
নাটোর-৩ (সিংড়া) আসনে ধানের শীষের প্রার্থী আনোয়ারুল ইসলাম আনুর নির্বাচনী পথসভায় যুবদলের এক নেতার দেওয়া বক্তব্যকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র সমালোচনা তৈরি হয়েছে। বক্তৃতায় ওই নেতা বলেছেন, ‘১২ তারিখে ধানের শীষে ভোট দিয়ে আমরা প্রমাণ করব আমরা পাকিস্তান।’
যুবদলের ওই নেতার নাম আব্দুল মালেক। তিনি সিংড়া উপজেলা যুবদলের সদস্যসচিব। গতকাল বুধবার বিকেলে উপজেলার শেরকোল এলাকায় বিএনপির প্রার্থীর এক নির্বাচনী পথসভায় তিনি ওই বক্তব্য দেন। এ সময় ধানের শীষের প্রার্থী আনোয়ারুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। ইতিমধ্যে তাঁর বক্তব্যের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে আব্দুল মালেককে বলতে শোনা যায়, ‘সিংড়া থানার শেরকোল ইউনিয়নের দুটি ওয়ার্ডকে পাকিস্তানি বলা হয়। একটি হচ্ছে ৬ নম্বর ওয়ার্ড, আরেকটি হচ্ছে ৯ নম্বর ওয়ার্ড। আমাদের আগামীর রাষ্ট্রনায়ক তারেক রহমান সাহেব যাঁকে বিশ্বাস করেছেন, আস্থা রেখেছেন, তাঁকেই নমিনেশন দিয়েছেন। আমাদের চিহ্ন, আমি বিএনপি করি, এর প্রমাণ ধানের শীষ। সুতরাং ১২ তারিখে ধানের শীষে ভোট দিয়ে আমরা প্রমাণ করে দেব আমরা পাকিস্তান। আমরা বারবার বিএনপিকে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করেছি। এবারও প্রমাণ করে ছাড়ব ইনশা আল্লাহ।’
যুবদল নেতার বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। জানতে চাইলে যুবদল নেতা আব্দুল মালেক দাবি করেন, ‘বক্তব্য দেওয়ার সময়ে ভুলক্রমে ওই শব্দটি মুখ দিয়ে বের হয়ে গেছে।’
এ বিষয়ে সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) নাটোর জেলার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বুলবুল আহমেদ বলেন, ‘বক্তব্যটি আমিও শুনেছি। তিনি আসলে কী কারণে বা কোন প্রেক্ষাপটে এমন কথা বলেছেন, তার ব্যাখ্যা চাওয়া উচিত। অন্যরা তাদের এলাকাকে পাকিস্তানি বলে তিরস্কার করে, সেটার জবাবে তিনি এমনটি বলেছেন নাকি পাকিস্তানি ভাবাদর্শে উজ্জীবিত হয়ে বলেছেন তা পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন। তবে যদি পাকিস্তানি মতাদর্শ বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যে এটি বলা হয়, তবে তা রাষ্ট্রদ্রোহের শামিল এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ।’
যোগাযোগ করলে জেলা যুবদলের সভাপতি এ হাই তালুকদার বলেন, ‘বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। তিনি কোন প্রেক্ষাপটে এমন বক্তব্য দিয়েছেন, তা আমরা পর্যালোচনা করছি। যদি দলের নীতিবহির্ভূত বা বিতর্কিত কিছু প্রমাণিত হয়, তবে তাঁর বিরুদ্ধে অবশ্যই সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’