দেশের বিভিন্ন স্থানে আজ বুধবার বজ্রপাতে ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে নাটোরের লালপুর উপজেলায় একজন, জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলায় একজন, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলায় একজন, সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলায় একজন এবং ময়মনসিংহের নান্দাইল ও ফুলপুর উপজেলায় দুই জন মারা গেছেন। তাঁরা ছয়জনই কৃষক।
লালপুর উপজেলার বিলমাড়িয়া ইউনিয়নের নওসারা সুলতানপুর চরে বজ্রপাতে কৃষক আজিজ মণ্ডলের (৫০) মৃত্যু হয়েছে। আজ বেলা সাড়ে তিনটার দিকে পদ্মার এই চরে ফসলের জমিতে কাজ করার সময় বজ্রপাত হয়। নিহত আজিজ মণ্ডল একই উপজেলার নওসারা সুলতানপুর গ্রামের মসলেম মণ্ডলের ছেলে।
লালপুর থানা সূত্রে জানা গেছে, আজ সকাল থেকে সুলতানপুর চরে ফসলের জমিতে কাজ করছিলেন আজিজ মণ্ডল। বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে হঠাৎ বজ্রপাতে তাঁর শরীরের কিছু অংশ পুড়ে যায়। এ সময় আশপাশে থাকা লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে লালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পথে তাঁর মৃত্যু হয়।
লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম বলেন, বজ্রপাতে আজিজ মণ্ডলের মৃত্যু হয়েছে। এ ব্যাপারে কারও কোনো অভিযোগ না থাকায় নিহত আজিজের স্বজনদের লাশ দাফনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
দেওয়ানগঞ্জ উপজেলায় ফসলের মাঠে ভুট্টা তোলার সময় বজ্রপাতে সোহেল মিয়া (৩০) নামের এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। আজ বিকেল ৪টার দিকে উপজেলার বাহাদুরাবাদ ইউনিয়নের নাজিরপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। সোহেল মিয়া ওই এলাকার শুকুর মাহমুদের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোহেল মিয়া প্রতিদিনের মতো আজও কৃষিকাজ করতে মাঠে যান। নিজ খেতে ভুট্টা তোলার কাজে ব্যস্ত ছিলেন। বিকেলে বজ্রসহ বৃষ্টি শুরু হয়। এরপরও তিনি বৃষ্টির মধ্যেই কাজ করছিলেন। এ সময় বজ্রপাত হলে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। স্থানীয় লোকজন তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে যান। দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহ জহুরুল হোসেন বজ্রপাতে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
নাগেশ্বরী উপজেলায় ধান কাটতে গিয়ে বজ্রপাতে মো. ওবাইদুল (৩৫) নামের এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। আজ দুপুরে উপজেলার বদিজামালপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত ওবাইদুল ওই গ্রামের মো. আবদুল হকের ছেলে। নাগেশ্বরী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল্লাহ হীল জামান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, আজ দুপুরে ওবাইদুল নিজ জমিতে ধান কাটতে যান। এ সময় হঠাৎ আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হয়ে বজ্রসহ বৃষ্টি শুরু হয়। একপর্যায়ে বজ্রপাত হলে তিনি গুরুতর আহত হয়ে ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়েন। পরে স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
নাগেশ্বরী থানার ওসি আব্দুল্লাহ হীল জামান বলেন, ধান কাটার সময় বজ্রপাতে ওই কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হবে।
নান্দাইল উপজেলায় বোরো ধান কাটতে গিয়ে বজ্রপাতে আবদুর রশিদ (৫৫) নামের এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। আজ বেলা তিনটার দিকে উপজেলার খারুয়া ইউনিয়নের রাজাবাড়িয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আবদুর রশিদ একই গ্রামের মৃত চান্দু মিয়ার ছেলে।
পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, আবদুর রশিদ বাড়ির পাশে বোরো খেতের ধান কাটতে যান। হঠাৎ বৃষ্টি শুরু হয়। এ সময় আকস্মিক বজ্রপাতে তিনি গুরুতর আহত হন। স্থানীয় লোকজন দ্রুত উদ্ধার করে নান্দাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
নান্দাইল মডেল থানার ওসি আজহারুল ইসলাম বলেন, বজ্রপাতে কৃষকের মৃত্যুর খবর পেয়ে এলাকায় পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
এদিকে ফুলপুরে বজ্রপাতে নিহত কৃষকের নাম আব্দুল কুদ্দুস (৪০)। তাঁর বাড়ি উপজেলার সিংহেশ্বর ইউনিয়নের কুঠুরাকান্দা খামারবাড়ি এলাকায়। আজ বিকেল সাড়ে চারটার দিকে বাড়ির কাছে মাঠে ধান কাটার সময় বজ্রপাতে তাঁর মৃত্যু হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আব্দুল কুদ্দুস বাড়ির কাছে মইশাপুরি বিলে ধান কাটছিলেন। তিনিসহ সেখানে সাতজন ছিলেন। বিকেল সাড়ে চারটার দিকে বৃষ্টি ও বজ্রপাত শুরু হয়। এ সময় পাঁচ শ্রমিক জমি থেকে নিরাপদ দূরত্বে সরে যান। তবে আবদুল কুদ্দুস ও তাঁর ছেলে আবদুল মালেক ধান কাটছিলেন। এ সময় বজ্রপাতে ফসলের মাঠেই ছেলের সামনে আবদুল কুদ্দুসের মৃত্যু হয়। পরে পরিবারের লোকজন মরদেহ উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে যান।
ফুলপুর থানার ওসি ফিরোজ হোসেন বলেন, বজ্রপাতে ছেলের সামনেই বাবার মৃত্যু হয়েছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ গিয়েছে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা নেওয়া হচ্ছে।
সিরাজগঞ্জ
উল্লাপাড়ার উপজেলার বড়পাঙ্গাসী ইউনিয়নের রাহুলিয়া গ্রামে আজ বিকেল চারটার দিকে বজ্রপাতে আবদুস সামাদ খদগীর (৬৫) নামের এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। তিনি ওই গ্রামের মাহাম খদগীরের ছেলে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আবদুস সামাদ রাহুলিয়া কবরস্থান পরিচালনা কমিটির সদস্য ছিলেন। কবরস্থানের উন্নয়নকাজ চলছিল। উন্নয়নকাজ তদারক করতে বিকেল চারটার দিকে তিনি ওই কবরস্থানে গিয়েছিলেন। এমন সময় গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির সঙ্গে বিকট শব্দে বজ্রপাত হয়। তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন এবং ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।
উল্লাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রায়হানুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ তহবিল থেকে সহায়তা করার জন্য আবেদন পাঠানো হয়েছে। বিধি মোতাবেক তাঁর পরিবারকে সহায়তা করা হবে।