ভেড়ামারায় সাবেক জাসদ নেতা ও ভেড়ামারা পৌরসভার সাবেক মেয়র আনোয়ারুল কবির
ভেড়ামারায় সাবেক জাসদ নেতা ও ভেড়ামারা পৌরসভার সাবেক মেয়র আনোয়ারুল কবির

জাসদের রাজনীতি ছাড়া সাবেক মেয়রের ওপর হামলা, মাথায় ১১ সেলাই

সন্ত্রাসী হামলার শিকার হয়েছেন কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা পৌরসভার সাবেক মেয়র আনোয়ারুল কবির। তাঁর মাথায় পড়েছে ১১টি সেলাই, বর্তমানে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। গতকাল শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে ভেড়ামারা শহরে তিনি এ হামলার শিকার হন।

আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর মেয়রের পদ হারান আনোয়ারুল কবির। জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) হয়ে তিনি রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। ভেড়ামারা উপজেলা জাসদের সদস্য ছিলেন আনোয়ারুল। এ ছাড়া যুব জোটের সহসভাপতি এবং কেন্দ্রীয় যুব জোটের সাংস্কৃতিক সম্পাদক ছিলেন তিনি। ২৯ জুন নিজ বাড়িতে সংবাদ সম্মেলন করে দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম ও দলীয় সব পদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দেন আনোয়ারুল। পদত্যাগের ঘোষণার কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই তিনি হামলার শিকার হলেন।

নওদাপাড়া এলাকার স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা সোহাগ, চাঁদগ্রাম এলাকার সিজারসহ কয়েকজন তাঁকে হত্যার উদ্দেশ্যে আক্রমণ করে। জাসদ ক‌রে রাস্তায় প্রকা‌শ্যে ঘু‌রে বেড়া‌নো যা‌বে না, জা‌নি‌য়ে বৃহস্প‌তিবার রা‌তেও সোহাগ হুম‌কি দি‌য়েছি‌লেন। হামলার সময় গুলিও ছোড়া হয়েছিল।
আনোয়ারুল কবির, সাবেক জাসদ নেতা

আনোয়ারুল কবিরের দাবি, তাঁর ওপর হামলার নেতৃত্বে ছিলেন ভেড়ামারা উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব এস এস আল হোসাইন সোহাগ। যদিও এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন স্বেচ্ছাসেবক দলের ওই নেতা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে ভেড়ামারা শহরের গোডাউন মোড় এলাকার একটি চায়ের দোকানে বসে কথা বল‌ছি‌লেন আনোয়ারুল কবির। এ সময় কয়েকটি মোটরসাইকেলে করে কয়েকজন ব্যক্তি এসে তাঁর ওপর হামলা চালায়। চাইনিজ কুড়াল দিয়ে তাঁর মাথায় কোপ দেওয়া হয়। তাঁকে রক্ষা করতে গিয়ে আরও কয়েকজন আহত হন। পরে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়, রাতেই উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়।

আনোয়ারুল কবির প্রথম আলোকে বলেন, নওদাপাড়া এলাকার স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা সোহাগ, চাঁদগ্রাম এলাকার সিজারসহ কয়েকজন তাঁকে হত্যার উদ্দেশ্যে আক্রমণ করে। জাসদ ক‌রে রাস্তায় প্রকা‌শ্যে ঘু‌রে বেড়া‌নো যা‌বে না, জা‌নি‌য়ে বৃহস্প‌তিবার রা‌তেও সোহাগ হুম‌কি দি‌য়েছি‌লেন। হামলার সময় গুলিও ছোড়া হয়েছিল। ধারালো অস্ত্রের আঘাতে তাঁর মাথায় ১১টি সেলাই পড়েছে। হামলার সময় তাঁর সঙ্গে থাকা দুলাল ও নুরু নামের দুই ব্যক্তিও আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেবেন ব‌লে জানান আনোয়ারুল।

আনোয়ারুলের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা সোহাগ প্রথম আলোকে বলেন, ‘সম্পর্কে আমরা মামা-ভাগনে। তাঁর সঙ্গে ভালো সম্পর্ক আমার। তিনি যে অভিযোগ এনেছেন, তা সত্য নয়। আমি একটি দায়িত্বশীল পদে থেকে এমনটা কেন করতে যাব? আর তিনিই (আনোয়ারুল কবির) কেন এমন অভিযোগ করছেন, বুঝতে পারছি না। তাঁর অভিযোগ মিথ্যা, ভিত্তিহীন। আমি আগামী পৌর নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী। এ জন্য সামাজিক কাজ করছি। জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে তিনি এমন কথা বলছেন।’

ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে গুলির কোনো আলামত না পাওয়ার দাবি করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কেউ অভিযোগও করেননি। প্রথম আলোকে ভেড়ামারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুহাম্মদ জাহেদুর রহমান বলেন, ‘জেনেছি পেছন থেকে আনোয়ারুল কবিরের ওপর আক্রমণ হয়েছে। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’