
পাহাড় আর ঝরনা একসঙ্গে দেখার জন্য দারুণ এক গন্তব্য খাগড়াছড়ি। রাঙামাটির সাজেক যেতে হয় খাগড়াছড়ি হয়ে। সাধারণত বর্ষা মৌসুমে পাহাড় ঘেরা খাগড়াছড়িতে পর্যটকের দেখা মিললেও এবারের ঈদের ছুটিতে প্রত্যাশা অনুযায়ী পর্যটক নেই। খাগড়াছড়ির অধিকাংশ হোটেল-মোটেল খালি পড়ে আছে। তবে রেস্তোরাঁ ও পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে স্থানীয় পর্যটকদের আনাগোনা চোখে পড়ার মতো।
পার্বত্য যানবাহন মালিক সমিতির সভাপতি নির্নেমেষ দেওয়ান বলেন, প্রতিবছর ঈদের ছুটিতে তাঁদের লাইনের দুই শ থেকে তিন শ গাড়ি পর্যটক নিয়ে যায় বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রে। এ বছর সমিতির আওতাধীন ৫০টির বেশি গাড়ি চলাচল করছে না। এভাবে পর্যটক না এলে গাড়ির মালিক ও চালকেরা না খেয়ে থাকবেন।
খাগড়াছড়ি হোটেল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক এস অনন্ত বিকাশ ত্রিপুরা বলেন, খাগড়াছড়ির বেশির ভাগ হোটেল-মোটেলের ৫০ শতাংশও বুকিং হয়নি এই ঈদের ছুটিতে।
তবে স্থানীয় পর্যটকদের সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছেন রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ীরা। খাগড়াছড়ি শহরের রেস্তোরাঁ সিস্টেমের কর্মচারী আচিং মারমা বলেন, ঈদের ছুটিতে রেস্তোরাঁয় চাপ বেড়েছে কয়েক গুণ। একপর্যায়ে খাবার শেষ হয়ে গেলে অনেকে খাবার না পেয়ে চলে যান। আগত পর্যটকদের বেশির ভাগই স্থানীয়।
আলুটিলা পর্যটনকেন্দ্রের টিকিট বিক্রেতা কোকোনাথ ত্রিপুরা বলেন, ঈদের দিন পর্যটক না এলেও পরদিন অনেকে বেড়াতে এসেছেন। এই পর্যটনকেন্দ্রে শুক্রবার কথা হয় গুইমারা উপজেলার সাইফুল ইসলামের সঙ্গে। তিনি বলেন, এমনিতে পরিবার-পরিজন নিয়ে বেড়ানো হয় না। ঈদ উপলক্ষে দুটি পিকআপ ভাড়া নিয়ে ২৩ জন মিলে ঘুরতে এসেছেন আলুটিলায়।
ঢাকা থেকে বেড়াতে আসা মাহাফুজা শারমিন বলেন, ‘অনেক দিন থেকে পরিকল্পনা করেছিলাম ঈদের পরদিন খাগড়াছড়ি ঘুরতে আসব। তাই হোটেল বুকিং করেছিলাম। আলুটিলা পর্যটনকেন্দ্রের গুহা এক কথায় অসাধারণ।’
খাগড়াছড়ির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহামুদা বেগম বলেন, পর্যটকদের নিরাপত্তার স্বার্থে পর্যটনকেন্দ্রগুলোয় ২৪ ঘণ্টা পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পর্যটকেরা যেন নিরাপদে ভ্রমণ উপভোগ করতে পারেন, সে জন্য পুলিশ সদস্যরা তৎপর আছেন।