
ঝালকাঠিতে বাসা থেকে নিখোঁজের আট ঘণ্টা পর সুগন্ধা নদীর পাড় থেকে নিলুফা ইয়াসমিন (৫৫) নামের এক নারীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। আজ মঙ্গলবার ভোর ৬টার দিকে ঝালকাঠি পৌরসভার খেয়াঘাট–সংলগ্ন নতুন চর এলাকা থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়।
নিলুফা ইয়াসমিন একই এলাকার মৃত শুক্কুর হাওলাদারের স্ত্রী এবং দুই ছেলে ও তিন মেয়ের মা। ছেলে ইলিয়াস হাওলাদারকে নিয়ে তিনি নতুন চর এলাকায় থাকতেন। বাকি সন্তানেরা খুলনার মোংলাসহ বিভিন্ন এলাকায় বসবাস করেন।
পুলিশ ও এলাকার একাধিক বাসিন্দার সূত্রে জানা গেছে, নিলুফা গতকাল সোমবার রাত ১০টার দিকে নিজ বাসা থেকে নিখোঁজ হন। ইলিয়াস দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফিরে দেখেন, তাঁর মা সেখানে নেই। খোঁজাখুঁজি করে না পেয়ে তিনি বিষয়টি এলাকাবাসীকে জানান। পরে লোকজন সুগন্ধা নদীর আশপাশে রাতভর নিলুফার খোঁজ করেন; কিন্তু তাঁর কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিল না। আজ সকাল ছয়টার দিকে স্থানীয় দুই নারী নদীর পাড়ে থালাবাসন ধোয়ার কাজে যান। তাঁরা সেখানে নিলুফাকে পড়ে থাকতে দেখেন। পরে এলাকাবাসী পুলিশে খবর দেয়।
শিরিন বেগম নামে এক নারী বলেন, থালাবাসন ধোয়ার জন্য সুগন্ধা নদীর পাড়ে গেলে নিলুফাকে চাদর প্যাঁচানো অবস্থায় দেখতে পান। ওই সময় নিলুফার শরীর অসাড় ছিল।
ইলিয়াস হাওলাদার অভিযোগ করে বলেন, ‘আমার মাকে দুর্বৃত্তরা হত্যা করেছে। তাঁর কানে থাকা স্বর্ণের দুল ও নাকের ফুল নিয়ে গেছে তারা। নাকের ফুল ছিড়ে নেওয়ার কারণে মায়ের নাক রক্তাক্ত ছিল। আমি এ হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও সঠিক বিচার চাই।’
লাশটি উদ্ধারের পর ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঝালকাঠি সদর থানার উপ পরিদর্শক (এসআই) আমিনুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘আমরা ঘটনাস্থলে এসে লাশের সুরাতহাল করেছি। নারীর মৃত্যুটি রহস্যজনক, নাকের স্বর্ণের ফুল ছিঁড়ে নেওয়ার কারণে তাঁর নাক রক্তাক্ত ছিল। এ ঘটনার তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’