
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজের মূল ক্যাম্পাস–সংলগ্ন নিয়াজ মুহম্মদ উচ্চবিদ্যালয়ের মাঠে নবীনবরণ অনুষ্ঠান হবে। আর কলেজের দক্ষিণ ক্যাম্পাসে হবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
নবীনবরণে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ঘিরে আপত্তি তুলে তা স্থগিতের দাবি জানিয়েছিল জেলা কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদ। ওই পরিপ্রেক্ষিতে কলেজ কর্তৃপক্ষ নবীনবরণের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজনের জায়গা বদল করল। তবে কলেজ কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, মাঠটি বিদ্যালয়ের। তাই কলেজের দক্ষিণ ক্যাম্পাসে উন্মুক্ত স্থানে হবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
এ সম্পর্কে কলেজের উপাধ্যক্ষ মোশাররফ হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘পরিকল্পনা অনুসারে নিয়াজ মুহম্মদ উচ্চবিদ্যালয়ের মাঠেই নবীনবরণসহ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল। মাঠটি কলেজের নয় এবং কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদের আপত্তির পরিপ্রেক্ষিতে আমরা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের স্থান পরিবর্তন করেছি। নিয়াজ মুহম্মদ উচ্চবিদ্যালয়ের মাঠের পরিবর্তে কলেজের দক্ষিণ ক্যাম্পাসে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হবে। মাঠে শুধু নবীনবরণ অনুষ্ঠান হবে।’
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজের নবীনবরণে কনসার্ট হবে এমন আপত্তি তুলে তা স্থগিতের দাবি জানায় জেলা কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদ। গতকাল শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে পরিষদের সদস্য ফুযায়েল আহমেদ খান স্বাক্ষরিত একটি স্মারকলিপি কলেজের অধ্যক্ষ ওবায়দুর রহমানের কাছে দেওয়া হয়। একই দাবিতে গত শুক্রবার রাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি খালেদ হোসেন মাহবুব এবং জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলামের কাছেও স্মারকলিপি দেয় সংগঠনটি।
শনিবার রাত পৌনে আটটার দিকে কলেজ শাখা ছাত্রদলের সভাপতি শাহাদাত হোসেন ভূঁইয়া (জিমি হৃদয়) নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান নির্ধারিত সময়ে হবে বলে জানান। এই ঘোষণার পর রাত সাড়ে আটটার দিকে কওমি ছাত্র ঐক্যের নেতারা বিষয়টি নিয়ে নিজেদের অবস্থান জানাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ (সদর ও বিজয়নগর) আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি খালেদ হোসেন মাহবুবের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সেখানে কলেজ শাখা ছাত্রদলের নেতারাও উপস্থিত ছিলেন। আলোচনায় নিয়াজ মুহম্মদ উচ্চবিদ্যালয়ের মাঠে কলেজের নবীনবরণ এবং মাঠের পরিবর্তে কলেজের দক্ষিণ ক্যাম্পাসে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজনের সিদ্ধান্ত হয়।
ছাত্রদল নেতা শাহাদাত হোসেন ভূঁইয়া প্রথম আলোকে বলেন, আলোচনায় বিষয়টি সমাধান হয়েছে। আগের ঘোষণা অনুযায়ী নিয়াজ মুহম্মদ উচ্চবিদ্যালয়ের মাঠে নবীনবরণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হওয়ার কথা ছিল। এখন সেখানে শুধু নবীনবরণ অনুষ্ঠানটি হবে। সেখানে সংসদ সদস্য প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন। আর মাঠের পরিবর্তে কলেজের দক্ষিণ ক্যাম্পাসে আমরা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হবে।
উল্লেখ্য, গত ১৮ আগস্ট রাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পুলিশের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়। এ ঘটনার পর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পণ্ড হয়ে যায়। এর আগে ৩০ মে জেলা কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদের শিক্ষার্থীদের আপত্তির মুখে ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ সিনেমাটির প্রদর্শনী বন্ধ হয়ে যায়।