নিহত আবদুল আজিজ
নিহত আবদুল আজিজ

কুমিল্লার রেললাইনে চট্টগ্রামের যুবকের গলাকাটা লাশ, পরিবারের দাবি পরিকল্পিত হত্যা

কুমিল্লায় রেললাইন থেকে চট্টগ্রামের পটিয়ার এক যুবকের খণ্ডবিখণ্ড লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। আজ শুক্রবার সকাল আটটার দিকে জেলার লালমাই রেলস্টেশন এলাকা থেকে তাঁর লাশ উদ্ধার করা হয়। পরিবারের দাবি, ওই যুবককে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে হত্যা করা হয়েছে।

নিহত যুবকের নাম আবদুল আজিজ (৩৪)। তিনি চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার খরনা ইউনিয়নের ওয়াহিদুর পাড়ার গ্রামের মৃত আবদুল আলমের ছেলে। গত বছর ইসলামী ব্যাংকের অফিসার পদ থেকে চাকরিচ্যুত হয়ে ঢাকার একটি ট্রাভেল এজেন্সিতে কাজ করে আসছিলেন তিনি। বিবাহিত আজিজের আড়াই বছর বয়সী একটি শিশুসন্তান রয়েছে।

রেল পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রেললাইনের ওপর গলাকাটা ও হাত-পা বিচ্ছিন্ন অবস্থায় আবদুল আজিজের লাশ উদ্ধার হয়। সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির পর লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে রেল পুলিশ।

আবদুল আজিজের চাচাতো ভাই সফিউল আলম জানান, আজিজ ট্রেনে করে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা দিয়েছিলেন। সর্বশেষ গতকাল রাত ৯টার দিকে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা হয় তাঁর। এ সময় পরিবারের সদস্যদের তিনি জানান, কুমিল্লা এলাকায় রয়েছেন। তবে এর পরপরই আজিজের মুঠোফোন বন্ধ হয়ে যায়। সফিউল বলেন, সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রেললাইন থেকে উদ্ধার হওয়া লাশের ছবি দেখে রেল পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। ভিডিওকলে লাশটি দেখে পরিবারের সদস্যরা নিশ্চিত হয়েছেন এটি আবদুল আজিজের।

আজিজকে খুন করা হয়েছে দাবি করে সফিউল বলেন, ‘পুলিশের সঙ্গে কথা বলে আমাদের মনে হয়েছে চট্টগ্রামমুখী ট্রেন থেকে নামানোর পর ঢাকামুখী আরেকটি ট্রেনে তুলে আবদুল আজিজকে কুপিয়ে, হাত-পা কেটে হত্যা করা হয়েছে। এরপর লাশটি ট্রেন থেকে ফেলে দেওয়া হয়।’ তিনি বলেন, চাকরিচ্যুত ব্যাংককর্মীদের চাকরি ফেরত চেয়ে যে আন্দোলন, সেখানে সমন্বয়ক হিসেবে রয়েছেন আজিজ। হয়তো এ কারণেই তাঁকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।

জানতে চাইলে লাকসাম রেলওয়ে থানার উপপরিদর্শক মাসুদুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, স্টেশন মাস্টারের কাছ থেকে খবর পেয়ে আমরা লাশটি উদ্ধার করেছি। ট্রেনে কাটা পড়ে ওই যুবকের মৃত্যু হয়েছে, নাকি এটি হত্যাকাণ্ড, ময়নাতদন্তের পর তা নিশ্চিত হওয়া যাবে।