সাঁথিয়ার করমজা চতুরহাটে ১ লাখ ২৫ হাজার টাকায় গরু বিক্রির পর টাকা গুনে নিচ্ছেন খামারি আমোদ আলী। পাশে গরুর পিঠে হাত দিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন ক্রেতা দুলাল হোসেন। মঙ্গলবার দুপুরে
সাঁথিয়ার করমজা চতুরহাটে ১ লাখ ২৫ হাজার টাকায় গরু বিক্রির পর টাকা গুনে নিচ্ছেন খামারি আমোদ আলী। পাশে গরুর পিঠে হাত দিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন ক্রেতা দুলাল হোসেন। মঙ্গলবার দুপুরে

পাবনার বেড়া ও সাঁথিয়া

ভালো দামে গরু বিক্রি করতে পেরে স্বস্তিতে খামারিরা

এক বছর ধরে কোরবানির ঈদের জন্য একটি গরু লালন-পালন করেছিলেন পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার আফতাবনগর ছেঁচানিয়া গ্রামের আমোদ আলী। ঈদের আগে কয়েকজন ব্যাপারী তাঁর বাড়িতে গিয়ে গরুটির দাম বলেছিলেন এক লাখ টাকার মতো, কিন্তু তিনি গরু বিক্রি করেননি। অপেক্ষায় ছিলেন শেষ দিকের হাটের। শেষ পর্যন্ত অপেক্ষা বৃথা যায়নি। মঙ্গলবার সাঁথিয়ার করমজা চতুরহাটে তিনি গরুটি ১ লাখ ২৫ হাজার টাকায় বিক্রি করেছেন।

আমোদ আলী বলেন, ‘বছরখানেক আগে গরুডা ৫৫ হাজার টাকায় কিনছিল্যাম। এরই মধ্যে গোখাদ্যের দাম ম্যালা বাড়িছে। গরু পালন করতি খরচও বেশি গেছে। কিন্তু এবার গত বছরের তুলনায় গরুর দাম ভালো। তাই খরচ বাদ দিয়্যাও লাভ থাকতেছে। কয়েক বছর পর গরু পালনে ভালো লাভ হইল।’

দেশের অন্যতম গবাদিপশু উৎপাদনকারী এলাকা হিসেবে পরিচিত পাবনার বেড়া ও সাঁথিয়ায় এবার গরু বিক্রি করে খুশি খামারিরা। তাঁদের ভাষ্য, গত কয়েক বছরে গোখাদ্য, ওষুধ ও শ্রমিকের খরচ বাড়লেও সেভাবে গরুর দাম বাড়েনি। এতে অনেক সময় লোকসানও গুনতে হয়েছে। তবে এবার বাজারের পরিস্থিতি পুরো ভিন্ন। কোরবানির হাটে গরুর চাহিদা বেশি থাকায় বেশির ভাগ খামারি ভালো দাম পেয়েছেন। ইতিমধ্যেই দুই উপজেলার অধিকাংশ গরু বিক্রি হয়ে গেছে।

আজ সাঁথিয়ার করমজা চতুরহাটে গিয়ে দেখা যায়, ঈদের আগে শেষ হাট হওয়ায় ব্যাপক ভিড়। সকাল থেকেই ট্রাক, নছিমন ও নৌকা করে এবং পায়ে হেঁটে গরু নিয়ে আসেন খামারিরা। হাটজুড়ে ক্রেতা-বিক্রেতাদের হাঁকডাক। কেউ দরদাম করছেন, কেউ গরু দেখছেন। আবার কেউ বিক্রি শেষে টাকা গুনছেন।

বেড়ার দক্ষিণ পাড়া এলাকার খামারি আবদুল আউয়াল বলেন, ‘গত বছর যে গরু ১ লাখ ২০ হাজার টাকায় বিক্রি করছি, এবার সেই ধরনের গরু ১ লাখ ৫০ হাজার থেকে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকায় বিক্রি হইতেছে। তাই এবার খামারিরা খুশি।’

বেড়া পৌর এলাকার বৃশালিখা মহল্লার ব্যবসায়ী মোমিন মোল্লা দীর্ঘদিন ধরে বেড়া-সাঁথিয়া থেকে গরু কিনে ঢাকার কোরবানির হাটে বিক্রি করেন। এবারের বাজার সম্পর্কে মোমিন মোল্লা বলেন, ‘এবার এলাকার খামারিদের কাছ থেকে গত বছরের তুলনায় ২০ থেকে ২৫ শতাংশ বেশি দামে গরু কেনা লাগিছে। এতে খামারিদের লাভ ভালোই হইছে। তবে আমরা (ব্যাপারীরা) বেশি দামে গরু কেনার পর ঢাকায় নিয়্যা খুব একটা লাভ পাতেছি না।’

ব্যবসায়ীরা বলছেন, এবার গরুর দাম বেশি হওয়ার পেছনে কয়েকটি কারণ আছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো গোখাদ্যের মূল্যবৃদ্ধি। খড়, ভুসি, কাঁচা ঘাস, ভুট্টা ও ওষুধের খরচ বাড়ায় গরু পালন ব্যয়বহুল হয়ে গেছে। অন্যদিকে ভারতীয় গরু না আসায় স্থানীয়ভাবে পালন করা গরুর চাহিদা এবার বেশি। দেশের বিভিন্ন এলাকার ব্যাপারীরা আগেভাগেই বেড়া ও সাঁথিয়ার হাটগুলোতে এসে গরু কিনে নিয়ে গেছেন।

সাঁথিয়ার করমজা চতুরহাটে গরু কিনতে আসা সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার বড় বাশুড়িয়া গ্রামের ক্রেতা দুলাল হোসেন বলেন, এবার গরুর দাম একটু বেশি। তারপরও কোরবানির জন্য ভালো গরু, বিশেষ করে স্থানীয় খামারিদের গরু কেনার প্রতিই সবার আগ্রহ। তাই দাম কিছুটা বেশি হলেও তাঁদের মতো মানুষ আগ্রহ নিয়েই গরু কিনছেন।

হাটের ইজারাদারের অংশীদার মোহসিন মল্লিক বলেন, এবার শেষ হাটে প্রচুর গরু যেমন উঠেছে, তেমনি বেচাকেনাও খুবই ভালো হচ্ছে। গত বছরগুলোর তুলনায় খামারিরা এবার ভালো দাম পেয়ে খুশিমনে বাড়ি ফিরছেন।

প্রাণিসম্পদ কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এবার সাঁথিয়ায় কোরবানির জন্য প্রস্তুত ছিল ৬৭ হাজার ৯৪৬টি গবাদিপশু। অন্যদিকে বেড়ায় ছিল ৯২ হাজার ১২০টি পশু। স্থানীয় চাহিদা পূরণ করে বিপুলসংখ্যক পশু দেশের বিভিন্ন এলাকার হাটে বিক্রি হয়েছে। বেড়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, এবার পর্যাপ্ত পশু ছিল। বাজারে চাহিদা ও দাম ভালো থাকায় খামারিরা লাভবান হয়েছেন।