ময়মনসিংহে বিশ্ব শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে জেলা প্রশাসন ও কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের উদ্যোগে আলোচনা সভা হয়। আজ দুপুরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের আইসিটি ল্যাবে
ময়মনসিংহে বিশ্ব শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে জেলা প্রশাসন ও কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের উদ্যোগে আলোচনা সভা হয়। আজ দুপুরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের আইসিটি ল্যাবে

ময়মনসিংহের চার জেলায় ১৯০ শিশুকে শ্রম থেকে ফেরানো হয়েছে: সরকারি তথ্য

২০২৫-২৬ অর্থবছরে ময়মনসিংহ বিভাগের চার জেলার বিভিন্ন খাতের কারখানা ও প্রতিষ্ঠান থেকে ১৯০ জন শিশুকে শ্রম থেকে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। এর মধ্যে শুধু ময়মনসিংহ জেলার বিভিন্ন কারখানা ও প্রতিষ্ঠান থেকে ১৩৩ জন শিশুশ্রমিককে ফিরিয়ে আনা হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করে ময়মনসিংহ কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের উপমহাপরিদর্শক আহমাদ মাসুদ বলেন, মাঠপর্যায়ে শিশুদের তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে দেখা গেছে, তাদের অধিকাংশই দরিদ্র পরিবার থেকে এসেছে।

গতকাল সোমবার দুপুরে বিশ্ব শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় বিগত বছরের শিশুশ্রম নিরসনে গৃহীত দাপ্তরিক কার্যক্রম তুলে ধরে এ তথ্য জানান আহমাদ মাসুদ। ‘শিশুশ্রমকে না বলি, শোভন কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করি’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের সহযোগিতায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের আইসিটি ল্যাবে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। জেলা প্রশাসন ও কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের উদ্যোগে আয়োজিত হয় এই অনুষ্ঠান।

সভায় আহমাদ মাসুদ বলেন, সামাজিক দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে শিশুশ্রমে জড়িত শিশুদের জন্য মানবিক উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। সরকারের বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির আওতায় এসব শিশুর পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) কর্মসূচির আওতায় শিশু ও তাদের পরিবারের পাশে দাঁড়াতে হবে। অন্যথায় তারা কোনো না কোনোভাবে আবারও শ্রমে নিয়োজিত হওয়ার ঝুঁকিতে থাকবে।

ময়মনসিংহ কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের উপমহাপরিদর্শক আরও বলেন, শিশুশ্রমিকদের পরিবারকে আয়বর্ধক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করতে হবে এবং শিশুদের আবার শিক্ষায় ফিরিয়ে এনে শিক্ষার মাধ্যমে পুনর্বাসনের উদ্যোগ নিতে হবে।

এর আগে দিবসটি উপলক্ষে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে থেকে একটি শোভাযাত্রার উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক সাইফুর রহমান। শোভাযাত্রাটি নগরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গিয়ে শেষ হয়। পরে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) রেজা মো. গোলাম মাসুম প্রধানের সভাপতিত্বে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।