নিহত মো. নজরুল ইসলাম
নিহত মো. নজরুল ইসলাম

ময়মনসিংহে স্বতন্ত্র প্রার্থীর কর্মীকে ছুরিকাঘাতে হত্যায় মূল অভিযুক্তরা গ্রেপ্তার হননি

ময়মনসিংহ-১ (হালুয়াঘাট-ধোবাউড়া) আসনে বিএনপির ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থীর এক সমর্থককে ছুরিকাঘাতে হত্যার ঘটনায় মূল অভিযুক্তকে আজ রোববার সকাল পর্যন্ত গ্রেপ্তার করা যায়নি।

হত্যার ঘটনায় এ পর্যন্ত তিনজন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হলেও মূল অভিযুক্তরা ধরাছোঁয়ার বাইরে। আজ বিকেলে হালুয়াঘাটে মানববন্ধন কর্মসূচি করবে স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকেরা।

ময়মনসিংহ-১ আসনে দলের মনোনয়নবঞ্চিত হয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হন ময়মনসিংহ উত্তর জেলা বিএনপির সদস্য সালমান ওমর। এ আসনে বিএনপির দলীয় প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন কেন্দ্রীয় বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স।

ধোবাউড়া উপজেলার এরশাদ বাজারে সালমান ওমরের নির্বাচনী কার্যালয়ের উদ্বোধন নিয়ে কথা–কাটাকাটির জেরে গত শুক্রবার সন্ধ্যায় তাঁর কর্মী নজরুল ইসলামকে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করা হয়। তাঁর বাড়ি উপজেলার দক্ষিণ মাইজপাড়া ইউনিয়নের বাকপাড়া রামসিংহপুর গ্রামে।

পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, স্বতন্ত্র প্রার্থী সালমান ওমরের কার্যালয়টি উদ্বোধনের কিছুক্ষণ পর সন্ধ্যা ছয়টার দিকে সেখানে হামলা চালায় বিএনপির প্রার্থীর সমর্থক আজহারুল ইসলাম ও আবদুল্লাহ আল নোমানের নেতৃত্বে একটি দল। এ সময় কার্যালয়ের সামনে থাকা নজরুল ইসলামকে (৪০) ছুরিকাঘাত করেন নোমান। হামলায় নেতৃত্ব দেওয়া নোমান উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মফিজ উদ্দিনের নাতি। আজহারুল ইসলাম বিএনপির কর্মী। নোমান যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। মফিজ উদ্দিন বয়সের কারণে কিছুটা নিষ্ক্রিয় হলেও এমরান সালেহর বলয়ে রাজনীতি করেন। তাঁর ছেলে ফরহাদ আল রাজী উত্তর জেলা যুবদলের সহসম্পাদক এবং ধোবাউড়া উপজেলা যুবদলের সভাপতি পদপ্রার্থী।
এ ঘটনায় নিহত ব্যক্তির ছেলে মো. সোলাইমান বাদী হয়ে গতকাল শনিবার ধোবাউড়া থানায় একটি মামলা করেন। ওই মামলায় ৩৮ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতপরিচয় আরও ২০-২৫ জনকে আসামি করা হয়।

ঘটনার পরপরই ঘোষগাঁও ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মো. আদম আলী ও বিএনপির সদস্য মো. দুলাল মিয়া নামের দুজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে শনিবার দুপুরে ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মো. ইব্রাহিমকে গ্রেপ্তার করা হয়।

ধোবাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, তিনজন আসামির বাইরে নতুন কোনো গ্রেপ্তার নেই। ছুরিকাঘাত করা মূল অভিযুক্ত নোমান ঘটনার পর থেকে পলাতক। তাঁকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।