
চট্টগ্রাম থেকে সিলেটগামী পাহাড়িকা এক্সপ্রেস ট্রেন ছাড়ার কথা ছিল সকাল ৭টা ৫০ মিনিটে। কিন্তু ট্রেনটি ছাড়ে এক ঘণ্টা দেরিতে। ট্রেনের অপেক্ষায় থাকা ছাড়া যাত্রীদের কোনো বিকল্পও ছিল না। ভোগান্তি সহ্য করে ট্রেনের জন্য প্ল্যাটফর্মে বসেছিলেন তাঁরা।
আজ শুক্রবার ঈদযাত্রার শেষ দিনে চট্টগ্রাম রেলস্টেশনে সূচি বিপর্যয় ঘটে পাহাড়িকা এক্সপ্রেসসহ দুটি আন্তনগর ট্রেনের। আরেকটি ট্রেন হচ্ছে বিজয় এক্সপ্রেস। সকাল সোয়া ৯টায় ছাড়ার কথা থাকলেও সে ট্রেন ছেড়েছে বেলা ১১টায়। অর্থাৎ দেরি হয়েছে পৌনে দুই ঘণ্টা।
এমন দিনে ঈদযাত্রার সময়সূচি গড়বড় হয়েছে, যে সময় রেল প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ স্টেশন পরিদর্শনে আসেন। অবশ্য তিনি পরিদর্শনে আসার আগেই ট্রেন দুটি স্টেশন ছেড়ে গিয়েছিল। আর প্রতিমন্ত্রী স্টেশনে আসেন বেলা সোয়া ১১টায়।
রেল প্রতিমন্ত্রী স্টেশনের টিকিট কাউন্টার ও প্ল্যাটফর্মে যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলেন। রেলযাত্রা ও সেবা নিয়ে তাঁদের অভিযোগ ও অভিজ্ঞতা শোনেন। যাত্রীরাও প্রতিমন্ত্রীকে কাছে পেয়ে বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরেন। বিশেষ করে নির্ধারিত সময়ে ট্রেন না ছাড়ার কথা বলেন তাঁরা। অবশ্য যাত্রীদের কেউ কেউ প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে সেলফি তোলেন।
চট্টগ্রামের পাহাড়িকা এক্সপ্রেস ও বিজয় এক্সপ্রেস ট্রেনের বিলম্ব বিষয়ে জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ সাংবাদিকদের বলেন, ‘এই দুটি ট্রেনের বিষয়ে আমরা কর্তৃপক্ষের কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছি। এসব সমস্যা কমাতে ও যাত্রী ভোগান্তি দূর করতে আমরা নির্দেশনা দিয়েছি।’
রেল প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ সাংবাদিকদের বলেন, এই ট্রেনগুলো চলাচলে যে জায়গায় দুর্বলতা রয়েছে সেগুলো নিয়ে কাজ করছেন। যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলেছেন। তাঁরাও এসব ট্রেন নিয়ে অভিযোগ করেছেন, কোথাও কোথাও দেরি হচ্ছে। এই সমস্যাগুলো দূর করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে চান। যাত্রী হিসেবে নিজেরাই (মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী) ট্রেনে যাতায়াত করছেন। সাধারণ যাত্রীদের কী সমস্যা হচ্ছে তা দেখে সমাধানে কাজ করছেন।
এবারে ট্রেনে ঈদযাত্রার সার্বিক পরিস্থিতি জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী সরাসরি উত্তর না দিয়ে বলেন, ‘আসলে এটি আমাদের চেয়ে আপনারা (গণমাধ্যমকর্মী) আরও ভালো বলতে পারবেন। যেহেতু আপনারা সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছেন। আমরাও আপনাদের রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে নিজেরা কাজ করছি। সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন জায়গায় যখনই আমরা সোশ্যাল মিডিয়া, ইলেকট্রনিক মিডিয়া, প্রিন্ট মিডিয়ার কোনো রিপোর্ট পাচ্ছি, সেখানেও আমরা দেখছি। সঙ্গে সঙ্গেই সে কাজটি কীভাবে আরও সুন্দর করা যায়, তার উদ্যোগ নিচ্ছি।’ তবে প্রতিমন্ত্রী দাবি করেন, ঈদযাত্রা নিয়ে যাত্রীদের অভিজ্ঞতা মোটামুটি ভালো।
কারও বিরুদ্ধে অব্যবস্থাপনার প্রমাণ পেলে শাস্তির আওতায় আনা হবে কি না জানতে চাইলে রেল প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ বলেন, ‘হ্যাঁ, অবশ্যই। নীলসাগর ট্রেনটি নিয়ে আমাদের যে সমস্যা হয়েছে, সেখানে আমরা স্টেশন মাস্টার ও লোকোমাস্টারকে বরখাস্ত করেছি। তদন্ত কমিটি করেছি। আর কারও গাফিলতি থাকলে তাদের বিরুদ্ধে আমরা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’ তিনি বলেন, কোথাও গাফিলতি থাকলে সেই গাফিলতি কীভাবে পূরণ করা যায় এবং জড়িত ব্যক্তিদের কীভাবে শাস্তির আওতায় আনা যায়, সে জন্য কাজ চলছে।
স্টেশন পরিদর্শনর সময় রেল প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক মো. সবুক্তগীন, প্রধান বাণিজ্যিক ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান, প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা মোহাম্মদ সফিকুর রহমান, বিভাগীয় রেল ব্যবস্থাপক মোস্তাফিজুর রহমান ভূঞা, বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা আনিসুর রহমান, বিভাগীয় বাণিজ্যিক কর্মকর্তা তৌষিয়া আহমেদ, স্টেশন ব্যবস্থাপক আবু বক্কর সিদ্দিকী, স্টেশন মাস্টার আবু জাফর মজুমদার প্রমুখ।