ঝালকাঠিতে ১৩ মাসের কন্যাসন্তানের লাশ নিয়ে মানববন্ধনে দাঁড়িয়ে বিচার চেয়েছেন এক মা। শিশুটির বাবাকে মৃত্যুর জন্য দায়ী করে তাঁর বিচার চান তিনি। আজ সোমবার দুপুরে সদর উপজেলার পূর্ব ভাউতিতা গ্রামের একটি সড়কে এ মানববন্ধন হয়। মানববন্ধনে শিশুটির মা ও তাঁর পরিবারসহ স্থানীয়রা উপস্থিত ছিলেন।
শিশুটির মা বলেন, ‘২০২১ সালে পূর্ব ভাউতিতা গ্রামের হৃদয় ব্যাপারীর সঙ্গে আমার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে আমি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ি। ২০২৫ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আমি কন্যাসন্তানের জন্ম দেই। সে সময় হাসপাতালে হৃদয়সহ তাঁর মামা রফিক হাওলাদার ও নানা মান্নান হাওলাদার ছিলেন। তাঁরা হাসপাতাল থেকে বাড়িতে ফেরার পর আনুষ্ঠানিকভাবে আমার সঙ্গে হৃদয়ের বিয়ের প্রতিশ্রুতি দেন। তিন দিন পর ১৯ ফেব্রুয়ারি হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফেরার পথে কৌশলে নবজাতককে নিয়ে পালিয়ে যান হৃদয় ও তাঁর স্বজনেরা। পরে তাঁরা নবজাতককে রাস্তার পাশে ফেলে রেখে চলে যান। সেখান থেকে এক ভিক্ষুক নবজাতককে উদ্ধার করে একটি চাইল্ড হোমে পাঠান। সেখানে বেড়ে ওঠে ওই নবজাতক। ঘটনার তিন মাস পর আমি ও আমার পরিবার বিষয়টি জানতে পারি। আমরা শিশুটির ডিএনএ পরীক্ষাসহ অন্যান্য আইনি প্রক্রিয়া শেষে চলতি বছরের ৯ মার্চ শিশুটিকে অসুস্থ অবস্থায় বাড়িতে নিয়ে আসি। পরদিন শিশুটিকে বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ সোমবার সকালে তার মৃত্যু হয়।’
এদিকে ৯ মার্চ শিশুটির মা তাঁকে ধর্ষণের অভিযোগে হৃদয় ব্যাপারীসহ তিনজনের বিরুদ্ধে ঝালকাঠি সদর থানায় একটি মামলা করেন। অভিযুক্ত হৃদয় ব্যাপারী পলাতক। তবে তাঁর বাবা আবুল ব্যাপারী ছেলের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এ ঘটনা সম্পূর্ণ মিথ্যা।
ঝালকাঠি সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইমতিয়াজ আহম্মেদ বলেন, ধর্ষণের অভিযোগে একটি মামলা হয়েছে। আসামিরা পলাতক। গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।