কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ
কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ

ভোটের মাঠে ‘ডাবল হ্যাটট্রিক’ করা মুরাদনগরের ‘দাদাভাই’ কায়কোবাদ মন্ত্রী হচ্ছেন

সংসদ সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠানের পরপরই নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের আমন্ত্রণ জানানো শুরু করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। মন্ত্রিসভার সদস্য হিসেবে আমন্ত্রণ পেয়েছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ। সবকিছু ঠিক থাকলে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা-৩ (মুরাদনগর) আসনে বিজয়ী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ ধর্মমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন—এমনটাই জানিয়েছে তাঁর ঘনিষ্ঠ সূত্র।

নামে শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ হলেও মুরাদনগরের সর্বস্তরের মানুষের কাছে তিনি ‘দাদাভাই’ হিসেবেই পরিচিত। কায়কোবাদ মন্ত্রী হচ্ছেন—এমন খবরে তাঁর নির্বাচনী এলাকা কুমিল্লার মুরাদনগরে আনন্দের বন্যা বইছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনসহ নিজের দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে এখন পর্যন্ত ছয়বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। সেই হিসাবে এবারের বিজয়ের মধ্য দিয়ে কায়কোবাদ ‘ডাবল হ্যাটট্রিক’ করেছেন।

কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ মুরাদনগর সদরের মুরাদনগর গ্রামের বাসিন্দা। তাঁর পিতা প্রয়াত কাজী নোমান আহমেদ এবং মাতা প্রয়াত ছৈয়দা রশিদা বেগম। ১৯৫৬ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি জন্মগ্রহণ করেছেন তিনি। সেই হিসাবে বর্তমানে তাঁর বয়স ৭০ বছর।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ তরুণ বয়সে ১৯৮৬ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে সর্বপ্রথম কুমিল্লা-৩ আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৮৮ সালে জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। ১৯৯০ সালে তৎকালীন সরকারের ধর্ম প্রতিমন্ত্রী ছিলেন তিনি। এরপর ১৯৯৬ সালের জুনের নির্বাচনেও লাঙ্গল প্রতীকে তৃতীয়বারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। ২০০১ ও ২০০৮ সালের নির্বাচনে চতুর্থ ও পঞ্চমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন বিএনপির প্রার্থী হিসেবে। সর্বশেষ ১২ ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে ষষ্ঠবারের মতো সংসদে যাচ্ছেন তিনি। দীর্ঘ জীবনে সাতবার ভোটে লড়েছেন এই জ্যেষ্ঠ রাজনীতিক। যার মধ্যে শুধু ১৯৯১ সালের নির্বাচনে একবারই হেরেছেন তিনি। বর্তমানে কুমিল্লাতে যাঁরা সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন, তাঁদের মধ্যে একমাত্র মুরাদনগরের ‘দাদাভাই’ খ্যাত কায়কোবাদ ষষ্ঠবারের মতো সংসদে যাচ্ছেন।

১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা-৩ আসনে মোট ৯ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এর মধ্যে কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ৫৯ হাজার ২৯১ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ইউসুফ সোহেল দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ১ লাখ ৯ হাজার ৫৯৫ ভোট।

মুরাদনগরের বাসিন্দা তৌহিদুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ‘দীর্ঘ বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনে দাদাভাই অনেক ত্যাগ ও সংগ্রাম করেছেন। এই মুরাদনগরে যত উন্নয়ন হয়েছে, তার প্রায় সবই কায়কোবাদের হাত ধরে হয়েছে। এলাকার মানুষকে তিনি কখনো ভুলে যাননি। যার কারণে মানুষও তাঁকে ভালোবেসে এখন পর্যন্ত ছয়বার নির্বাচিত করেছেন। এবার তিনি মন্ত্রী হচ্ছেন, এই খুশি এখন মুরাদনগরের প্রতিটি ঘরে ঘরে। আমাদের বিশ্বাস দাদাভাই এবার সারা দেশেই আলো ছড়াবেন।’

মঙ্গলবার মন্ত্রিসভার সদস্য হিসেবে ডাক পাওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ শপথের পরই বিস্তারিত কথা বলবেন বলে জানান।

এর আগে ষষ্ঠবারের মতো নির্বাচিত হয়ে নিজের প্রতিক্রিয়ায় কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ বলেন, ‘আমি সব সময় বলি, আমি নিজেকে এই মুরাদনগরের মানুষের খাদেম মনে করি। আমি নিজেকে তাঁদের কামলা মনে করি। ইনশা আল্লাহ আজীবন মানুষের খাদেম হিসেবেই থাকতে চাই। এর বাইরে আমার আর কোনো চাওয়া-পাওয়া নেই। আমি সবাইকে নিয়ে আধুনিক মুরাদনগর গড়তে চাই।’