নেত্রকোনার কলমাকান্দায় কিশোরীকে (১৫) ধর্ষণের অভিযোগে করা মামলা তুলে নিতে বাদীকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। মামলার একমাত্র আসামিকে এখনো গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। এতে কিশোরীর পরিবার আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। পরিবারের সদস্যরা আসামিকে দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।
আসামি জাহাঙ্গীর আলমের (২৩) বাড়ি কলমাকান্দা উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নে।
স্থানীয় বাসিন্দা, পুলিশ ও ভুক্তভোগীর পরিবারের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ১৪ মে সকালে ওই কিশোরী বাড়িতে একা ছিল। তার দুই ভাই মাদ্রাসায় ও বাবা হাওরে ধান কাটতে যান। মা ছিলেন তাঁর বাবার বাড়ি। এ সুযোগে সকাল সাড়ে সাতটার দিকে আসামি জাহাঙ্গীর আলম ঘরে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দেন। পরে গামছা দিয়ে কিশোরীর হাত ও মুখ বেঁধে জোরপূর্বক তাকে ধর্ষণ করেন। ওই দিন বিকেলে মেয়েটির মা বাদী হয়ে জাহাঙ্গীর আলমকে একমাত্র আসামি করে কলমাকান্দা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। আজ বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে চারটা পর্যন্ত আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।
মেয়েটির মা অভিযোগ করেন, পুলিশ আসামিকে গ্রেপ্তার করেনি। আসামিপক্ষের লোকজন মামলা তুলে নিতে হুমকি দিচ্ছেন। এতে তাঁরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তিনি বলেন, ‘আমি গরিব মানুষ। জাহাঙ্গীর আমার মেয়েটির সর্বনাশ করল। এখন তার লোকজন আপস মীমাংসার প্রস্তাবসহ মামলা তুলে নিতে ভয়ভীতিসহ বিভিন্নভাবে হুমকি দিচ্ছেন। মামলার পর প্রথম দিকে পুলিশ এলাকায় গিয়ে খোঁজখবর নিলেও পরে তেমন কোনো অগ্রগতি দেখা যায়নি। এ নিয়ে খুব আতঙ্কে আছি। আমি তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’
এ বিষয়ে জানতে আসামি জাহাঙ্গীর আলম ও তাঁর বাবার মুঠোফোনে কল দিলে বন্ধ পাওয়া যায়।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কলমাকান্দা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নূর আলম বলেন, ‘ঘটনার পর থেকেই আসামি পলাতক। তাঁকে গ্রেপ্তারে পুলিশ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। বাদীপক্ষকে হুমকি দেওয়া বা আপসের জন্য চাপ প্রয়োগের বিষয়টি আমাদের জানানো হয়নি। আশা করছি, দ্রুত আসামিকে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।’