
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যাঁরা বিজয়ী হয়েছেন, তাঁদের অনেকেই দেশের বিভিন্ন স্থানে পরাজিতদের ওপর হামলে পড়েছেন। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর অনেক নেতা-কর্মীর ওপর আক্রমণ করা হচ্ছে, বাড়িঘরে আগুন দেওয়া হচ্ছে, নির্মমভাবে আঘাত করা হচ্ছে।
আজ রোববার চট্টগ্রামে বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সম্মানে ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন মিয়া গোলাম পরওয়ার। নগরের জিইসি কনভেনশন হলে এ আয়োজন করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর চট্টগ্রাম শাখা। এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ শাহজাহান।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘একটি নতুন বাংলাদেশ নির্মাণের জন্য আমরা সবাই মিলে রক্তে গড়া জুলাই জাতীয় সনদ এবং সংস্কার প্রস্তাব পাস করার মধ্য দিয়ে, সুস্থ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার উত্তরণের মধ্য দিয়ে যে নতুন অভিযান করা শুরু করেছি; সেখানে আমাদের সবার কমিটমেন্ট ছিল যে রাজনীতিতে সহনশীলতা, পরমত সহিষ্ণুতা, একে অপরকে মেনে নেওয়া। কিন্তু আফসোস এবং দুর্ভাগ্য, বিজয়ীরা যদি পরাজিতদের প্রতি সেই উদাহরণ রাখতে না পারেন, তাহলে সেই প্রত্যাশা পূরণ হয় না।’
গোলাম পরওয়ার আরও বলেন, জামায়াতে ইসলামী চুয়াডাঙ্গায় যে দুটি আসনে জয়ী হয়েছে, সেখানে পরাজিতদের ওপর কোনো হামলা হয়নি; বরং তাঁরা একটি শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ পরিবেশ বজায় রেখেছেন। অথচ অনেক আসনে বিজয়ীরা জামায়াতের নেতা-কর্মীদের ওপর চড়াও হচ্ছেন।
জামায়াতের আমির শফিকুর রহমানের বক্তব্য উদ্ধৃত করে সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, ‘সাইকেলে দুটি চাকা থাকে। তেমনি একটা সরকারের দুটি চাকা থাকে। সরকারি দল আর বিরোধী দল। দুটি চাকার মধ্যে সমন্বয়, সংহতি, সহযোগিতার মধ্য দিয়ে সরকারের চাকাটাও সামনের দিকে এগিয়ে চলে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমরা সে উদাহরণ সরকারি দলের পক্ষ থেকে দেখতে পাচ্ছি না; বরং এখনো মামলা করা হচ্ছে, অভিযোগ করা হচ্ছে।’
ইরানের পরিস্থিতি তুলে ধরে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘এই মাহে রমজানের মধ্যবর্তী সময় এসে সব মুমিনের হৃদয়ে আজ রক্তক্ষরণ হচ্ছে। ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি, তাঁর পরিবারসহ সরকারি উচ্চপর্যায়ের লোকদের একের পর এক হত্যা করা হয়েছে। ফিলিস্তিনের মুক্তিসংগ্রামী স্বাধীনতার যোদ্ধাদের ওপর হামলা করে হত্যা করা হয়েছে। আমরা এর নিন্দা জানাই।’
নগর জামায়াতের আমির মুহাম্মদ নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি মেয়র শাহাদাত হোসেন, চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক আবু সুফিয়ান, চট্টগ্রাম-১৫ আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী। এ ছাড়া নগর জামায়াতের নেতা-কর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন।