হাতিয়া থানা
হাতিয়া থানা

মাথা ও মুখে জখম, হাত ভাঙা, গৃহবধূর লাশ রেখে পালালেন স্বামী

নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার হরণী ইউনিয়নের আল-আমিন গ্রামের একটি বাড়ি থেকে এক গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তাজ নাহার (৩২) নামের ওই গৃহবধূর মাথা, মুখমণ্ডল ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন ছিল। ভেঙে দেওয়া হয়েছিল হাতও। আজ বৃহস্পতিবার সকাল নয়টার দিকে ওই গৃহবধূর মৃত্যুর পরপরই তাঁর স্বামী মো. মিলন (৩৫) গা ঢাকা দেন। খবর পেয়ে বিকেল সাড়ে চারটার দিকে মোরশেদ বাজার তদন্তকেন্দ্রের পুলিশ ওই নারীর লাশ উদ্ধার করে। সন্ধ্যায় ময়নাতদন্তের জন্য ওই নারীর লাশ জেলা সদরের ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

হাতিয়া থানার পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পারিবারিক কলহের জের ধরে তাজ নাহারকে তাঁর স্বামী মো. মিলন পিটিয়ে মারাত্মকভাবে আহত করেন। এতে ওই নারীর মাথা, মুখমণ্ডল ও শরীরের বিভিন্ন অংশে গুরুতর জখম হয়। এ ছাড়া পিটুনিতে তাঁর ডান হাতের কবজি ভেঙে যায়। সকাল ছয়টার দিকে তাজ নাহার স্বামীর বাড়িতে জ্ঞান হারান। পরে সকাল নয়টার দিকে স্থানীয় পল্লিচিকিৎসকের কাছে নেওয়ার পথে তাঁর মৃত্যু হয়। এ ঘটনার পর মো. মিলন পালিয়ে যান। পরে স্বজনেরা খবর পেয়ে লাশ বাড়িতে নিয়ে যান। কিন্তু মৃত্যুর বিষয়টি হাতিয়া থানার পুলিশকে জানানো হয় বিকেল চারটার দিকে। খবর পেয়ে বিকেল সাড়ে চারটার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে।

ঘটনাস্থল পরিদর্শনকারী মোরশেদ বাজার তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. শহিদ উল্যাহ প্রথম আলোকে বলেন, বিকেলে খবর পাওয়ার পরপরই তাঁরা ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করেন। নিহত নারীর মাথা, মুখে, শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাত ছিল। ডান হাতের কবজি ভাঙা পাওয়া যায়। স্বজনদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী পারিবারিক কলহের জের ধরে নিহত নারীর স্বামী মো. মিলন নারীকে বেধড়ক পিটিয়েছেন। ওই পিটুনিতেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার পর থেকে স্বামী মিলন পলাতক।

হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কবির হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, পারিবারিক কলহের জের ধরে স্বামীর পিটুনিতে তাজ নাহার নামের এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে তথ্য পাওয়া গেছে। ঘটনাটি সকালের দিকে ঘটলেও থানা-পুলিশকে জানানো হয় বিকেল চারটার দিকে। তাৎক্ষণিক পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহত নারীর লাশ উদ্ধার করে। ঘটনার পর থেকে ওই নারীর স্বামী পলাতক। নারীর লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় নিহত নারীর পরিবারকে লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে। তাঁরা শুক্রবার নদীপথ পাড়ি দিয়ে থানায় আসবেন। তাঁদের অভিযোগের আলোকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তবে অভিযুক্ত স্বামীকে গ্রেপ্তারে এরই মধ্যে পুলিশ কাজ শুরু করেছে।