রাজশাহী থেকে বাস চলাচল বন্ধ থাকায় ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা। পরে মঙ্গলবার রাতে বাস চলাচল শুরু হয়। নগরের শিরোইল ঢাকা বাস টার্মিনালে
রাজশাহী থেকে বাস চলাচল বন্ধ থাকায় ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা। পরে মঙ্গলবার রাতে বাস চলাচল শুরু হয়। নগরের শিরোইল ঢাকা বাস টার্মিনালে

২৫ ঘণ্টা পর রাজশাহী থেকে সব রুটের বাস চলাচল শুরু

২৫ ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর রাজশাহী থেকে দেশের সব রুটের বাস চলাচল শুরু হয়েছে। রাজশাহী মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচন নিয়ে মতানৈক্যের কারণে সোমবার রাত আটটা থেকে বাস চলাচল বন্ধ ছিল। এ নিয়ে কয়েক দফা বৈঠকের পর মঙ্গলবার রাত সাড়ে নয়টায় বাস চলাচল শুরু হয়।

বাস চালু করতে মঙ্গলবার প্রশাসনের পক্ষ থেকে শ্রমিকদের দুই পক্ষের সঙ্গে আলাদা আলাদা বৈঠক হয়। তারা বাস চালাতে সম্মত হয়। এদিক বাস বন্ধ থাকায় মঙ্গলবার দিনভর যাত্রীরা চরম ভোগান্তির মধ্যে পড়েন। দূরের গন্তব্যে যাত্রা করতে তাঁদের বিকল্প উপায় খুঁজতে হয়। অনেকে বাধ্য হয়ে যাত্রা বাতিল করেন। টার্মিনালে গিয়ে দেখা যায়, কোনো বাস সেখান থেকে বের হচ্ছে না। দূরপাল্লার বাসের কাউন্টারগুলো বন্ধ। অনেকে বাস বন্ধের বিষয়টি জানতে না পেরে কাউন্টারে এসে ফিরে যাচ্ছেন।

মূলত জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বাস চলাচল বন্ধ হয়। এই নির্বাচনে সোমবার বিকেলে শ্রমিকনেতারা জেলা প্রশাসক (ডিসি) কাজী শহিদুল ইসলামের সঙ্গে বসেছিলেন। সেখানে বেশির ভাগ শ্রমিক সাধারণ সভা করে নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠনের দাবি করেন; কিন্তু কমিটি না থাকার কারণে জেলা প্রশাসক তা নাকচ করে নিজেই নির্বাচনী কমিটি করে দেওয়ার প্রস্তাব রেখেছিলেন। জেলা প্রশাসকের সেই প্রস্তাব মানেননি শ্রমিকেরা। এ নিয়ে দুই পক্ষের কথা–কাটাকাটির পর বাস বন্ধ করে দেওয়া হয়।

এই বিরোধ চলছিল জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের নেতা রফিকুল ইসলাম (পাখি) ও মোমিনুল ইসলাম (মোমিন) পক্ষের মধ্যে। সমস্যার সমাধানে জেলা প্রশাসক শ্রমিকনেতাদের সঙ্গে আলোচনার জন্য রাজশাহী নগর পুলিশের (আরএমপি) ট্রাফিক বিভাগের উপকমিশনার নূর আলম সিদ্দিকীকে দায়িত্ব দেন। মঙ্গলবার এই পুলিশ কর্মকর্তা দুই পক্ষের সঙ্গে বৈঠকও করেন।

বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, মোমিন পক্ষের শ্রমিকদের দাবি অনুযায়ী নির্বাচনী কমিটিতে নজরুল ইসলাম (হেলাল) থাকবেন না। জেলা প্রশাসকের তত্ত্বাবধানেই নির্বাচন হবে; আর নির্বাচনকালীন ইউনিয়নের একটি আহ্বায়ক কমিটি থাকবে। এ কমিটিতে দুই পক্ষের তিনজন করে ছয়জন আর প্রশাসনের তিনজন থাকবেন। এতে দু্ই পক্ষ সম্মত হয়। সন্ধ্যায় তারা বাস চালানোর ঘোষণা দেন।

শ্রমিকনেতা মোমিনুল ইসলাম মোমিন বলেন, ‘আমরা বাস চালানোর পক্ষে। যাত্রীসাধারণের ভোগান্তি হোক এটা রফিকুল ইসলামও চান না; কিন্তু এখন আবার লিটন আলী নামের একজন বাস চালাতে দেবে না। তাকে আমি চিনতামই না আগে। কোনোদিন কোনো দায়িত্বেও ছিল না। হুট করে এসে বলছে, নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত বাস চলবে না।’

শ্রমিকনেতা রফিকুল ইসলাম পাখি শ্রমিক দলের রাজশাহী মহানগরের সভাপতি। মোমিনও বিএনপির অনুসারী। মোমিন দাবি করেন, লিটন আলী জামায়াতের অনুসারী। সে এখন বিশৃঙ্খলা করছে। আহ্বায়ক কমিটিতে তাঁকে বা তাঁর পক্ষের কাউকে রাখলে এটা হতো না।

বিষয়টি নিয়ে লিটন আলীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, জনতাকে বোঝাতে সময় লাগে। এ জন্য গাড়ি ছাড়তে দেরি হলো। তিনি রাজনৈতিক সংগঠন করেন; কিন্তু এখানে তিনি রাজনীতির পক্ষ থেকে ভূমিকা রাখেননি। তিনি শ্রমিকদের পক্ষ থেকে কথা বলেছেন, শ্রমিকদের স্বার্থে।

লিটন আলী আরও বলেন, নির্বাচনী কমিটিতে মালিক সমিতির কেউ থাকবেন না, শ্রমিক আর প্রশাসন থাকবে। এতে তিনি সম্মত হয়েছেন। রাতে আবার জেলা প্রশাসকের সঙ্গে বসার কথা আছে। তাঁরা রওনা করেছেন। আপাতত বাস চলাচল শুরু করেছে।