চরভদ্রাসন আ.লীগ কার্যালয় জাফরউল্যাহর সমর্থকদের নিয়ন্ত্রণে

দুই বছর পর মঙ্গলবার চরভদ্রাসন উপজেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয় নিয়ন্ত্রণে নেন কাজী জাফর উল্লাহর সমর্থকেরা
ছবি: প্রথম আলো

দুই বছর পর ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয় নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছেন দলের কেন্দ্রীয় সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কাজী জাফরউল্যাহর সমর্থকেরা। আজ মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে তালা ভেঙে কার্যালয়টি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেন তাঁরা।

এরপর বিকেল পাঁচটার দিকে ওই কার্যালয়ে কেক কেটে শেখ রাসেলের জন্মদিন উদ্‌যাপন করেন উপজেলা আওয়ামী লীগের একাংশের নেতারা। ওই সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক শেখ ইসাহাক মিয়া, যুগ্ম আহ্বায়ক মোশাররফ হোসেন, আহসানুল হক ওরফে মামুন ও বেলায়েত হোসেন।

উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়টি চরভদ্রাসন পাইলট উচ্চবিদ্যালয়ের পাশে অবস্থিত। ২০১২ সালে উপজেলা আওয়ামী লীগের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক মো. কাউসার ৫ শতাংশ জমি কার্যালয়ের নামে দলিল করে দেন। পরে ওই জমিতে দোতলা ভবনটি নির্মাণ করা হয়।

২০১৪ সালে ভাঙ্গা, সদরপুর ও চরভদ্রাসন উপজেলা নিয়ে গঠিত ফরিদপুর-৪ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন মজিবর রহমান চৌধুরী ওরফে নিক্সন। পরে তিনি যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য পদ পান। এ সংসদীয় এলাকার অন্য দুটি উপজেলার মতো চরভদ্রাসনেও দল দুই ভাগে (মজিবর রহমানপন্থী ও কাজী জাফরউল্যাহপন্থী) বিভক্ত। ২০২০ সালের নভেম্বরে তৎকালীন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. কাউসার চলে যান মজিবর রহমানের পক্ষে। এরপর থেকে উপজেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয় মজিবর রহমানপন্থীদের নিয়ন্ত্রণে ছিল।

গত ৩০ মার্চ চরভদ্রাসন উপজেলা আওয়ামী লীগের আগের কমিটি বিলুপ্ত করে পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটির অনুমোদন দেয় জেলা আওয়ামী লীগ। ওই কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক আহসানুল হক ওরফে মামুন আজ কার্যালয়ে প্রবেশের সময় উপস্থিত ছিলেন।

তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘কাউসার বহু দিন ধরে আওয়ামী লীগে নেই। তিনি কার্যালয়টি জবরদখল করে রেখেছিলেন। আমরা ভবনটি দখলমুক্ত করার জন্য জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও জেলা আওয়ামী লীগ নেতাদের চিঠি দিই। এরপর জেলা আওয়ামী লীগ জানায়, দলের সব কার্যক্রম দলীয় কার্যালয়ে করতে হবে। সেই অনুযায়ী আমরা ওই ভবনে ঢুকে শেখ রাসেলের জন্মদিনের কর্মসূচি উদ্‌যাপন করেছি। ভবনটি আমাদের নিজেদের হেফাজতে নিয়েছি।’

জানতে চাইলে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. কাউসার বলেন, এটি উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়। সভাপতি বা সম্পাদকের কার্যালয় নয়। আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের যে কেউ ওই অফিস ব্যবহার করতে পারেন। এটিকে দখল বা পাল্টাদখলের কোনো বিষয় নেই।

নিজেকে এখনো উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক দাবি করে কাউসার বলেন, ‘আমাদের কমিটি ভেঙে দেওয়া হয়েছে বা আমাদের বাদ দেওয়া হয়েছে, এ–জাতীয় কোনো চিঠি আমরা কেন্দ্র থেকে পাইনি। পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট যে আহ্বায়ক কমিটির কথা বলা হচ্ছে, তা কখন, কোথায়, কীভাবে গঠিত হয়েছে তা–ও আমার জানা নেই।’