অর্ধগলিত লাশটি আজ পুরোনো কবর থেকে উদ্ধার করা হয়। আজ মঙ্গলবার বিকেলে শরীয়তপুর সদর উপজেলার চরচটাং গ্রামে
অর্ধগলিত লাশটি আজ পুরোনো কবর থেকে উদ্ধার করা হয়। আজ মঙ্গলবার বিকেলে শরীয়তপুর সদর উপজেলার চরচটাং গ্রামে

শরীয়তপুরে উদ্ধার হওয়া লাশটি নিখোঁজ মন্টুর বলে শনাক্ত করেছে পরিবার

শরীয়তপুর সদর উপজেলার চরচটাং গ্রামে এক নিখোঁজ ব্যক্তির খোঁজে তদন্তে নেমে গতকাল পুরোনো কবরে একটি অর্ধগলিত লাশ পায় পুলিশ। আজ মঙ্গলবার বিকেলে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে পুলিশ কবর থেকে লাশটি উদ্ধার করেছে। উদ্ধার হওয়া লাশটি ওই নিখোঁজ ব্যক্তির বলে শনাক্ত করেছে তাঁর পরিবার।

নিখোঁজ ওই ব্যক্তির নাম মন্টু ব্যাপারী (৬৬)। তিনি শরীয়তপুর সদর উপজেলার আংগারীয়া ইউনিয়নের চরচটাং গ্রামের বাসিন্দা। উদ্ধার হওয়া লাশের শরীরে থাকা কাপড়চোপড় দেখে স্বজনেরা আজ তাঁর পরিচয় শনাক্ত করেছেন। তিনি ২৬ দিন ধরে নিখোঁজ ছিলেন।

শরীয়তপুর সদরের পালং মডেল থানা সূত্রে জানা যায়, মন্টু ব্যাপারীর মা–বাবা মারা গেছেন। তিনি ওই গ্রামেই তাঁর মামাবাড়িতে থাকতেন। তিনি বিভিন্ন জায়গায় শ্রমিকের কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। তিনি একাধিক বিয়ে করেছেন। কিন্তু তাঁর সঙ্গে কোনো স্ত্রী ও সন্তান থাকেন না।

পুলিশ জানায়, গত ২৭ মার্চ মন্টু নিখোঁজ হন। তাঁর বোন মিনারা বেগম বিভিন্ন স্থানে তাঁকে খুঁজে না পেয়ে ১৪ এপ্রিল পালং মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। ঘটনাটির তদন্ত করছিলেন আংগারীয়া পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) সুধাংশু সরকার। গতকাল সোমবার ওই পুলিশ কর্মকর্তা ঘটনাটি তদন্ত করতে নিখোঁজ মন্টুর মামাবাড়িতে যান। সেখানে গিয়ে প্রথমে একটি পরিত্যক্ত ঘরের মধ্যে একটি বড় গর্ত দেখতে পান। এরপর বাড়ির পেছনের দিকে মন্টুর মামা শাহেদ আলী মাদবরের কবর থেকে দুর্গন্ধ পান। পাঁচ বছরের পুরোনো ওই কবর থেকে দুর্গন্ধ ছড়ানোর বিষয়ে তাঁর সন্দেহ হয়। তখন কবরের একটি অংশ খুঁড়ে দেখা হয়। সেখানে এক ব্যক্তির অর্ধগলিত লাশ পাওয়া যায়। ঘটনার পর মন্টুর মামাতো ভাই ফারুক ব্যাপারী পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বাড়ি থেকে পালিয়ে যান।

মঙ্গলবার কবর থেকে লাশটি উদ্ধারের জন্য জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে আবেদন করে পুলিশ। জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মেহেদী হাসানের উপস্থিতিতে পুলিশ মঙ্গলবার বিকেলে ওই কবর থেকে অর্ধগলিত লাশটি উদ্ধার করে। সন্ধ্যায় ময়নাতদন্তের জন্য লাশটি শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

মন্টু ব্যাপারী

মন্টুর বোন মিনারা বেগম প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমার ভাই নিখোঁজ হওয়ার পর বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেছি। যখন তাকে পাওয়া যাচ্ছিল না, তখন আমি মামাবাড়ির যে ঘরটিতে সে থাকত, সেখানে আসি। সেখানে কিছু সন্দেহজনক বিষয় দেখতে পেয়ে পুলিশকে জানাই। পুলিশ আজ আমার মামার কবর খুঁড়ে ভাইয়ের লাশ উদ্ধার করেছে। তার চেহারা চেনা যাচ্ছিল না। কিন্তু শরীরের কাপড় দেখে চিনতে পেরেছি। আমার ভাইয়ের জমি ও ঘর বিক্রি নিয়ে ঝামেলা চলছিল। এ কারণে হয়তো তাকে মেরে ফেলা হয়েছে।’

পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ আলম প্রথম আলোকে বলেন, ‘কেন, কারা ও কী উদ্দেশ্যে তাঁকে হত্যা করে কবরে রেখেছিল, সে বিষয়ে আমরা তদন্ত শুরু করেছি। এ ঘটনায় এখনো কোনো মামলা হয়নি।’