
যশোরের অভয়নগর উপজেলার নওয়াপাড়া বাজারের ব্যবসায়ী আনিছুর রহমান হত্যার প্রধান আসামি শাহ মো. মাহমুদ হোসেনকে (৩৮) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল রোববার রাতে যশোর শহরের আর এন রোড এলাকার একটি বাড়ি থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
আজ সোমবার দুপুরে যশোরের পুলিশ সুপার কার্যালয়ে এক ব্রিফিংয়ে গ্রেপ্তার করার তথ্য জানিয়েছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মিরাজুল ইসলাম।
গ্রেপ্তার মাহমুদ হোসেন অভয়নগর উপজেলার গুয়াখোলা গ্রামের শাহ মো. জুনায়েদের ছেলে।
৬ মে সন্ধ্যায় নওয়াপাড়ার পীরবাড়ি মাদ্রাসার পাশে আনিছুর রহমানের মালিকানাধীন বহুতল মার্কেটের সামনে এক ব্যক্তি তাঁকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করে। রাত আড়াইটার দিকে চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পথে তাঁর মৃত্যু হয়।
আনিছুর রহমান নওয়াপাড়া বাজারের সার, খাদ্যশস্য, কয়লা, সিমেন্ট আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান মেসার্স জয়েন্ট ট্রেডিং করপোরেশন লিমিটেডের পরিচালক ছিলেন। তিনি সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার কুশোডাঙ্গা গ্রামের মজিদ বকস সরদারের ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে নওয়াপাড়ায় স্থায়ীভাবে বসবাস করছিলেন।
এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহত আনিছুর রহমানের স্ত্রী নাহিদা ইমাম বাদী হয়ে ৭ মে অভয়নগর থানায় একটি মামলা করেন। মামলায় উপজেলার গুয়াখোলা গ্রামের শাহ মো. জুনায়েদের ছেলে শাহ মো. মাহমুদ হোসেন এবং একই গ্রামের নিছার আলীর ছেলে নাসির উদ্দিনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা তিন থেকে চারজনকে আসামি করা হয়।
এ হত্যাকাণ্ডের পর নওয়াপাড়ার ব্যবসায়ীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। ব্যবসায়ী আনিছুর রহমান হত্যার মূল আসামিকে গ্রেপ্তারের দাবিতে গত বুধবার সকাল-সন্ধ্যা হরতাল পালন করেন দেশের অন্যতম বড় ব্যবসাকেন্দ্র নওয়াপাড়ার ব্যবসায়ীরা।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘ব্যবসায়ী আনিছুর রহমানের মূল হত্যাকারী, যার আঘাতে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, তাঁকে (মাহমুদ হোসেন) গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁর কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। তদন্তের স্বার্থে এখনই সবকিছু বলা সম্ভব নয়। তিনি প্রাথমিকভাবে হত্যার কারণ এবং হত্যাকাণ্ড কীভাবে সংঘটিত করেছেন, সেটা পুলিশের কাছে বর্ণনা করেছেন। তদন্তের স্বার্থে অনেক কিছু এই মুর্হূতেই বলতে পারছি না। খুব শর্ট টাইমের মধ্যে আমরা আপনাদের সামনে এ ঘটনার মূল রহস্য ব্রিফ করব।’