
‘অনেক দূরে দূরে বোতলগুলি ছড়ায় রইছে। আবার কিছু খণ্ড খণ্ডও আছে। বোতলের মধ্যে গ্যাস আছে, ফোঁস ফোঁস কইরা বাহির হয়। বোতলের কাছে যাওন যায় না, গন্ধ। আপনারা বোতলগুলি নিয়া যান’—এভাবেই কথাগুলো বলছিলেন আশুলিয়ায় জামগড়া এলাকার বাসিন্দা জহির মীর।
গত রোববার সন্ধ্যায় ওই এলাকায় প্রিটি গ্রুপের কারখানা চত্বরে সিলিন্ডারবাহী কাভার্ড ভ্যানে বিস্ফোরণ ও হতাহতের ঘটনা ঘটে। একাধিক সিলিন্ডার ঘটনাস্থল থেকে ২০০ থেকে ৩০০ গজের বেশি দূরত্বে আবাসিক এলাকা, ভবনের ছাদে গিয়ে ছিটকে পড়ে। কোথাও আবার টিনের চালা ফুটো করে ঢুকে যায়। ঘটনার পর এখন পর্যন্ত এসব সিলিন্ডার সরিয়ে নেওয়া হয়নি।
আজ মঙ্গলবার বেলা পৌনে তিনটার দিকে জহির মীর বলেন, পাড়া–মহল্লায় বিভিন্ন জায়গায় সিলিন্ডার। কর্তৃপক্ষের কোনো লোকই আসেনি এগুলো নেওয়ার জন্য। যেখানে–সেখানে সিলিন্ডার পড়ে থাকায় মানুষ আতঙ্কিত জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বাচ্চারা ভয় পাইতাছে। আবার কিছু কিছুর (সিলিন্ডারের) মধ্যে ফোঁস করে, গ্যাসও আছে। কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি করি, এই বোতলগুলি যেন অতি সত্বর নিয়া যায়।’
স্থানীয় বাসিন্দা আয়নাল হক মীরের বাড়ির উঠানে পড়ে আছে দুটি সিলিন্ডার। বাড়ির টিনের চালার ওপর রয়েছে আরও একটি সিলিন্ডার। এ নিয়ে বাড়ির ভাড়াটেদের সময় কাটছে আতঙ্কে। ভাড়াটে ফাহিমা আক্তার বলেন, ‘এখানকার বাড়িওয়ালা, ভাড়াটিয়া—সবাই আতঙ্কের ভিতরে আছি। যেকোনো সময় যেকোনো একটা বিপদ আবার ঘটতে পারে। আমরা চাই বিপদ থাইকা মুক্তি হোক। এই বোতলগুলা যে কোম্পানির বোতল, কোম্পানি নিয়া গেলে আমরা নিরাপদ।’
আরেক ভাড়াটে মিনারা বেগম বলেন, ‘সিলিন্ডার এখনো পইড়া আছে, আমরা কেউ তো এখনো নিরাপদে হই নাইকা। এখনো নিরাপদে না, শিওর না। কী জানি এক দুর্ঘটনা হইয়া গেছে, আবার তো হইতেও পারে। এখন এইগুলা সরাইতে হবে।’
স্থানীয় বাসিন্দা ফজর আলী মীরের বাসার উঠানে পড়ে আছে একটি সিলিন্ডার। গতকাল সোমবার অনেক প্রচণ্ড রোদ পড়ে। গরমও অনুভব হয় বেশি। তাই বিস্ফোরণ ঘটতে পারে—সেই আতঙ্কে সিলিন্ডারটি ঠান্ডা রাখতে তার ওপরে দেওয়া হয় একটি প্লাস্টিকের ব্যাগ ও থ্রি–কোয়ার্টার প্যান্ট।
ওই বাসার ভাড়াটে পারভীন আক্তার বলেন, ‘আমরা আতঙ্কিত। আমরা অনেকবার বলতেছি যে এটা নিয়ে যেতে। কেউই নিতেছে না। এটা নিয়ে যেন কোনো চিন্তাই নাই। এটার জন্য আমরা দুই রাত ধইরা ঘুমাইতেও পারতেছি না টেনশনে—আবার না ব্লাস্ট (বিস্ফোরণ) হয়। এখন এগুলা কে নিবে, জানি না। কেউ সরাইতেছে না।’
এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাইফুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ফায়ার সার্ভিস ও থানা–পুলিশের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা হয়েছে। দ্রুতই সিলিন্ডারগুলো সরিয়ে ফেলা হবে।
গত রোববার সন্ধ্যা পৌনে সাতটার দিকে আশুলিয়ার জামগড়া এলাকায় প্রিটি গ্রুপের কারখানা চত্বরে সিলিন্ডারবাহী কাভার্ড ভ্যানে বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। আগুন আশপাশে থাকা আরও কয়েকটি সিলিন্ডারবাহী গাড়িসহ অন্তত সাত-আটটি গাড়িতে ছড়িয়ে পড়ে।
বিস্ফোরণে একাধিক সিলিন্ডার ঘটনাস্থল থেকে ২০০ থেকে ৩০০ গজের বেশি দূরত্বে আবাসিক এলাকা, ভবনের ছাদে গিয়ে ছিটকে পড়ে। কোথাও টিনের চালা ফুটো করে ঢুকে যায়। এ সময় ঘটনাস্থল ও ঘটনাস্থলের অদূরে ছয়জন নিহত হন। অপর দুজন চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যান। এ ছাড়া এ ঘটনায় আহত হন কমপক্ষে ২৫ জন।