শীতের সকালে ঘন কুয়াশার মধ্যেই ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা নিয়ে বের হয়েছেন তোফায়েল আহমদ। যাত্রীর জন্য অপেক্ষা করছেন তিনি। আজ সকাল ৮টায় নোয়াখালী জেলা শহর মাইজদীর পুরাতন বাস স্ট্যান্ড এলাকায়
শীতের সকালে ঘন কুয়াশার মধ্যেই ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা নিয়ে বের হয়েছেন তোফায়েল আহমদ। যাত্রীর জন্য অপেক্ষা করছেন তিনি। আজ সকাল ৮টায় নোয়াখালী জেলা শহর মাইজদীর পুরাতন বাস স্ট্যান্ড এলাকায়

‘ঠান্ডার কারণে স্টিয়ারিং ধরতে হারি না, আত অবশ হই আসে’

ঘন কুয়াশার মধ্যেই যাত্রীর জন্য অপেক্ষা করছিলেন ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালক তোফায়েল আহমদ। তবে শীতের সকালে যাত্রীর দেখা পাচ্ছিলেন না। কাছে গিয়ে কথা হতেই বললেন, ‘শীতের লাই ঘরেত্তুন বাইর অইতে ইচ্ছা করে না। তবু বউ–পোলাপানের লাই ঘরেত্তুন বাইর অইছি। ঠান্ডার কারণে স্টিয়ারিং ধরতে হারি না, আত অবশ হই আসে। তবুও কী করুম, রিকশা না চালাইলে সংসার চইলতো ন।’

তোফায়েল আহমদের সঙ্গে কথা হয় নোয়াখালী জেলা শহর মাইজদীর পুরোনো বাসস্ট্যান্ড এলাকায়। তাঁর বাড়ি সদর উপজেলার কাদের হানিফ ইউনিয়নের শিবপুর গ্রামে। তোফায়েল আহমদ জানান, কয়েক দিন ধরে এলাকায় শীত বেড়েছে। অটোরিকশা নিয়ে বাইরে বের হলেও শীতের কারণে কষ্টে পড়তে হয়। ঘরেও একই অবস্থা। অন্যান্য বছর শীতে নানা মানুষ এলাকায় কম্বল বিতরণ করতেন। এবার এখন পর্যন্ত কেউ কম্বল বিতরণ করেননি। পুরোনো ছেঁড়া কাঁথা জড়িয়ে কোনোরকমে স্ত্রী-সন্তান শীত নিবারণ করছেন।

নোয়াখালীতে আজ সকালে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে ১১ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এটি চলতি শীত মৌসুমে জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রার রেকর্ড। তীব্র শীতের সঙ্গে ঘন কুয়াশার চাদরে ঢাকা পড়েছে উপকূলীয় জেলা নোয়াখালী। যে দিকেই চোখ যায় ঘন কুয়াশা ছাড়া কিছুই চোখে পড়ে না। দৃষ্টিসীমা নেমে এসেছে ৫০ থেকে ১০০ মিটারের মধ্যে।

আজ শনিবার সকাল আটটায় জেলা শহরের প্রধান সড়ক হয়ে মাইজদীর নতুন বাসস্ট্যান্ড, মাইজদী বাজার, টাউন হল মোড়, পৌর বাজার, বিশ্বনাথ ও লক্ষ্মীনারায়ণপুর এলাকা ঘুরে দেখা যায়, ঘন কুয়াশা ও শীতের কারণে মানুষজন তেমন ঘর থেকে বের হননি। যাঁরা বের হয়েছেন, তাঁরা শীতের কাপড়ে নাক-মুখ বেঁধে ছুটে চলছেন গন্তব্যে। প্রধান সড়কে দূরপাল্লার যানবাহনগুলো হেডলাইট জ্বালিয়ে ধীরগতিতে চলাচল করছে। ৫০ থেকে ১০০ মিটার দূরের গাড়িও ঠিকভাবে চোখে পড়ছে না।

ঘন কুয়াশার মধ্যে চলাচল করছে বিভিন্ন ধরনের যানবাহন। আজ সকালে সুধারাম থানার সামনে থেকে তোলা

শীতের কারণে কষ্ট বেড়েছে রিকশাচালক, ভ্যানচালক, দিনমজুর, নির্মাণশ্রমিকসহ নিম্ন আয়ের মানুষদের। মিজানুর রহমান নামের এক রিকশাচালক জানান, তাঁর বাড়ি সদর উপজেলার ধর্মপুর ইউনিয়নের ভাটিরটেক চৌমুহনী এলাকায়। শহরের লক্ষ্মীনারায়ণপুর এলাকায় একটি ছোট্ট কক্ষ ভাড়া নিয়ে থাকেন তিনি। মিজানুর রহমান বলেন, সকাল সাতটায় বের হয়েছেন রিকশা নিয়ে। সড়কের মানুষজন নেই বললেই চলে। তাই সড়কে এক ঘণ্টা অপেক্ষা করেও এক টাকা রোজগার করতে পারেননি তিনি।

নোয়াখালী জেলা আবহাওয়া পর্যবেক্ষণকেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও উচ্চ পর্যবেক্ষক মো. রফিকুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, নোয়াখালীতে আজ সকাল ছয়টায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১১ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এটিই জেলায় এ বছরের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী আগামী কয়েক দিন তাপমাত্রা একই রকম থাকতে পারে।

জেলার ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. মাসুদুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে আট হাজার কম্বল বরাদ্দ পাওয়া গেছে। এ ছাড়া ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকেও প্রায় ৪০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ওই টাকা দিয়ে কম্বল কিনে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে বিতরণ শুরু হয়েছে।