নিহত তানভীর শেখ
নিহত তানভীর শেখ

প্রধান আসামির জবানবন্দি

মারধরের প্রতিশোধ নিতে রাজবাড়ীতে কলেজছাত্র তানভীরকে হত্যা

রাজবাড়ীতে কলেজছাত্র তানভীর শেখ হত্যা মামলায় প্রধান আসামি সবুজ ব্যাপারী দোষ স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন মারধর করার প্রতিশোধ নিতে তিনি ও তাঁর লোকজন তানভীরকে ছুরি মেরে হত্যা করেছেন।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাজবাড়ীর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে জবানবন্দি দেন সবুজ ব্যাপারী (২২)। রাতে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন বিচারক। এর আগে বুধবার দিবাগত রাত ২টার দিকে ফরিদপুরের চরভদ্রাসন থানাধীন হরিরামপুর পদ্মার চর থেকে সবুজকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তিনি রাজবাড়ী শহরের বিনোদপুর এলাকার শহিদ ব্যাপারীর ছেলে।

নিহত তানভীর শেখ (১৯) রাজবাড়ী পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ড বিনোদপুর মহল্লার বাবর আলী ওরফে বাবু শেখের ছেলে। তিনি শহরের ডা. আবুল হোসেন কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন। তানভীর ৩ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রলীগের বিলুপ্ত কমিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তিনি গত জুলাই-আগস্টে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে সক্রিয় কর্মী ছিলেন।

গত ১২ নভেম্বর রাতে রাজবাড়ী শহরের বিনোদপুর এলাকায় হামলায় নিহত হন তানভীর শেখ। পরদিন ১৩ নভেম্বর তানভীরের মামা আলম শেখ বাদী হয়ে রাজবাড়ী সদর থানায় মামলা করে। সবুজ ব্যাপারীসহ মোট ১০ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ৮ জনকে আসামি করা হয়। ওই দিন সন্ধ্যায় মামলার এজাহারভুক্ত দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এ ছাড়া ১৭ নভেম্বর রাতে মামলার ২ নম্বর আসামি সবুজের বন্ধু জাহিদুল ইসলাম ওরফে জিসানকে (২১) ঢাকার কেরানীগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

সবুজের জবানবন্দির বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, ২ নভেম্বর রাজবাড়ী শহরের রেলগেটসংলগ্ন স্থানীয় রঙের দোকানের সামনে অটোরিকশা রাখা নিয়ে জাহিদুলের বড় ভাই জুয়েলের সঙ্গে অটোরিকশা চালকের বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। এ ঘটনায় জাহিদুল ও নিহত তানভীর দুটি পক্ষ নিয়ে বিরোধে জড়িয়ে পড়েন। হত্যাকাণ্ডের তিনদিন আগে শহরের ড্রাইআইচ ফ্যাক্টরি এলাকায় তানভীর ও তাঁর লোকজন জাহিদুল ও সবুজকে মারধর করেন। এরপর প্রতিশোধ নিতে সুযোগের অপেক্ষায় ছিলেন সবুজ। ১২ নভেম্বর রাতে তাঁরা তানভীরকে কুপিয়ে হত্যা করেন।

রাজবাড়ী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুর রহমান বলেন, কলেজছাত্র তানভীর হত্যা মামলার প্রধান আসামি সবুজসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সবুজ এবং আগে গ্রেপ্তারকৃত ২ নম্বর আসামি জাহিদুল হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তার করার চেষ্টা চলছে।