
ঠাকুরগাঁও-১ (সদর) আসনের প্রার্থী ও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম ভোট দিয়েছেন। আজ বৃহস্পতিবার সকালে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দেওয়ার পর তিনি বলেন, ‘এই নির্বাচন নির্ধারণ করবে আগামীর বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ, রাজনীতি কোন দিকে যাবে। বাংলাদেশে আজকে গণতন্ত্রের যাত্রা নতুন করে শুরু হলো।’
আজ সকাল সাড়ে ৭টার পর ঠাকুরগাঁও সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয় প্রাঙ্গণে পৌঁছান মির্জা ফখরুল। এরপর তিনি ভোটকক্ষে প্রবেশ করেন এবং ভোট দেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে স্ত্রী রাহাত আরা বেগম, দুই মেয়ে শামারুহ মির্জা ও মির্জা সাফারুহ, ছোট ভাই জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমিনসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
ভোট দেওয়ার পর মির্জা ফখরুল বলেন, ‘১৫ বছর পর ফ্যাসিস্ট শাসনের অবসানের পরে আল্লাহর রহমতে এই দেশে জাতীয় সংসদ নির্বাচন পেয়েছি। একটা শুভদিন আসছে। এই নির্বাচন জাতির ইতিহাসে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই নির্বাচন নির্ধারণ করবে আগামীর বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ ও রাজনীতি কোন দিকে যাবে। বাংলাদেশে আজকে গণতন্ত্রের যাত্রা নতুন করে শুরু হলো। আমরা আশা করি, এই পথ মসৃণভাবে আগামী দিনগুলোয় বাংলাদেশের মানুষের জীবন, রাজনীতি ও অর্থনীতিকে অভীষ্ট লক্ষ্যের দিকে নিয়ে যাবে।’
বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘আমরা আজ অত্যন্ত আনন্দিত। অনেক বাধা-বিপত্তি পেরিয়ে, অনেক রক্তপাতের মধ্য দিয়ে, অনেক ত্যাগের মধ্য দিয়ে আজকের এই দিনটির সূচনা হয়েছে। এই দিনটির জন্য দেশের মানুষকে অনেক ত্যাগ স্বীকার করতে হয়েছে।’ তিনি বলেন, বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া দীর্ঘ আন্দোলনের পর তাঁদের ছেড়ে চলে গেছেন। লাখ লাখ মানুষ পুলিশের হাতে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, গুম হয়েছেন, হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। চব্বিশের জুলাইয়ে প্রায় দুই হাজার ছাত্র-জনতা-কৃষক-শ্রমিক প্রাণ হারিয়েছেন। এই আত্মত্যাগের পরে আজকের এই নির্বাচন। তিনি আশা করছেন, নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ হবে। এই নির্বাচন বাংলাদেশের জন্য একটা নতুন অধ্যায় শুরু করবে।
জেলা নির্বাচন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ঠাকুরগাঁও-১ আসনে ভোটার ৫ লাখ ১১ হাজার ৬২৯ জন। এ আসনে তিনজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাঁরা হলেন বিএনপির মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, জামায়াতে ইসলামীর দেলাওয়ার হোসেন ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের খাদেমুল ইসলাম।