ঠাকুরগাঁওয়ে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর মধ্যে চীনা দূতাবাসের সৌজন্যে শিক্ষাসামগ্রী বিতরণ করা হয়। আজ শুক্রবার জেলার শহীদ মোহাম্মদ আলী স্টেডিয়ামে
ঠাকুরগাঁওয়ে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর মধ্যে চীনা দূতাবাসের সৌজন্যে শিক্ষাসামগ্রী বিতরণ করা হয়। আজ শুক্রবার জেলার শহীদ মোহাম্মদ আলী স্টেডিয়ামে

ঠাকুরগাঁওয়ে চীনা বিনিয়োগ চান মির্জা ফখরুল, অঙ্গীকার করলেন রাষ্ট্রদূত

বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বাংলাদেশের উন্নয়নে চীন বিভিন্নভাবে সমর্থন দিয়ে আসছে। ঠাকুরগাঁওয়ে শিল্পকারখানা গড়ে তুলতে তিনি চীনের সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন।

আজ শুক্রবার ঠাকুরগাঁওয়ের শহীদ মোহাম্মদ আলী স্টেডিয়ামে স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে শিক্ষাসামগ্রী বিতরণ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথাগুলো বলেন। চীনা দূতাবাসের উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে ৬ হাজার ৫০০ শিক্ষার্থীর মধ্যে স্কুলব্যাগ, কলম, রং পেনসিল, খাতাসহ বিভিন্ন শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করা হয়।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন, চীনা দূতাবাসের কর্মকর্তারা, জেলা প্রশাসনের প্রতিনিধিরা এবং বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকেরা উপস্থিত ছিলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘চীনের রাষ্ট্রদূত আমার ব্যক্তিগত বন্ধু। আমাদের সম্পর্ক বেশ ঘনিষ্ঠ। আমি ইতিমধ্যে দুবার চীন সফরে গিয়েছি। চীন প্রতিদিন বদলায়, প্রতিদিন উন্নত হয়। আর সারা পৃথিবীতে চীন একটা শক্তিশালী দেশে পরিণত হয়েছে। বাংলাদেশ উন্নয়নে চীন আমাদের সমর্থন দিচ্ছে। আমাদের রাস্তা-ঘাট, ব্রিজ-কালভার্ট, ইউনিভার্সিটি বানাতে সমর্থন দিচ্ছে। সে কারণে আমি তাঁকে (ইয়াও ওয়েন) এখানে দাওয়াত দিয়ে এনেছি। তাঁকে দিয়ে আমি ঠাকুরগাঁওয়ে কিছু কাজ করাতে চাই। এখানে শিল্পকারখানা করতে চাই। তিনি কথা দিয়েছেন আগামী দুই-তিন মাসের মধ্যে এখানে চীনের প্রতিনিধিদল পাঠাবেন। যাঁরা এই অঞ্চলে আমাদের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে শিল্পকারখানা তৈরির উদ্যোগ নেবেন।’

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আজ শুক্রবার ঠাকুরগাঁওয়ের শহীদ মোহাম্মদ আলী স্টেডিয়ামে

স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের প্রধানমন্ত্রী শিশুদের জন্য কাজ করতে চান। এর জন্য তিনি কতগুলো কাজ হাতে নিয়েছেন। শিশুদের ভালোভাবে লেখাপড়া করাতে চান, তাদের উন্নত করতে চান। এ জন্য তিনি কিছু উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। শিক্ষার্থীদের পোশাকসহ শিক্ষাসামগ্রী, কেডস ফ্রিতে বিতরণ করার উদ্যোগ নিয়েছেন। সেই সঙ্গে শিশুরা যাতে প্রতিযোগিতা করে টিকে থাকতে পারে, সেই প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন।’ বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনারা স্কুলের শিশুদের সেইভাবে তৈরি করবেন, যেন তাঁরা বড় হয়ে দেশের জন্য কাজ করতে পারে। দেশের সম্পদ হতে পারে। আমাদের সব সময় মনে রাখতে হবে, আমাদের নিজের পায়ে দাঁড়াতে হবে। তাহলেই আমরা সামনের দিকে এগিয়ে যেতে পারব।’

এর আগে চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেন, ‘এখানে আসার পথে অনেক জমি দেখেছি। ভবিষ্যতে এখানে বিনিয়োগের কথা ভাবছি। আমি অঙ্গীকার করছি, জুলাই-আগস্টের মধ্যে এখানে চীনের একটা এন্টারপ্রাইজ দল আসবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমি দেখলাম এখানের ছোট ছেলেরা ইংরেজিতে ভালোভাবে কথা বলছে। আমি আশা করছি তারা চীনের ভাষাতেও ভালোভাবে বক্তব্য দিতে পারবে। চলতি বছর বা আগামী বছর এখানকার ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়ে চীনে একটা সফরের ব্যবস্থা করব। সবাই চীনে সফর করার সুযোগ পাবেন। আপনারা সবাই চীন-বাংলাদেশের বন্ধুত্বের সমর্থন দেবেন।’