আটকে পড়া শিশুকে উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যদের তৎপরতা
আটকে পড়া শিশুকে উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যদের তৎপরতা

খেলতে গিয়ে কক্ষের ছিটকিনি দিয়ে আটকা দুই বছরের শিশু, উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিস

মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখানে বাসার একটি কক্ষে খেলতে গিয়ে ভেতর থেকে ছিটকিনি লাগিয়ে দেয় দুই বছরের শিশু আবদুল্লাহ। আটকা পড়ে সে কান্না শুরু করলে দরজা খোলার চেষ্টা করেন মা-বাবা ও স্থানীয় লোকজন। ব্যর্থ হয়ে শেষ পর্যন্ত খবর দেওয়া হয় ফায়ার সার্ভিসে। পরে ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকারী দল দরজা খুলে আবদুল্লাহকে উদ্ধার করে।

আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে সিরাজদিখানে উপজেলার দানিয়াপাড়া গ্রামের একটি তিনতলা ভবনের দ্বিতীয় তলায় এ ঘটনা ঘটে। আবদুল্লাহ ওই গ্রামের এনায়েত মোল্লার ছেলে।

মুন্সিগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক মুহাম্মদ সফিকুল ইসলাম বলেন, সকালে বাড়ির একটি কক্ষে একা একা খেলছিল আবদুল্লাহ। অন্য কক্ষে সাংসারিক কাজে ব্যস্ত ছিলেন আবদুল্লাহর মা–বাবা। খেলার সময় ওই কক্ষের ছিটকিনি আটকে দেয় আবদুল্লাহ। পরে তাঁর কান্না শুনে দরজা খোলার চেষ্টা করেন মা–বাবা। স্থানীয় লোকজনও তাঁদের সঙ্গে যোগ দেন। তবে দীর্ঘ চেষ্টা করেও দরজা খুলতে না পেরে তাঁরা ফায়ার সার্ভিসে খবর দেন।

শিশুটিকে কক্ষ থেকে উদ্ধার করছেন ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা

খবর পেয়ে সিরাজদিখান ফায়ার স্টেশনের একটি উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পরে উদ্ধার সরঞ্জাম ব্যবহার করে কক্ষের দরজা খুলে শিশুটিকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। ওই সময়ও শিশুটি ভয়ে কান্না করছিল।

শিশুটির বাবা এনায়েত মোল্লা বলেন, ‘আমার পাঁচ বছর বয়সী মেয়ে ও ছেলে আবদুল্লাহ একসঙ্গে রুমের মধ্যে খেলছিল। এর আগে কখনো এমন ঘটনা ঘটেনি। আমরা পাশের কক্ষে নিজেদের কাজকর্ম করছিলাম। আমার মেয়ে রুম থেকে বের হওয়ার পর বুঝতে পারি, আবদুল্লাহ ভেতর থেকে ছিটকিনি লাগিয়ে ফেলেছে।’

উদ্ধার হওয়ার পর বাবা এনায়েত মোল্লার কোলে আবদুল্লাহ

এরপর নানাভাবে ছিটকিনি খোলার চেষ্টা করেন বলে জানান আবদুল্লাহর বাবা। তিনি বলেন, কিন্তু কোনোভাবেই খুলতে পারছিলাম না। এদিকে আবদুল্লাহ ভয় পেয়ে অনেক কান্নাকাটি করছিল। আমরা তাকে বিভিন্নভাবে দরজা খোলার চেষ্টা করতে বলি। এভাবে প্রায় আধা ঘণ্টা চলে যায়। পরে যখন দেখলাম কোনোভাবেই দরজা খোলা সম্ভব হচ্ছে না, তখন ফায়ার সার্ভিসকে খবর দিই।

এনায়েত মোল্লা বলেন, ফায়ার সার্ভিসের লোকজন এসে দ্রুত সময়ের মধ্যে দরজা খুলে আবদুল্লাহকে উদ্ধার করে আমাদের কাছে তুলে দেন। এ ঘটনায় সে খুব ভয় পেয়েছে।