
শুধু বড় প্রকল্পের কথা না ভেবে গ্রামীণ কর্মসংস্থান, কারিগরি প্রশিক্ষণ ও ছোট উদ্যোগের দিকে নজর দেওয়ার আহ্বান।
চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার খানখানাবাদ ইউনিয়নের কদমরসুল গ্রাম। চারদিকে এখনো নির্বাচনী আমেজ পুরোপুরি জমেনি ঠিকই, তবে ঘরে ঘরে চায়ের কাপে ঝড় তুলছে একটিই আলোচনা—আসন্ন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন। এই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে আছেন মোহাম্মদ মিরাজ, রিফাতুল ইসলাম ও জয়নাল আবেদীনের মতো তরুণেরা। জীবনের প্রথম ভোট নিয়ে তাঁদের চোখে যেমন স্বপ্ন, তেমনি আছে একরাশ বাস্তবভিত্তিক প্রত্যাশা।
কদমরসুল গ্রামের বাস্তবতা তাঁদের প্রত্যাশার পেছনের কারণও বলে দেয়। গ্রাম থেকে ইউনিয়ন বা উপজেলা সদরে যেতে এখনো ভরসা করতে হয় খানাখন্দে ভরা সড়কের ওপর। বর্ষা এলেই চলাচল আরও কঠিন হয়ে পড়ে। মোহাম্মদ মিরাজ বলেন, ‘ভোট দিতে যাব। এটা আনন্দের। কিন্তু ভোট দেওয়ার পর যদি জীবনযাত্রায় কোনো পরিবর্তন না আসে, তাহলে এই আনন্দ টিকবে না।’ তাঁর মতে, গ্রামের ভাঙাচোরা সড়ক ঠিক হলে শিক্ষা, চিকিৎসা ও কাজ—সবকিছুর পথ কিছুটা হলেও সহজ হবে।
চাকরির সুযোগের অভাব এই তরুণদের সবচেয়ে বড় উদ্বেগ। পড়াশোনা শেষ করেও অনেকেই গ্রাম ছেড়ে শহরমুখী হতে বাধ্য হচ্ছেন। জয়নাল আবেদীন বলেন, ‘আমাদের এলাকায় কাজের সুযোগ কম।’ তাঁর অভিযোগ, উন্নয়ন হয়েছে কাগজে-কলমে, কিন্তু গ্রামের যুবকদের জীবনে তার ছাপ পড়েনি।
একই কথা বললেন মো. রিফাতুল ইসলাম। তাঁর ভাষায়, ‘নির্বাচনের সময় অনেক প্রতিশ্রুতি আসে। কিন্তু নির্বাচনের পর কেউ আর খোঁজ নেয় না।’ তিনি চান, যিনি নির্বাচিত হবেন, তিনি যেন শুধু বড় প্রকল্পের কথা না ভেবে গ্রামীণ কর্মসংস্থান, কারিগরি প্রশিক্ষণ ও ছোট উদ্যোগের দিকে নজর দেন।
এই তিন তরুণের চাওয়া খুব বড় কিছু নয়—পাকা সড়ক আর সম্মানজনক কাজ। কিন্তু এই সাধারণ দাবির মধ্যেই লুকিয়ে আছে বাঁশখালীর বহু তরুণের কণ্ঠস্বর। প্রথমবার ভোট দিতে যাওয়া এই ভোটারদের প্রত্যাশা পূরণ হবে কি না, তা অনেকটাই নির্ভর করবে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি তাঁদের কথা কতটা গুরুত্ব দিয়ে শোনেন, তার ওপর।
গতকাল মঙ্গলবার এ রকম তরুণ ভোটারদের কথা শুনতে চট্টগ্রাম শহর থেকে বাঁশখালী যান এই প্রতিবেদক। কদমরসুল গ্রামের কয়েকজন তরুণকে পাওয়া গেল বড় মৌলানা শাহ সড়কের এক প্রান্তে। তাঁরা সড়কের পাশে বসে আড্ডা দিচ্ছিলেন। নির্বাচনের আমেজ কতটুকু ছড়িয়েছে—এমন প্রশ্নে তরুণেরা বলেন, ‘নির্বাচনের আমেজ এখনো জোরালো হয়নি। তবে প্রার্থীদের প্রতিনিধিরা আসছেন। ভোট চাইছেন।’
সড়ক দেখিয়ে তরুণদের একজন ওমর ফারুক বলেন, প্রায় দেড় কিলোমিটার সড়কের বিভিন্ন অংশ ভাঙা। হাসপাতালে কোনো রোগী নিতে গেলে বেগ পেতে হয়।
উপজেলার সাধনপুর ইউনিয়নের বাণীগ্রামে মিষ্টির দোকানের ব্যবসা করেন তুষার দাশ। তিনিও প্রথমবারের মতো ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার কথা জানালেন।
তাঁর দোকানের নাম বাণীগ্রাম মিষ্টান্ন ভান্ডার। তুষার বলেন, ‘বিদেশে যাওয়ার কথা ছিল। যেতে পারিনি। এখন দোকান চালাচ্ছি। আয় খারাপ নয়।’ ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘ভোটের দিন পরিস্থিতি ভালো থাকলে অবশ্যই ভোট দিতে যাব।’
বাঁশাখালী হলো চট্টগ্রাম-১৬ সংসদীয় আসন। এবার নির্বাচনে লড়তে এখানে প্রার্থী হয়েছেন সাতজন। এর মধ্যে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হয়েছেন মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী, জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম। এ ছাড়া স্বতন্ত্র হিসেবে নির্বাচনে আছেন মোহাম্মদ লিয়াকত আলী। তিনি দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ও গন্ডামারা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন। বিএনপির ‘বিদ্রোহী’ হিসেবে তিনি আলোচনায় আছেন।