এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজান
এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজান

লক্ষ্মীপুর

২৫ প্রার্থীর মধ্যে আয়-সম্পদে এগিয়ে বিএনপির আশরাফ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে লক্ষ্মীপুর-৪ (রামগতি-কমলনগর) আসনের বিএনপির প্রার্থী এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজান। তিনি বছরে আয় করেন ৩ কোটি ৫৫ লাখ ৫৭ হাজার টাকা। তাঁর হাতে নগদ রয়েছে ৬ কোটি ১৭ লাখ ৩১ টাকা। জেলার চারটি আসনের প্রার্থীদের মধ্যে তিনিই সবচেয়ে সম্পদশালী। মনোনয়নপত্রের সঙ্গে দেওয়া হলফনামা বিশ্লেষণ করে এসব তথ্য জানা গেছে।

আশরাফ উদ্দিন পেশায় ব্যবসায়ী। তিনি বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহশিল্প ও বাণিজ্যবিষয়ক সম্পাদক। জেলার চারটি আসনে এ বছর ২৫ জন মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। তবে আয়, সম্পদে সবকিছুতেই এগিয়ে আশরাফ উদ্দিন। নগদ টাকার বাইরেও তাঁর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ করা মূলধন ৪ কোটি ১১ লাখ ৯৯ হাজার টাকা।

আশরাফ উদ্দিনের বয়স ৬৮ বছর। তিনি স্নাতকোত্তর পাস। তাঁর নামে চারটি মামলা ছিল। এর মধ্যে দুটি মামলায় খালাস, অন্য দুটিতে অব্যাহতি পেয়েছেন। তাঁর স্ত্রী পেশায় গৃহিণী। এ ছাড়া তাঁর এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে।

হলফনামা অনুযায়ী, আশরাফ উদ্দিনের কসমস এন্টারপ্রাইজ, দ্য অ্যানজেলিক লাইনস, মাহিনা এন্টারপ্রাইজ ও জয় এন্টারপ্রাইজ নামে চারটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে তাঁর নগদ অর্থ ও বিনিয়োগ রয়েছে। এ ছাড়া তাঁর ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাবে ৫০ লাখ ৫৫ হাজার ৪২১ টাকা এবং এফডিআরে ১ কোটি ৩১ লাখ ৭১ হাজার ২৫০ টাকা রয়েছে। তাঁর দিগন্ত মিডিয়া নামে একটি প্রতিষ্ঠানেও বিনিয়োগ রয়েছে। এ ছাড়া নিরাময় ক্লিনিকে ১ লাখ ১৬ হাজার টাকা এবং একটি আবাসিক হোটেলে ২ লাখ ২২ হাজার ২০০ টাকা বিনিয়োগ রয়েছে।

হলফনামা অনুযায়ী, আশরাফ উদ্দিনের স্ত্রী ফারহানা আশরাফ গৃহিণী। তাঁর বার্ষিক আয় ১৩ লাখ ৩৩ হাজার ৮৮৪ টাকা। তাঁর কাছে নগদ রয়েছে ২৮ লাখ ৪২ হাজার ৭৩৭ টাকা, ব্যাংক হিসাবে ৫ লাখ ৩৫ হাজার ৭০৯ টাকা ও এফডিআর রয়েছে ৩০ লাখ ৫৫ হাজার টাকার।

হলফনামা অনুযায়ী, আশরাফ উদ্দিনের মালিকানায় রয়েছে দুটি গাড়ি—ল্যান্ড ক্রুজার ও নিশান। এ ছাড়া রয়েছে তিনটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা। সব মিলিয়ে এসবের মূল্য ধরা হয়েছে ৭৯ লাখ ৬৯ হাজার ৬০৯ টাকা। রয়েছে ৫০ ভরি সোনা এবং ১০ লাখ ১০ হাজার টাকার আসবাব। এর বাইরে চট্টগ্রাম ক্লাব লিমিটেডে ২০ হাজার টাকা ও ময়নামতি গলফ অ্যান্ড কান্ট্রি ক্লাবে ১০ লাখ টাকার শেয়ার রয়েছে তাঁর।

স্থাবর সম্পদের মধ্যে রয়েছে ৪ দশমিক ২৩ একর কৃষিজমি, ওয়ারিশসূত্রে পাওয়া ১০২ শতাংশ জমি, ঢাকার পূর্বাচল ও রাজউক এলাকায় জমি, চট্টগ্রামের হালিশহরের নিজস্ব বাড়ি, বনানীতে একটি ফ্ল্যাট, চট্টগ্রামের এম এম আলী রোডে একটি ফ্ল্যাট ও চরলরেন্সে একটি বাড়ি।

হলফনামা অনুযায়ী, আশরাফ উদ্দিনের স্ত্রী ফারহানা আশরাফ গৃহিণী। তাঁর বার্ষিক আয় ১৩ লাখ ৩৩ হাজার ৮৮৪ টাকা। তাঁর কাছে নগদ রয়েছে ২৮ লাখ ৪২ হাজার ৭৩৭ টাকা, ব্যাংক হিসাবে ৫ লাখ ৩৫ হাজার ৭০৯ টাকা এবং এফডিআর রয়েছে ৩০ লাখ ৫৫ হাজার টাকার। তাঁর মালিকানায় রয়েছে ২১ লাখ ৪০ হাজার টাকার একটি প্রাইভেট কার, ৪০ ভরি সোনা এবং ৭৬ লাখ ৩২ হাজার ৪৫ টাকার অকৃষি জমি। তাঁর ঢাকার গুলশান, মহাখালী ও ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় ফ্ল্যাট রয়েছে।

সব মিলিয়ে আশরাফ উদ্দিনের অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ ২২ কোটি ৩৪ লাখ ৪১ হাজার টাকা। তাঁর স্ত্রীর অস্থাবর সম্পদ রয়েছে ১ কোটি ৪৬ লাখ ৪৯ হাজার টাকার। এ ছাড়া তাঁর স্থাবর সম্পদের পরিমাণ ১৮ কোটি ৬ লাখ ২৭ হাজার টাকা, তাঁর স্ত্রীর স্থাবর সম্পদের পরিমাণ ৬ কোটি ৪৭ লাখ ১৭ হাজার টাকা। সর্বশেষ আয়কর রিটার্নে আশরাফ উদ্দিন নিজের সম্পদ দেখিয়েছেন ১৫ কোটি ১৩ লাখ ৬৯ হাজার ৮০০ টাকা। তাঁর স্ত্রীর সম্পদ দেখিয়েছেন ৩ কোটি ৩৩ লাখ ১২ হাজার ১২২ টাকা। আর ছেলে হাসিন বিন আশরাফের ৪ কোটি ৪১ লাখ ১ হাজার ১৩৯ টাকা ও মেয়ে মাহিনা বিনতে আশরাফের সম্পদ ৩৫ লাখ ৩ হাজার ৩৭৫ টাকা দেখিয়েছেন।

কার আয় কত

লক্ষ্মীপুর-১ (রামগঞ্জ) আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মো. শাহাদাত হোসেন সেলিম আয়ের দিক থেকে দ্বিতীয়। তিনি ব্যবসা ও বাড়িভাড়া থেকে বছরে আয় দেখিয়েছেন ১৯ লাখ ৬২ হাজার ৬৮৭ টাকা। তাঁর ঘোষিত মোট সম্পদের পরিমাণ ১৩ কোটি ৫৫ লাখ ৫৩ হাজার ৯৩১ টাকা। এরপরই রয়েছেন লক্ষ্মীপুর-৩ (সদর) আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ও দলের যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি।

হলফনামা অনুযায়ী, পেশায় ব্যবসায়ী এ্যানির মোট সম্পদের পরিমাণ ৩ কোটি ৯০ লাখ ৩১ হাজার ৬৭ টাকা ও বার্ষিক আয় ৪৭ লাখ ৩৬ হাজার ৫৪ টাকা। তাঁর সহধর্মিণীর সম্পদের পরিমাণ ৩ কোটি ৪ লাখ ৭৯ হাজার ৬৭ টাকা, আর বছরে আয় ২৩ লাখ ১ হাজার ৩৬৮ টাকা। এ্যানির কাছে প্রায় ৬১ লাখ ৭৬ হাজার টাকা মূল্যের একটি টয়োটা ল্যান্ড ক্রুজার স্টেশন ওয়াগন জিএক্স গাড়ি রয়েছে। এ ছাড়া বিয়ের সময় উপহার হিসেবে পাওয়া ১২০ ভরি ও তাঁর স্ত্রীর নামে ৩০ ভরি স্বর্ণালংকারের তথ্যও হলফনামায় উল্লেখ করা হয়েছে।

এ্যানির পরেই সম্পদশালীর তালিকায় রয়েছেন লক্ষ্মীপুর-১ আসনের জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক ও প্রার্থী মাহবুব আলম। তাঁর অস্থাবর সম্পত্তি রয়েছে ১ কোটি ১০ লাখ টাকার। ব্যবসায়ী মাহবুব আলম বছরে আয় করেন ১৫ লাখ টাকা। হলফনামা অনুযায়ী, গত অর্থবছরে প্রথমবারের মতো তিনি আয়কর দেন। এ সময় তিনি ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা কর পরিশোধ করেন। একই আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মোহাম্মদ নাজমুল হাসানের বার্ষিক আয় ৪ লাখ টাকা। তাঁর মোট সম্পদ আছে ৪ লাখ ৮০ হাজার টাকার।

লক্ষ্মীপুর-২ (রায়পুর ও সদর উপজেলার আংশিক) আসনে বিএনপির প্রার্থী আবুল খায়ের ভূঁইয়ার ঘোষিত স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ ৬৬ লাখ ৬ হাজার টাকা। তবে তাঁর স্ত্রী রওশন আরা বেগম স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ দেখিয়েছেন ১ কোটি ৩৭ লাখ ৩১ হাজার টাকার। হলফনামা অনুযায়ী, আবুল খায়ের ভূঁইয়ার একটি আগ্নেয়াস্ত্র রয়েছে। একই আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী এস ইউ এম রুহুল আমিন ভূঁইয়ার বার্ষিক আয় ৬ লাখ ৩০ হাজার টাকা। তাঁর মোট সম্পদ ৭ লাখ ৯৭ হাজার ২৪৪ টাকার।

লক্ষ্মীপুর-৩ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ঢাকা মহানগরী উত্তরের সেক্রেটারি মো. রেজাউল করিম। তিনি পেশায় সাংবাদিক ও লেখক। তাঁর বার্ষিক আয় ৭ লাখ টাকা ও মোট সম্পদ ১১ লাখ ৬৩ হাজার ৩৯ টাকা। সোনাসহ বিভিন্ন ধাতুর ২৫ ভরি গয়নার তথ্যও তিনি হলফনামায় উল্লেখ করেছেন। লক্ষ্মীপুর-৪ (রামগতি-কমলনগর) আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আশরাফুল রহমান হাফিজ উল্যাহ। হলফনামা অনুযায়ী, তাঁর বার্ষিক আয় ছয় লাখ টাকা ও মোট সম্পদের পরিমাণ ৯ লাখ ১৯ হাজার ৭৬ টাকা।