বাউফলে কৃষক দলের নেতার বিরুদ্ধে সাংবাদিককে লাঞ্ছনা ও হুমকির অভিযোগ

পটুয়াখালীর বাউফলে উপজেলা কৃষক দলের নেতার বিরুদ্ধে প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি অতুল চন্দ্র পালকে (৬২) লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে।

অতুল চন্দ্র পাল দৈনিক ভোরের কাগজের বাউফল উপজেলা প্রতিনিধি। তাঁর অভিযোগ, গত সোমবার সকালে বাউফল উপজেলা কৃষক দলের আহ্বায়ক মো. ফয়সাল খানের নেতৃত্বে তাঁকে বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের কক্ষে নিয়ে দরজা আটকে লাঞ্ছিত করা হয়।

অতুল চন্দ্র পাল বলেন, সোমবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তিনি তাঁর স্ত্রী অনিতা পালকে নিয়ে এক স্বজনের চিকিৎসার জন্য বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসেন। বেলা ১১টার দিকে তিনি চিকিৎসকের খোঁজে জরুরি বিভাগের সামনে দিয়ে যাচ্ছিলেন। সে সময় কৃষক দলের নেতা ফয়সাল তাঁর (অতুল) বাঁ হাত ধরে টেনে জরুরি বিভাগের একটি কক্ষে নিয়ে দরজা আটকে দেন। সেখানে তিনি (ফয়সাল) ও তাঁর ছেলে তাঁকে (অতুল) লাঞ্ছিত করেন। একপর্যায়ে ফয়সাল তাঁকে গালাগাল দিতে দিতে বলেন, ‘তুই (অতুল) হিন্দু হয়ে জামায়াতে ভোট দিছস।’

অতুল পাল আরও বলেন, তিনি সেখান থেকে বেরিয়ে তাঁর স্ত্রীকে নিয়ে মোটরসাইকেলে করে যাচ্ছিলেন। সে সময় তাঁর মোটরসাইকেল থামিয়ে ফয়সাল হুমকি দিয়ে বলেন, ‘এ বিষয়ে বাড়াবাড়ি করলে তোকে মেরে ফেলা হবে।’ এর পর থেকে তিনি ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা আতঙ্কে আছেন। আইনের আশ্রয় নিতে ভয় পাচ্ছেন।

এ বিষয়ে বাউফল উপজেলা কৃষক দলের আহ্বায়ক মো. ফয়সাল খান বলেন, তাঁকে (অতুল) লাঞ্ছিত করা ও হুমকির অভিযোগ সত্য না। তবে অতুল পালের সঙ্গে তাঁর একটা ঝামেলা আছে। তাঁর (অতুল) কারণে তাঁর তিন লাখ টাকার লোকসান হয়েছে। ওই টাকা তিনি চেয়েছিলেন।

এ বিষয়ে অতুল পাল বলেন, ফয়সালের সঙ্গে তাঁর কোনো ধরনের সম্পর্ক নেই। তবে সাত-আট বছর আগে সজল সাহা নামের এক ব্যবসায়ীর জমিতে সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ করার জন্য ফয়সাল চাঁদা চেয়েছিলেন। তখন ফয়সালের স্ত্রী শামসুন্নাহার বাউফল পৌরসভার কাউন্সিলর ছিলেন। ওই সীমানাপ্রাচীর নির্মাণে অতুল সহযোগিতা করেছিলেন। নির্মাণকাজে ওই ব্যবসায়ীকে অতিরিক্ত কোনো টাকা দিতে হয়নি।

বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, সাংবাদিককে লাঞ্ছিত করার বিষয়টি মৌখিকভাবে জানানো হয়েছে। তাঁকে লিখিত অভিযোগ করতে বলা হয়েছে। কিন্তু তিনি লিখিত অভিযোগ দেননি। এরপরও প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।