নাটোরের গুরুদাসপুরে কাছারিপাড়ায় নিহত ছাত্রদল নেতা শাকিল ইসলামের বাড়িতে গিয়ে তাঁর পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দেন। আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে
নাটোরের গুরুদাসপুরে কাছারিপাড়ায় নিহত ছাত্রদল নেতা শাকিল ইসলামের বাড়িতে গিয়ে তাঁর পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দেন। আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে

নাটোরে নিহত ছাত্রদল নেতার বাড়িতে সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী, বিচারের আশ্বাস

সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন বলেছেন, যেকোনো মূল্যেই ছাত্রদল নেতা শাকিল হত্যার বিচার হবে। হত্যাকারী সে যেই হোক না কেন, সে অপরাধী। তার কোনো দল নেই, তার কোনো দেশ নেই। তার সাজা হবেই। আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে নাটোরের গুরুদাসপুরে কাছারিপাড়ায় নিহত শাকিল ইসলামের বাড়িতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

এ সময় প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন নিহত শাকিল ইসলামের শোকাহত বাবা, মা ও স্ত্রীকে সান্ত্বনা দেন এবং হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করার আশ্বাস দেন। এর আগে তিনি শাকিলের কবর জিয়ারত করেন।

ওই ঘটনায় পুলিশের ভূমিকার সমালোচনা করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমি পিজি (বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়) হাসপাতালে ওকে (শাকিল ইসলাম) দেখতে গিয়েছি। তখন ওর বাবার সাথে আমার কথা হয়। ওর বাবা তখনই আমাকে জানিয়েছিলেন, পুলিশ বেশ গাফিলতি করছে। পুলিশ যদি ওর স্টেটমেন্ট (জবানবন্দি) কালেক্ট (সংগ্রহ) করত, তাহলে আমরা অনেক কিছুই দ্রুত জানতে পারতাম।’

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘ওই সময় আমি শুনলাম, যে বাদী যে নামটা (আসামি) দিয়েছেন, সেই নাম বাদ দিয়ে অজ্ঞাতনামা করে মামলা করতে বলা হয়েছে। তখনই ওসির সাথে, এসপির সাথে কথা বলেছি। আমি তাঁদের বলেছি, ইমিডিয়েট (তাৎক্ষণিক) তদন্ত করে কে অপরাধী বের করেন। যাদের নাম দেওয়া হয়েছে, তদন্তে যদি অপরাধী না হয়, তাহলে ফাইনাল রিপোর্ট (তদন্ত প্রতিবেদন) দিয়ে দেবেন। বাদী যে নাম দিয়ে মামলা করেছেন, সেই নাম বাদ দিয়ে মামলা হলে তা ইনলিগ্যাল (অবৈধ) হবে। এটা আপনি করতে পারেন না।’

নাটোরের চাঞ্চল্যকর বাবু হত্যা মামলার প্রসঙ্গ টেনে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ২০১৩ সালে বনপাড়ায় বাবুকে (বনপাড়ার পৌর মেয়র) হত্যা করা হয়েছিল। সেই মামলার বিচার এখনো হয়নি। ওনার হত্যাকারীরা এখনো ঘুরে বেড়াচ্ছে। এখন আমরা দেখছি, কীভাবে তাদের শাস্তির আওতায় আনা যায়।’ তিনি উপস্থিত সবাইর উদ্দেশে বলেন, ‘শাকিল হত্যার বিচার হবে। হতেই হবে। এভাবে চলতে দেওয়া যায় না। এই ঘটনা যেন অন্যদিকে কেউ নিতে না পারে, কোনো ষড়যন্ত্র করতে না পারে। যেকোনো মূল্যে শাকিল হত্যার বিচার হবে।’

নিহত শাকিল ইসলাম গুরুদাসপুর পৌর ছাত্রদলের সদস্যসচিব ছিলেন। ১৪ অক্টোবর রাতে দুর্বৃত্তরা তাঁকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। ১২ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর গত সোমবার তাঁর মৃত্যু হয়। হামলার পর শাকিলের বাবা রবিউল করিম ১৯ অক্টোবর অজ্ঞাতপরিচয় ৮-১০ জনকে আসামি করে গুরুদাসপুর থানায় মামলা করেন। এ নাটোর-৪ (গুরুদাসপুর-বড়াইগ্রাম) আসনের বিএনপিদলীয় সংসদ সদস্য আবদুল আজিজের বড় ছেলে নূরুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

নাটোরের গুরুদাসপুরে নিহত শাকিল ইসলামের কবর জিয়ারত করেন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলামসহ অন্য নেতারা। আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে

‘একটি পক্ষ সন্ত্রাসীদের বাঁচানোর চেষ্টা করছে’

নিহত শাকিল ইসলামের বাড়িতে গিয়েছেন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলামসহ অন্য নেতারা। তাঁরা আজ বিকেল চারটার দিকে শাকিলের কবর জিয়ারত করেন এবং মোনাজাতে অংশ নেন। পরে তাঁরা উপজেলা সদরের কাছারিপাড়ায় নিহত শাকিলের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করেন এবং সমবেদনা জানান।

এ সময় রাকিবুল ইসলাম বলেন, ‘এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে পুরোপুরি যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী রাসেল হোসাইন জড়িত রয়েছেন বলে আমরা জানতে পেরেছি। তাঁর হুকুমেই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। তদন্তের মাধ্যমে তাঁকে বিদেশ থেকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করার দাবি করছি।’

রাকিবুল ইসলাম আরও বলেন, একটি পক্ষ সন্ত্রাসীদের বাঁচানোর চেষ্টা করছে। তাঁরা শাকিলের প্রকৃত হত্যাকারীদের বিচার হোক, তা চান না।

এ সময় কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শ্যামল মালুম, সহসভাপতি নিজাম উদ্দিন, যুগ্ম সম্পাদক মমিনুল ইসলাম, নাটোর জেলা যুবদলের সভাপতি কামরুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক মারুফ হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।