র‍্যাবের হাতে আটক ডাকাত দলের সদস্য জাবেদ ইকবাল ওরফে বিহারি বাদল
র‍্যাবের হাতে আটক ডাকাত দলের সদস্য জাবেদ ইকবাল ওরফে বিহারি বাদল

বাসে উঠে সন্দেহ হয় এরা যাত্রী নয়, কিছু দূর যেতেই বুকে ছুরি ধরে চায় ৫ লাখ টাকা

নারায়ণগঞ্জে ফেরার জন্য গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় ময়মনসিংহের ভালুকা থেকে বাসে উঠেছিলেন জাহাঙ্গীর আলম। কিন্তু কিছু দূর যাওয়ার পরই তাঁর মনে হলো, বাস থাকা কয়েকজন আসলে সাধারণ যাত্রী নয়। কিছুক্ষণ পর তাঁর সেই সন্দেহ সত্যি হয়। আসল যাত্রীদের কাছ থেকে টাকা ও মুঠোফোন কেড়ে নিয়ে রাস্তায় নামিয়ে দেওয়া শুরু করে বাসে থাকা ডাকাত দলটি। এরপর জাহাঙ্গীরকে আটকে রেখে চলে নির্দয় মারধর। বুকে ছুরি ঠেকিয়ে দাবি করা হয় পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ।

বাঁচার আশায় ছোট ভাই ও সহকর্মীদের ফোন করেন জাহাঙ্গীর আলম। তাঁদের কাছ থেকে বিকাশের মাধ্যমে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা ডাকাতদের দেন। তাঁর এটিএম কার্ডও ছিনিয়ে নেয় তারা। কিন্তু তাতেও মেলেনি মুক্তি। বাকি টাকার জন্য জাহাঙ্গীরকে জিম্মি করেই বাসটি ঢাকার আবদুল্লাহপুর ঘুরে আবার ময়মনসিংহের দিকে রওনা হয়।

র‍্যাব সূত্রে জানা গেছে, জাহাঙ্গীর তাঁর ভাইকে ফোন করে দ্রুত দুই লাখ টাকা ওই বিকাশ নম্বরে পাঠাতে বলেন। এ সময় জাহাঙ্গীর আরও বলেন, ‘বেঁচে থাকলে তোর টাকা ফেরত দিয়ে দেব।’

জাহাঙ্গীরের এ কথায় সন্দেহ হলে ছোট ভাই শাহারুল আলম বিষয়টি র‍্যাবকে জানান। বিকাশে টাকা পাঠানোর সূত্র ধরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় বাসটির অবস্থান শনাক্ত করে র‍্যাব-১৪। রাত ১২টার দিকে ময়মনসিংহ নগরের দিঘারকান্দা এলাকায় বাসটির পথ রোধ করে র‍্যাব।

বাসটি থামাতে র‍্যাব দুটি তল্লাশিচৌকি বসিয়েছিল। প্রথম তল্লাশিচৌকি দেখে বাসটি দ্রুতগতিতে সেটি ভেঙে পালিয়ে সামনের দিকে গেলে পরের তল্লাশিচৌকির সামনে পড়ে। এ সময় বাসটি থামিয়ে সবাই দৌড়ে পালাতে থাকে।

তবে বাকি সদস্যরা পালিয়ে গেলেও কিছু দূর দৌড়ানোর পর মূল হোতা জাবেদ ইকবাল ওরফে বিহারি বাদলকে (৪০) আটক করে র‍্যাব। বাস থেকে উদ্ধার করা হয় জাহাঙ্গীরকে। এ সময় বাসটিতে তল্লাশি চালিয়ে উদ্ধার করা হয় দেশীয় ধারালো অস্ত্র। আটক জাবেদ ইকবাল ময়মনসিংহ নগরের পাটগুদাম মদের ডিপো এলাকার বাসিন্দা।

ভুক্তভোগী জাহাঙ্গীর আলম সোনালী লাইফ ইনস্যুরেন্সের নারায়ণগঞ্জ ইউনিটের ইনচার্জ হিসেবে কর্মরত। তাঁর বাড়ি বরগুনার আমতলী এলাকায়। জাহাঙ্গীর প্রথম আলোকে বলেন, তিনি অফিসের কাজে ভালুকায় গিয়েছিলেন। কাজ শেষে সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে নারায়ণগঞ্জ ফেরার উদ্দেশে মহাসড়কের পাশে দাঁড়িয়ে বাসে ওঠেন।

জাহাঙ্গীর বলেন, বাসে ওঠার কিছুক্ষণ পরই বুঝতে পারি, দুই-তিনজন সাধারণ যাত্রী ছাড়া বাকি সাত-আটজনই চক্রের সদস্য। সাধারণ যাত্রীদের মোবাইল ফোন ও টাকা কেড়ে নিয়ে নামিয়ে দেওয়া হয়। তিনি বলেন, ‘পরে বাসের জানালা-পর্দা বন্ধ করে আমাকে মারধর শুরু করে তারা। ছুরি ধরে বলা হয়, পাঁচ লাখ টাকা না দিলে মেরে ফেলা হবে। বাধ্য হয়ে বিকাশে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা এনে দিলেও তারা পুরো টাকার দাবিতে আবদুল্লাহপুর ঘুরে আবার ময়মনসিংহের দিকে গাড়ি চালাতে থাকে।’

চলন্ত বাস ব্যবহার করে চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে যাত্রীদের জিম্মি ও মুক্তিপণ আদায় করে আসছিল বলে জানান র‍্যাব-১৪ ময়মনসিংহের কোম্পানি কমান্ডার মো. সামসুজ্জামান। তিনি বলেন, ভুক্তভোগীর ভাইয়ের তথ্যের ভিত্তিতে প্রযুক্তির সাহায্যে বাসের গতিবিধি অনুসরণ করা হয়। বাসটি ত্রিশাল পেরিয়ে ময়মনসিংহ বাইপাসের দিকে আসার সময় তল্লাশিচৌকি বসিয়ে দিঘারকান্দা এলাকায় সেটিকে থামানো হয়।

র‍্যাবের এই কর্মকর্তা আরও বলেন, মূল হোতা জাবেদ ইকবালের বিরুদ্ধে ১০টির বেশি ডাকাতির মামলা রয়েছে। এর আগেও তিনি র‍্যাবের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। তিনি বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি সহযোগীদের নাম প্রকাশ করেছেন। তাঁদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। আটক আসামিকে থানায় হস্তান্তর করা হবে।