বরিশাল জেলা বিএনপির সদস্য ও বানারীপাড়া উপজেরা বিএনপির সহসভাপতি গোলাম মাহমুদ মাহাবুব (সামনের সারির মাঝখানে খয়েরি পাঞ্জাবি পরা)) শতাধিক সমর্থক অনুসারী নিয়ে জামায়াতে যোগ দেন। শুক্রবার বিকেলে উপজেলার বাইশারী কেন্দ্রীয় নুরাণি ও হাফেজি মাদ্রাসা মাঠে
বরিশাল জেলা বিএনপির সদস্য ও বানারীপাড়া উপজেরা বিএনপির সহসভাপতি গোলাম মাহমুদ মাহাবুব (সামনের সারির মাঝখানে খয়েরি পাঞ্জাবি পরা)) শতাধিক সমর্থক অনুসারী নিয়ে জামায়াতে যোগ দেন। শুক্রবার বিকেলে উপজেলার বাইশারী কেন্দ্রীয় নুরাণি ও হাফেজি মাদ্রাসা মাঠে

বানারীপাড়ায় শতাধিক অনুসারী নিয়ে বিএনপি নেতার জামায়াতে যোগদান

বরিশাল জেলা বিএনপির সদস্য ও বানারীপাড়া উপজেলা কমিটির সহসভাপতি গোলাম মাহমুদ মাহাবুব তাঁর শতাধিক অনুসারী নেতা–কর্মী নিয়ে জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দিয়েছেন। আজ শুক্রবার বিকেলে বানারীপাড়া উপজেলার বাইশারী ইউনিয়নে বরিশাল–২ (বানারীপাড়া ও উজিরপুর) আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর সমর্থনে আয়োজিত এক উঠান বৈঠকে তাঁরা আনুষ্ঠানিকভাবে জামায়াতে যোগ দেন।

এ সময় গোলাম মাহমুদ মাহাবুবকে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের উত্তরীয় পরিয়ে ও ফুলেল শুভেচ্ছা জানিয়ে বরণ করে নেন জামায়াতের নেতারা। বাইশারী কেন্দ্রীয় নুরানী ও হাফেজিয়া মাদ্রাসা মাঠে ইউনিয়ন জামায়াতের আমির মাওলানা আতিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উঠান বৈঠকে প্রধান অতিথি ছিলেন বরিশাল–২ আসনের জামায়াতের প্রার্থী আব্দুল মান্নান।

অনুষ্ঠানে গোলাম মাহমুদ বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে ১৯৭৭ সালে সপ্তম শ্রেণির ছাত্র থাকাবস্থায় খাল খনন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে তাঁর রাজনৈতিক পথচলা শুরু হয়েছিল। পরে ১৯৭৯ সালে ছাত্রদলের মাধ্যমে রাজনীতিতে সক্রিয় হন। দীর্ঘ চার দশক তিনি বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

গোলাম মাহমুদ বলেন, ‘মা, মাটি ও মানুষের দল ছিল বিএনপি। সেই বিএনপি অর্ধেক জিয়াউর রহমানের মৃত্যুতে ও বাকি অর্ধেক খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শেষ হয়ে গেছে। এখন শুধু বিএনপির লেবেলটা আছে, যা মিথ্যাচারে ভরপুর।’ তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামীতে কোনো চাঁদাবাজ, মাদকসেবী, দখলবাজ ও লুটেরা নেই। দেশের স্বাধীনতা–সার্বভৌমত্ব ও ইসলামের জন্য তারা জীবন বাজি রাখে। তাই সত্যের সৈনিক হতে জামায়াতে যোগ দিয়েছেন।

গোলাম মাহমুদের সঙ্গে জামায়াতে আরও যোগ দেন পৌর শ্রমিক দলের সভাপতি ইদ্রিস মল্লিক, পৌর কৃষক দলের সদ্য পদত্যাগী আহ্বায়ক আবদুল গাফফার হোসেন, উপজেলার ইলুহার ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি নুরুজ্জামান, উদয়কাঠী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি কাঞ্চন তালুকদার, বিশারকান্দি ইউনিয়ন শ্রমিক দলের সভাপতি আবদুস সালাম মিয়া, পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলা বিএনপির সহ–ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক মশিউর রহমানসহ শতাধিক নেতা–কর্মী।

উঠান বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা জামায়াতের আমির খলিলুর রহমান শাহাদাৎ, সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মোকাম্মেল হোসেন, পৌর জামায়াতের আমির কাওছার হোসেন, ব্যবসায়ী আশিকুল ইসলামসহ স্থানীয় জামায়াতের নেতারা।

গোলাম মাহমুদ মাহাবুব এর আগে বানারীপাড়া পৌর ও উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। গত বছরের জুলাইয়ে অনুষ্ঠিত বানারীপাড়া উপজেলা বিএনপির ত্রিবার্ষিক কাউন্সিলে তিনি সাধারণ সম্পাদক পদপ্রত্যাশী ছিলেন। সেই কাউন্সিলে তাঁকে ২ নম্বর সহসভাপতি পদ দেওয়া হয়।

বানারীপাড়া উপজেলা বিএনপির একটি সূত্র জানায়, গোলাম মাহমুদ গতকাল বৃহস্পতিবার তাঁর পদ থেকে পদত্যাগ করেন। গতকাল সকালে তিনি বরিশাল জেলা বিএনপির (দক্ষিণ) সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বরাবর অব্যাহতিপত্র জমা দেন। গোলাম মাহমুদ তাঁর ফেসবুক আইডিতেও পদত্যাগপত্র পোস্ট করেন।

গোলাম মাহমুদ অব্যাহতিপত্রে উল্লেখ করেন, চার দশক ধরে তিনি সুনাম ও নিষ্ঠার সঙ্গে বিএনপির একজন নিবেদিতপ্রাণ কর্মী হিসেবে রাজনীতি করেছেন। এ দীর্ঘ সময় বিএনপির রাজনীতি করতে গিয়ে তিনি মামলা–হামলা, জেল–জুলুম, নিপীড়ন ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। বর্তমানে তিনি নিজ দলে লাঞ্ছিত, বঞ্চিত ও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। তাই দল থেকে পদত্যাগ করেছেন।

রাজনৈতিক দলগুলোর স্থানীয় নেতারা বলছেন, বানারীপাড়া পৌর ও উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও প্রভাবশালী নেতা গোলাম মাহমুদের দীর্ঘ ৪০ বছরের রাজনৈতিক জীবনের ইতি টেনে জামায়াতে যোগদান স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ তৈরি হতে পারে।