
ভোলা সদর উপজেলার দক্ষিণ দিঘলদী ইউনিয়ন বিএনপির নেতা ও বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম দলের সহসভাপতি জাকির হোসেন ফরাজীকে আটক করার প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ হয়েছে। আজ মঙ্গলবার দুপুরে সদর থানার সামনে ‘ইউনিয়নের সর্বস্তরের জনগণ’ ব্যানারে এ কর্মসূচি পালিত হয়।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যা অভিযোগে জাকির হোসেনকে আটক করা হয়েছে। একজন ভদ্রলোককে অস্ত্র, মাদকসহ আটকের পর কুখ্যাত সন্ত্রাসী বলা হচ্ছে। অথচ যাঁরা দীর্ঘদিন ধরে মেঘনার জেলেদের দুর্ভোগের কারণ, তাঁদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। তাঁরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি করেন এবং যাচাই-বাছাই ছাড়া আটক ও মারধরের প্রতিবাদ জানান।
তবে কোস্টগার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম (সুজন) বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গতকাল সোমবার দিবাগত রাত তিনটার দিকে সদর থানার ইলিশা তুলাতুলি মোহনা এলাকায় বিশেষ অভিযান চালানো হয়। এ সময় কর্ণফুলী-১৩ লঞ্চে তল্লাশি করে জাকির হোসেন (৪২) নামের এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়। তাঁর কাছ থেকে ১টি একনলা বন্দুক, ৪টি তাজা গুলি ও প্রায় ৮০ হাজার টাকা মূল্যের ২ কেজি গাঁজা জব্দ করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত বলে জানা গেছে।
আজকের মানববন্ধনে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রাইসুল আলম বলেন, ‘বিএনপি করার কারণে জাকির হোসেন বিগত ১৭ বছরে এলাকায় আসতে পারেননি। ঢাকায় থেকে জীবিকা নির্বাহ করেছেন। এখন এলাকায় ফিরে আসার পর আবার তাঁকে নিয়ে ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। তিনি মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত নন।’
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম বলেন, আটক জাকির হোসেন সদর উপজেলার কোরালিয়া খায়েরহাট এলাকার বাসিন্দা। তাঁর বিরুদ্ধে থানায় একাধিক মামলা আছে। জব্দ করা অস্ত্র ও মাদকের ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।