
কক্সবাজার শহরতলিতে টানা ভারী বৃষ্টির মধ্যে পাহাড়ধসে লিমা আক্তার (২৫) নামের এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন তাঁর স্বামী জসিম উদ্দিন। তাঁকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার বেলা দুইটার দিকে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভের দরিয়ানগর সৈকতের বিপরীতে বড়ছড়া পাহাড়ের হাজিঘোনা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এলাকাটি কক্সবাজার সদর উপজেলার ঝিলংজা ইউনিয়নের অন্তর্গত।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ আলী বলেন, ভারী বৃষ্টির সময় পাহাড়ের একটি অংশ ধসে জসিম উদ্দিনের টিনের ঘরের ওপর পড়ে। এতে মাটিচাপা পড়ে লিমা আক্তারের মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় জসিম উদ্দিনকে উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সেখানে তাঁর চিকিৎসা চলছে।
ওসি আরও বলেন, ওই এলাকায় আরও কেউ মাটিচাপা পড়ে আছেন কি না, তা নিশ্চিত হতে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের কর্মীরা উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. রুবেল বলেন, সকাল থেকে টানা বৃষ্টি হচ্ছিল। বড়ছড়া এলাকার বিভিন্ন পাহাড়ে ছোট-বড় ভূমিধসের ঘটনা ঘটছিল। বেলা দুইটার দিকে হঠাৎ পাহাড়ের একটি অংশ ধসে জসিম উদ্দিনের বাড়ির ওপর পড়ে। স্থানীয় লোকজন দ্রুত মাটি সরিয়ে দম্পতিকে উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক লিমা আক্তারকে মৃত ঘোষণা করেন। জসিম উদ্দিনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
পরিবারের সদস্যরা জানান, প্রায় ১৪ বছর আগে জসিম উদ্দিনের সঙ্গে লিমা আক্তারের বিয়ে হয়। এর পর থেকে তাঁরা বড়ছড়ার হাজিঘোনা এলাকায় বসবাস করছিলেন। তাঁদের এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। জীবিকার জন্য স্বামী-স্ত্রী দুজনই কয়েক বছর ধরে সমুদ্রসৈকতের সুগন্ধা পয়েন্টে ভাজা মাছ বিক্রি করতেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, পাহাড়ঘেঁষা হাজিঘোনা ও বড়ছড়া এলাকায় মূলত নিম্ন আয়ের শ্রমজীবী মানুষের বসবাস। গত দুই দিনের ভারী বৃষ্টিতে দুই গ্রামের অন্তত ১২টি স্থানে ভূমিধসের ঘটনা ঘটেছে। এতে পাহাড়ের পাদদেশে থাকা কয়েকটি ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ভারী বৃষ্টিতে শহর ও শহরতলির বিভিন্ন পাহাড়ে ভূমিধসের ঝুঁকি বেড়েছে উল্লেখ করে কক্সবাজার সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাহমিনা আক্তার বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে লোকজনকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে। এ বিষয়ে মাইকিংসহ বিভিন্নভাবে সচেতনতামূলক প্রচারণাও চালানো হচ্ছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসন, ফায়ার সার্ভিস ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা কাজ করছেন।
এর আগে গত রোববার দিবাগত রাতে জেলার বিভিন্ন স্থানে পাহাড়ধস ও মাটির দেয়াল ধসে কক্সবাজার শহরে একজন, উখিয়ার রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে আটজন এবং পেকুয়ায় এক শিশুসহ মোট ১০ জনের মৃত্যু হয়।