীপুরে অবস্থিত সাফারি পার্কে নেওয়া হয়। পরে সাফারি পার্কের বন্য প্রাণী চিকিৎসক হাতেম সাজ্জাত মো. জুলকার নাইনসহ অন্যান্য চিকিৎসকেরা হাতি দুটির স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেন।

বিভিন্ন অভিযোগে দুই বছর আগে হাতি দুটি উদ্ধার করে পুনর্বাসনের জন্য গাজীপুর সাফারি পার্কে রেখেছিল বন বিভাগ। গত ৬ ও ৭ আগস্ট পার্কে পরপর দুটি হাতি মারা গেলে সম্রাট ও নিহারকলিকে শর্তসাপেক্ষে তড়িঘড়ি করে দেখভালকারীদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করে সাফারি পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তারেক রহমান প্রথম আলোকে বলেন, হাতি দুটিকে আনার পর বন বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হচ্ছে। এরপর গোসল করিয়ে তাদের নির্দিষ্ট জায়গায় রাখা হবে।

এর আগে গতকাল বন মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ১২ আগস্ট গাজীপুর সাফারি পার্ক কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে হাতি দুটি পৃথক দুই ব্যক্তির জিম্মায় দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তারা নির্ধারিত শর্ত ভেঙেছেন বলে মন্ত্রীর নজরে আসে। এরপর তিনি হাতি দুটির নিরাপত্তা, সুরক্ষা ও কল্যাণ নিশ্চিতে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিলে গতকাল অভিযান চালিয়ে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ থেকে নিহারকলিকে ও জুড়ী উপজেলার শিলুয়া চা-বাগানসংলগ্ন এলাকা থেকে সম্রাট বাহাদুরকে বন বিভাগের হেফাজতে নেওয়া হয়।

হাতি দুটি হস্তান্তরের সময় দেখভালকারীদের কাছ থেকে মুচলেকা নেওয়া হয়েছিল। শর্ত ছিল হাতি যেন নির্যাতনের শিকার না হয়, কষ্ট দেওয়া না হয়, তাকে দিয়ে যেন চাঁদাবাজি করানো না হয়। কিন্তু দেখভালকারীরা সেই শর্ত ভঙ্গ করেছেন।
মো. ছানাউল্যা পাটওয়ারী, বন সংরক্ষক, ঢাকা বন্য প্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ

প্রধান বন সংরক্ষক মো. আমীর হোসাইন চৌধুরী জানান, মন্ত্রীর নির্দেশনা পাওয়ার পর তাঁরা দ্রুত কাজ শুরু করেন। মন্ত্রী মঙ্গোলিয়ায় সিওপি-১৭ সম্মেলনে থাকলেও তিনি নিয়মিত এ ব্যাপারে খোঁজখবর রাখছিলেন।

২০২৪ সালের আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসে চাঁদা তোলার কাজে ব্যবহার, নির্যাতনসহ বিভিন্ন অভিযোগে গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া ও নারায়ণগঞ্জের ভুলতা এলাকা থেকে হাতি দুটি উদ্ধার করে বন বিভাগ। পরে পুনর্বাসনের জন্য তাদের গাজীপুর সাফারি পার্কে রাখা হয়েছিল। ৬ ও ৭ আগস্ট পার্কে পরপর দুটি হাতি মারা গেলে সম্রাট ও নিহারকলিকে তড়িঘড়ি করে দেখভালকারীদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। এ সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন বন্য প্রাণী বিশেষজ্ঞরা। এ নিয়ে ১৯ আগস্ট প্রথম আলোতে ‘চাঁদা তোলা ও নির্যাতনের অভিযোগে উদ্ধার দুটি হাতি দেখভালকারীদের ফিরিয়ে দিল বন বিভাগ’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।

গাজীপুর সাফারি পার্কে ‘সম্রাট’ ও ‘নিহারকলি’ নামের হাতি দুটি ফিরিয়ে আনা হয়েছে। আজ সকালে

বন্য প্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের ঢাকার বন সংরক্ষক মো. ছানাউল্যা পাটওয়ারী বলেন, হাতি দুটি হস্তান্তরের সময় দেখভালকারীদের কাছ থেকে মুচলেকা নেওয়া হয়েছিল। শর্ত ছিল হাতি যেন নির্যাতনের শিকার না হয়, কষ্ট দেওয়া না হয়, তাকে দিয়ে যেন চাঁদাবাজি করানো না হয়। কিন্তু দেখভালকারীরা সেই শর্ত ভঙ্গ করেছেন। এ জন্য হাতি দুটি ফিরিয়ে আনা হয়েছে।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে সম্রাট হাতির দেখভালকারী মনির মিয়া প্রথম আলোকে বলেন, বন বিভাগ চাওয়া মাত্র হাতি ফিরিয়ে দেওয়ার বিধান আছে। তারা হাতি ফেরত চেয়েছে, তিনি সঙ্গে সঙ্গে দিয়ে দিয়েছেন। তিনি কোনো শর্ত ভঙ্গ করেননি।

এদিকে হাতি দুটি ফিরিয়ে আনার পর সেগুলোর দেখভালে আবাসন ও লোকবল সংকটের কথা জানিয়েছেন সাফারি পার্কের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

গাজীপুর সাফারি পার্কের প্রকল্প পরিচালক এবং বন্য প্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের ঢাকা বিভাগীয় বন কর্মকর্তা ইকবাল হোসাইন চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, মাহুত পর্যাপ্ত নেই, যা আছে তা দিয়েই কোনোমতে কাজ চালিয়ে নেওয়া হচ্ছে। পুরোনো অবকাঠামোর সংস্কার দরকার বলে তিনি জানান। তিনি বলেন, নতুন অবকাঠামো বেশিসংখ্যক হাতির জন্য পর্যাপ্ত নয়। তাঁরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে জানিয়েছেন।