সবুজ ধানখেতের মাঝে একেকটি বাড়ি বা গ্রামকে দ্বীপ মনে হয়। শুক্রবার সকালে মৌলভীবাজার সদর উপজেলার উত্তরমুলাইম গ্রামে
সবুজ ধানখেতের মাঝে একেকটি বাড়ি বা গ্রামকে দ্বীপ মনে হয়। শুক্রবার সকালে মৌলভীবাজার সদর উপজেলার উত্তরমুলাইম গ্রামে

কাউয়াদীঘি হাওরপারে ‘নকশিকাঁথার মাঠ’

মৌলভীবাজার সদর উপজেলার কাউয়াদীঘি হাওরপারে এখন দিগন্তজোড়া সবুজের মুগ্ধতা। যেদিকেই চোখ যায়, শুধু ধানের খেত—কোথাও গাঢ় সবুজ, কোথাও হালকা সবুজ বা সোনালি আভা। প্রকৃতি যেন নিজেই এঁকেছে একেকটি ফসলি খেত। ভালো ফলনের আশায় থাকা কৃষকের চোখে–মুখে এখন আছে বৈশাখের ঝড়-বৃষ্টির শঙ্কাও।

শুক্রবার সকালে মনু নদ সেচ প্রকল্পের আওতাধীন কাউয়াদীঘি হাওরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, মাঠজুড়ে ধানের সমারোহ। একাটুনা ইউনিয়নের উত্তরমুলাইম, মল্লিকসরাই, বরমানসহ বিভিন্ন এলাকায় ধান রয়েছে ভিন্ন ভিন্ন পর্যায়ে। কোথাও ধানে থোড় এসেছে, কোথাও ফুল ফুটেছে, আবার কোথাও ধানের ছড়া দানাদার হয়ে পাকার অপেক্ষায়। দূর থেকে খেতগুলোকে নকশিকাঁথার মতোই সাজানো মনে হয়।

হাওরপারের গ্রামগুলো সবুজের মাঝখানে দ্বীপের মতো দাঁড়িয়ে আছে। সকালে অনেক কৃষককে খেতের আল ধরে ধানের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করতে দেখা গেছে। কেউ কেউ আধা পাকা ধান কেটে নিচ্ছেন।

উত্তরমুলাইম গ্রামের কৃষক মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘ধান তো ভালো অইছে দেখছি। সময়মতো বৃষ্টি দিছে, আবহাওয়া ভালো আছিল। ধানে পোকাটোকা ধরে নাই। আর কিছুদিনের মধ্যেই ধান পাকব। তবে ধানের দর নিয়া চিন্তা আছে।’

কোথাও ধানে থোড় এসেছে

জেলাজুড়ে একই চিত্র। গিয়াসনগর, মোস্তফাপুর, আখাইলকুরা, রাজনগরের মনসুরনগর, পাঁচগাঁও, ফতেহপুর ইউনিয়নসহ বিভিন্ন এলাকায় ধানের খেত সবুজে ভরা। কিছু স্থানে ধান পেকে যাওয়ায় কৃষকেরা কাস্তে হাতে ইতিমধ্যে নেমেছেন মাঠে। হাওরপারের গ্রামগুলোতে মোটামুটি ধান কেটে তোলার সময় ঘনিয়ে আসছে।

তবে চৈত্রের মাঝামাঝি থেকে হওয়া বৃষ্টিতে হাওরের নিচু এলাকার কিছু জমিতে পানি জমে ধান তলিয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল। পরে পানি চলাচলের পথে থাকা বাঁধ কেটে দেওয়ায় পরিস্থিতির উন্নতি হয়। মনু নদ সেচ প্রকল্পের কাশিমপুর পাম্পহাউস চালু থাকায় বড় ধরনের ক্ষতি এড়ানো গেছে।

রাজনগরের পাঁচগাঁও ইউনিয়নের শিক্ষক অজয় ঘোষ বলেন, ‘ধানের খেতের দিকে তাকালে মন ভরে যায়। আমাদের নিজের খেতসহ আশপাশের সব খেতেই ভালো ফসল হয়েছে। হাওরের (কাউয়াদীঘি) যেদিকেই তাকাই শুধু ধানই তো দেখি।’

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, এ বছর জেলায় ৬২ হাজার ৪০০ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষ হয়েছে। ব্রি ধান-৯২, ১০৮, ২৯ ও ২৮ জাতের ধান বেশি আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৩০ শতাংশ জমির ধান এখন থোড় অবস্থায়, ১৫ শতাংশে ফুল রয়েছে এবং বেশির ভাগ জমির ধান পুষ্ট হয়ে গেছে। ইতিমধ্যে প্রায় সাড়ে চার হাজার হেক্টর জমির ধান কাটা হয়েছে।

জেলার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক জালাল উদ্দিন বলেন, ‘সামগ্রিকভাবে ধানের ফলন ভালো। মাঝেমধ্যে বৃষ্টি হলেও বড় সমস্যা হয়নি। তবে ভারী বৃষ্টি বা শিলাবৃষ্টি হলে ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। আশা করছি, দুই সপ্তাহের মধ্যে হাওরের ধান কাটা শেষ করা যাবে।’