
চট্টগ্রাম নগরের জলাবদ্ধতা নিরসনে আরও দুটি প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে। নতুন দুটি প্রকল্পের খসড়া ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ হাজার ৮৭১ কোটি টাকা। তবে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা প্রতিবেদন চূড়ান্ত হওয়ার পর এই খরচ আরও বাড়তে পারে। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন করবে।
দুটি প্রকল্পের মধ্যে একটি হচ্ছে ৩৬টি খালের রক্ষণাবেক্ষণ ও সংস্কার। প্রাথমিকভাবে এ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৩২২ কোটি টাকা। বর্তমানে এসব খালে জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের কাজ চলছে। চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) নেওয়া এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেড। এ প্রকল্পে নগরের সব কটি খাল অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। ফলে জলাবদ্ধতার বাইরে থাকা খালগুলো নিয়ে আরেকটি পূর্ণাঙ্গ প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে। ২১টি খালের সংস্কার ও উন্নয়নে খরচ হবে ৩ হাজার ৫৪৯ কোটি টাকা।
গত বুধবার দুপুরে নগরের টাইগারপাসে সিটি করপোরেশনের অস্থায়ী প্রধান কার্যালয়ে দুটি প্রকল্পের প্রাথমিক ব্যয় এবং কাজের তথ্য উপস্থাপন করা হয়। এ সময় প্রধান অতিথি ছিলেন সিটি করপোরেশনের মেয়র শাহাদাত হোসেন। ছিলেন বিশেষজ্ঞ ও সিটি করপোরেশনের প্রকৌশলীরা। একটি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান জলাবদ্ধতা নিরসনে নেওয়া দুটি প্রকল্পের প্রাক্-উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা (পিডিপিপি) তৈরি করছে।
চট্টগ্রাম নগরের জলাবদ্ধতা নিরসনে বর্তমানে চারটি প্রকল্পের কাজ চলমান। ৮ থেকে ১০ বছর ধরে প্রকল্পগুলোর কাজ চলছে। এর মধ্যে সিডিএর দুটি, সিটি করপোরেশন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের একটি করে প্রকল্প রয়েছে। এসব প্রকল্পের মোট ব্যয় ১৪ হাজার ৩৮৯ কোটি টাকা। গত মার্চ পর্যন্ত এসব প্রকল্পে খরচ হয়েছে ১০ হাজার ৪০৮ কোটি টাকা।
সিটি করপোরেশনের প্রকৌশলীরা জানান, দুটি প্রকল্পের প্রাথমিক কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এখন বিশেষজ্ঞ ও প্রকৌশলীদের মতামতের ভিত্তিতে সংযোজন-বিয়োজন করা হবে। চলতি মাসের মধ্যে ডিপিপি চূড়ান্ত করার চেষ্টা করছেন তাঁরা। এরপর স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। এরপর প্রকল্প অনুমোদনে আরও কয়েকটি ধাপ রয়েছে। চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে প্রকল্পগুলো জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদন হতে পারে বলে তাঁরা আশাবাদী।
চট্টগ্রাম নগরের জলাবদ্ধতা নিরসনে বর্তমানে চারটি প্রকল্পের কাজ চলমান। ৮ থেকে ১০ বছর ধরে প্রকল্পগুলোর কাজ চলছে। এর মধ্যে সিডিএর দুটি, সিটি করপোরেশন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের একটি করে প্রকল্প রয়েছে। এসব প্রকল্পের মোট ব্যয় ১৪ হাজার ৩৮৯ কোটি টাকা। গত মার্চ পর্যন্ত এসব প্রকল্পে খরচ হয়েছে ১০ হাজার ৪০৮ কোটি টাকা।
সিডিএর চলমান প্রকল্পের আওতায় থাকা ৩৬ খালের রক্ষণাবেক্ষণ, পুনঃখনন, বর্জ্য অপসারণ ও দীর্ঘমেয়াদি ব্যবস্থাপনার জন্য পাঁচ বছর মেয়াদি প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে। এই প্রকল্পের প্রস্তাবিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৩২২ কোটি ৩০ লাখ টাকা। এই টাকায় খাল পুনঃখনন, পলি অপসারণ, বর্জ্য পরিবহন, যন্ত্রপাতি কেনা, খালের সীমানা সুরক্ষা ও পরিবেশ ব্যবস্থাপনার কাজ থাকবে।
এই ৩৬ খালের মোট দৈর্ঘ্য ১১০ দশমিক ৩৩ কিলোমিটার। এসব খালের দৈর্ঘ্য আধা কিলোমিটার থেকে ছয় কিলোমিটার পর্যন্ত। কিছু খালের দৈর্ঘ্য এর বেশি রয়েছে। বর্তমানে খালগুলোর গড় গভীরতা শূন্য দশমিক ৮ থেকে আড়াই মিটার পর্যন্ত। প্রকল্প চলাকালে ১৬ লাখ ঘনমিটার পলি উত্তোলন করা হবে। প্রকল্পের প্রথম বছরে ১১২ কোটি টাকা খরচ করার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে এই ব্যয় আরও বাড়বে বলে জানিয়েছেন সিটি করপোরেশনের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আবু সাদাত মোহাম্মদ তৈয়ব। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ব্যয় আবার পর্যালোচনা করা হবে। কিছু খাত ধরা হয়। আবার কিছু খাতে ব্যয় ধরা হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম। তাই ব্যয় কমপক্ষে এক থেকে দেড় হাজার কোটি টাকা হতে পারে।
৩৬ খালের বাইরে থাকা খালগুলোর মধ্যে ২১টি নিয়ে আরেকটি প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে। খালগুলোর দৈর্ঘ্য ৩৪ দশমিক ৭৫ কিলোমিটার। এ প্রকল্পের আওতায় ২১টি খালের উন্নয়ন ও সংস্কারকাজে ব্যয় ধরা হয়েছে ২ হাজার ৫৭৮ কোটি টাকা। এতে খালের দুই পাশে প্রতিরোধ দেয়াল নির্মাণ করা হবে। জমি অধিগ্রহণে ৫৮ কোটি টাকা, জোয়ার প্রতিরোধক ফটক (টাইডাল রেগুলেটর) ও পাম্প স্টেশন স্থাপনে ৫৭ কোটি, সেবা সংস্থার পাইপলাইন স্থানান্তর ও সড়কে ৩৭ কোটি, পরিবেশগত ব্যবস্থাপনা ও জিআইএসের জন্য ৫৩ কোটি এবং সৌন্দর্যবর্ধনে ৭৭ কোটি টাকা ব্যয় করা হবে।
চট্টগ্রাম নগরের জলাবদ্ধতা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসা প্রকৌশলী দেলোয়ার মজুমদার ও শাহরিয়ার খালেদ বলেন, চট্টগ্রাম নগরে এই ২১টি খালের বাইরে আরও খাল রয়েছে। জলাবদ্ধতা নিরসন করতে হলে অন্য খালগুলোও প্রকল্পের আওতায় আনতে হবে।
সিটি করপোরেশনের মেয়র শাহাদাত হোসেন বলেন, কিছু কাজ হওয়ায় এবারের বর্ষায় চট্টগ্রাম তুলনামূলক স্বস্তিদায়ক অবস্থায় থাকবে। জলাবদ্ধতা কমাতে হলে খালগুলো সচল রাখা, দখলমুক্ত করা ও পরিষ্কার রাখা জরুরি। চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা সমস্যাকে শুধু খাল পরিষ্কার বা দু-একটি প্রকল্প দিয়ে দেখা যাবে না। এটির পূর্ণাঙ্গ সমাধান দরকার। তিনি বলেন, জলাবদ্ধতা মোকাবিলায় খাল, নালা, ড্রেন, স্লুইসগেট, খাল দখল, খাল সরু হয়ে যাওয়া—সব বিষয় একসঙ্গে বিবেচনায় নিতে হবে।
৩৬ খালের রক্ষণাবেক্ষণের জন্য নেওয়া প্রকল্পের বিষয়ে মেয়র বলেন, এখন যে ব্যয় ধরা হয়েছে তার হিসাব আরও পুনর্বিবেচনা করা দরকার। আর যে ২১টি খালের কথা বলা হলো, তা পুনর্বিবেচনা করতে হবে। যেসব খাল তালিকায় আসেনি, সেগুলো যুক্ত করতে হবে। এর সংখ্যা ৪০ থেকে ৫০ হতে পারে। যাচাই-বাছাই করে তা চূড়ান্ত করতে হবে।