সিলেট শহরের উত্তর দিকে একটি উঁচু টিলার ওপর শাহি ঈদগাহের অবস্থান
সিলেট শহরের উত্তর দিকে একটি উঁচু টিলার ওপর শাহি ঈদগাহের অবস্থান

সোয়া তিন শ বছর ধরে ঈদের জামাত হয়ে আসছে যে ঈদগাহে

সিলেট শহরের উত্তর দিকে একটি উঁচু টিলার ওপর শাহি ঈদগাহের অবস্থান। গবেষকদের তথ্য অনুযায়ী, সোয়া তিন শ বছর আগে সম্রাট আওরঙ্গজেবের আমলে ১৭০০ সালের দিকে এই ঈদগাহ স্থাপিত হয়েছে। এর পর থেকে প্রতিবছরই এখানে পবিত্র ঈদুল ফিতর ও পবিত্র ঈদুল আজহার জামাত অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। বর্তমানে লাখো মুসল্লি এখানে ঈদের নামাজ আদায় করেন।

বাংলাদেশের প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী স্থাপনার মধ্যে সিলেটের শাহি ঈদগাহকেও বিবেচনা করা হয়। এখানেই সিলেটের প্রধান ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়।

উঁচু টিলার ওপর শাহি ঈদগাহের অবস্থান। মূল ভূখণ্ডে কারুকার্যখচিত ২২টি বৃহৎ সিঁড়ি আছে। সিঁড়ি মাড়িয়ে ওপরে উঠলে ১৫টি গম্বুজ সজ্জিত ঈদগাহ দেখা যায়।

পরিবেশ ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ ট্রাস্ট সিলেটের সাধারণ সম্পাদক আবদুল করিম চৌধুরী (কিম) বলেন, মোগল স্থাপত্যরীতির এই ঈদগাহ সিলেট নগরে টিকে থাকা এক ঐতিহাসিক স্থাপনা। দুই ঈদে এখানে প্রায় দুই লাখ মুসল্লি একসঙ্গে ঈদের নামাজ আদায় করেন। অতীতে সিলেটের বড় বড় রাজনৈতিক সমাবেশে এখানে মহাত্মা গান্ধী, মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ, ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের সাবেক প্রেসিডেন্ট মাওলানা মুহাম্মদ আলী জওহর, পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, অবিভক্ত বাংলার সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হকের মতো নেতারা এসেছেন। ফলে স্থানটির ঐতিহাসিক গুরুত্বও অনেক।

সরেজমিনে দেখা গেছে, গাছপালায় ঘেরা ঈদগাহের ভেতরে পূর্ব দিকে মুসল্লিদের অজু করার জন্য একটি দৃষ্টিনন্দন পুকুর আছে। এটি পানিতে টইটম্বুর। এ ছাড়া ঈদগাহের ভেতরে আছে অসংখ্য গাছ। পুরো ঈদগাহ ময়দানটিতে লোহার বেষ্টনী দেওয়া। আছে দৃষ্টিনন্দন তিনটি ফটক। এসব ফটক দিয়ে মানুষজন ঈদগাহের ভেতরে যাতায়াত করেন।

সিলেটের শাহি ঈদগাহের মোতোয়ালি হিসেবে আছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। সিলেট সিটি করপোরেশনের সাবেক এই মেয়র প্রথম আলোকে বলেন, প্রতিবারের মতো এবারও সিলেটের প্রধান ঈদ জামাত শাহি ঈদগাহ ময়দানে অনুষ্ঠিত হবে। সে অনুযায়ী সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। এরই মধ্যে ঈদগাহে নতুন রং লাগানো ও পরিচ্ছন্নতার কাজ শেষ হয়েছে। সকাল সাড়ে আটটায় ঈদুল ফিতরের প্রধান জামাত এই ঈদগাহে অনুষ্ঠিত হবে।