সিলেট জেলা জামায়াত আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান। আজ শুক্রবার দুপুরে সিলেট নগরের মিরবক্সটুলা এলাকার একটি কমিউনিটি সেন্টারে
সিলেট জেলা জামায়াত আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান। আজ শুক্রবার দুপুরে সিলেট নগরের মিরবক্সটুলা এলাকার একটি কমিউনিটি সেন্টারে

লোকেরা বলছেন—আপনারা হারেননি, আপনাদের হারিয়ে দেওয়া হয়েছে: জামায়াতের আমির

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘আমরা যেখানেই যাচ্ছি, লোকেরা বলছেন—আপনারা হারেননি, আপনাদের হারিয়ে দেওয়া হয়েছে।’

আজ শুক্রবার দুপুরে সিলেট নগরের মিরবক্সটুলা এলাকায় একটি কমিউনিটি সেন্টারে সিলেট জেলা জামায়াত আয়োজিত ‘উপজেলা শুরা ও কর্মপরিষদ সদস্যদের শিক্ষাশিবির’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শফিকুর রহমান এ কথা বলেন।

নির্বাচনে ফলাফল প্রসঙ্গে শফিকুর রহমান বলেন, ‘যদিও জামায়াতে ইসলামীর জীবনে আমাদের এই অর্জন সংসদীয় রাজনীতিতে এই মাপে এই প্রথম। আমরা আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করি। এখন বলবেন যে আমাদের ক্ষতি হয়ে গেল? না, আমাদের অনেক লাভ হয়েছে। প্রথম লাভ হয়েছে যে এই প্রথম বাংলাদেশে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে একটি অর্থবহ ঐক্য হয়েছে। দ্বিতীয় লাভ হলো, এই প্রথম প্রধান বিরোধী দলের জায়গাটা আল্লাহ–তাআলা আমাদের দান করেছেন। তৃতীয় লাভ হলো, এবার আমরা ছয়টি শক্তির বিরুদ্ধে সমান্তরাল লড়াই করেছি। আমাকে সব নাম বলার দরকার নাই, আপনারা সবাই বোঝেন। ১০-১২ হাজার পর্যন্ত ভোটের ব্যবধানে আমাদের যাদেরকে হারানো হয়েছে, এটা ইচ্ছাকৃত। দু–এক জায়গায় ঘোষণা দিয়ে তারপরও ব্যবধান করে দেওয়া হয়েছে। এমনকি স্পর্শকাতর জায়গাগুলোতেও আমরা সেটা লক্ষ করেছি।’

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা জামায়াতের বিরুদ্ধে অবস্থান নেননি মন্তব্য করে জামায়াতের আমির বলেন, ‘এবারকার নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা প্রকাশ্যে বড় মাপে আমাদের বিরুদ্ধে কোনো অবস্থান নেননি; বরং বিভিন্ন জায়গায় আমরা যখন তাঁদের সাহায্য চেয়েছি, তাঁরা সিনসিয়ারলি আমাদের সাহায্য করেছেন। লোকেরা বলে যে আমাদের আশাটা পূরণ হলো না। আজকেও বিমানবন্দর দিয়ে আসার সময় লোকেরা বলেছে। আমরা বলেছি, হতাশ হবেন না। বাংলাদেশের মানুষের মুক্তির লড়াই চালিয়ে যাব।’

স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে দ্বিতীয় লড়াই মন্তব্য করে শফিকুর রহমান বলেন, ‘এখন আমাদের দ্বিতীয় লড়াই শুরু হবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে। এই লড়াইয়ে একটা জায়গাও যেন এবার খালি না থাকে। সেই জায়গাগুলোতে এই নির্বাচনে যাঁরা জীবন বাজি রেখে আমাদের পক্ষে দাঁড়িয়েছিলেন, সমাজের সেসব জায়গা থেকে ভালো লোকগুলোকে বের করে এনে তাঁদের হাতে আমরা সেই জায়গাগুলো তুলে দিতে চাই। এটা জরুরি নয় যে আমাদের আমির বা সেক্রেটারি হতে হবে। ওই কাজের জন্য যাঁরা বেশি জনগণের কাছে প্রিয় হবেন, আমরা তাঁদেরকেই জনগণের কাছে পেশ করে দেব। শুধু দুটি জিনিস আমরা দেখব। একটি হলো, তাঁর মধ্যে দেশপ্রেম আছে, আরেকটি হলো সেই মানুষটি স্বচ্ছ, অসৎ নন। এই দুটি জিনিস যদি আমরা পাই, এনাফ (যথেষ্ট)। দেশবাসীকে ইনশা আল্লাহ আমরা কিছু ভালো দিতে পারব।’