
ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজে ছাত্ররাজনীতি বন্ধ থাকার সমালোচনা করে দেওয়া বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়েছেন জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সৈয়দ জুলফিকার হোসেন (জুয়েল)। মঙ্গলবার দুপুরে ফরিদপুর প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে তিনি বলেছেন, তাঁর বক্তব্য নিয়ে বিভিন্ন ফেসবুক পেজে অপপ্রচার চালানো হয়েছে।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় গত রোববার দুপুরে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজে দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভার আয়োজন করে বিএনপিপন্থী চিকিৎসকদের সংগঠন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ শাখা। ওই সভায় অতিথির বক্তব্যে জুলফিকার হোসেন বলেন, ‘১২ তারিখ পর্যন্ত আমরা দেখতে চাই। ১২ তারিখের পরে যদি আমাদের এখানে সশরীর উপস্থিত হয়ে, এখানে স্বাভাবিক রাজনীতির চর্চা করতে দেওয়া না হয়, তাহলে কিন্তু ভয়ানক পরিস্থিতি হবে। আমার জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল যদি রাজনীতি করতে না পারে, এই ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজে রাজনীতি বন্ধ করে দেব। ছাত্ররাজনীতি যদি বন্ধ হয়ে যায়, এই মেডিক্যাল কলেজ বন্ধ হয়ে যাবে।’
প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের ২৪ আগস্ট কলেজের একাডেমিক কাউন্সিলরের সভার এক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ আছে। এমন অবস্থায় বিএনপি নেতা জুলফিকার হোসেনের ওই বক্তব্য নিয়ে গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।
বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে সংবাদ সম্মেলনে জুলফিকার হোসেন বলেন, ‘আমার কথাটা ভুলও হতে পারে, মানুষ মাত্রই ভুল হয়। এটা আমি যত বড় নেতাই হই, ভুল তো ভুলই। এর দুই রকমের ব্যাখ্যা আমি দেব। একটা হলো, আমি নাকি মেডিক্যাল কলেজ বন্ধ করে দেব বলেছি। মেডিক্যাল কলেজ শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত একটি প্রতিষ্ঠান, এটি ফরিদপুরের অহংকার। আমি বোঝাতে চেষ্টা করেছি, আসলে রাজনৈতিক নেতারা কতভাবে ঘুরিয়ে একটি কথা প্লেস করতে হয়। যেই একাডেমিক কাউন্সিল মেডিক্যালে রাজনীতি বন্ধ করে রেখেছে, ওই কাউন্সিলের সদস্য কারা? বিগত সরকারের ফ্যাসিবাদের দোসর এখনো ওই একাডেমিক কাউন্সিলে নেতৃত্ব দিচ্ছে। অধ্যক্ষ তাঁর চেয়ার ধরে রাখার জন্য একটি রাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গে আঁতাত করে ক্যাম্পাসকে নিরিবিলি রেখে যেন তিনি নেতৃত্ব দিতে পারেন। সেই কারণেই তিনি (অধ্যক্ষ) ওই আওয়ামী লীগের একাডেমিক কাউন্সিল ও লুঙ্গির নিচে রাজনীতি করার অভ্যাস থেকে বের হয়ে আসতে না পারা সংগঠন মিলে ঐক্যবদ্ধভাবে ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ করে রেখেছে। সে কারণেই আমি বক্তব্যটি বলেছি।’
জুলফিকার হোসেন আরও বলেন, ‘অথচ ওই ছাত্রসংগঠনটি ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.), তাদের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীসহ সমস্ত কর্মসূচি নিজের পরিচয়ে না করে ছাত্রদের ব্যানার দিয়ে করে থাকে। এতে অর্থায়ন করেন অধ্যক্ষ নিজে। যে কারণে আমি বোঝাতে চেয়েছি, দুটি সংগঠনের একটি কাজ চালাচ্ছে, আরেকটি (ছাত্রদল) চালাতে পারছে না। এই দুটি সংগঠন যখন মুখোমুখি হবে, সাংঘর্ষিক পরিস্থিতিতে যাবে, তখন কিন্তু স্বাভাবিক সেন্সেই ক্যাম্পাস বন্ধ রাখতে হবে। আমার সেই বক্তব্যকে তারা বাঁশের কেল্লাসহ বিভিন্ন পেজে অপপ্রচার করে ভাইরাল করে দিয়েছে। সাথে কিছু নিউজও হয়েছে।’
হুমকিসংক্রান্ত বক্তব্যের দ্বিতীয় ব্যাখ্যা দিয়ে জুলফিকার হোসেন বলেন, ‘আমার বক্তব্য বুঝতে যদি ভুল হয়, আমি খুব স্বাভাবিকভাবে ঘরের ছেলে যত বড় নেতাই হই, আমি এই ঘরেরই সন্তান, যদি ভুল বোঝেন সেটাকে সংশোধন করার জন্য বলছি, মেডিক্যাল কলেজ বন্ধ করে দেব, এই শব্দ যাঁরা বুঝেছেন তাঁদের কাছে আমি ক্ষমা চাইছি।’
সংবাদ সম্মেলনে জেলা ড্যাবের সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘জুলফিকার ফরিদপুরে অত্যন্ত জনপ্রিয় ও রাজপথের লড়াকু নেতা। মেডিক্যাল কলেজে যে ঘটনা ঘটল, এটি আসলে অনাকাঙ্ক্ষিত। মেডিক্যালে ছাত্রদলের রাজনীতির সমস্যা সম্পর্কিত বিভিন্ন ঘটনা শুনে জুলফিকার একটু এক্সাইটেড (উত্তেজিত) হয়ে গিয়েছিল। জুলফিকার এক্সাইটেড বক্তব্য দিয়েছে। আমি পরের অংশটুকু ভালোমতো শুনতে পারিনি। অনেকে করতালি দিয়েছিল, যদিও দোয়া অনুষ্ঠানে করতালি বিষয় না থাকলে ভালো হতো।’
জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর হোসেন মেডিক্যাল কলেজে ছাত্রদলের কর্মতৎপরতায় বাধা দেওয়ার বিভিন্ন ঘটনা তুলে ধরে বলেন, ‘অনুষ্ঠানে ছাত্রদের না দেখে জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক জুয়েল ভাই আবেগে হোক কিংবা ক্ষোভের কারণে হোক এই বক্তব্য দিয়েছেন।’