
জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলায় গরিব ও দুস্থ মানুষের জন্য বরাদ্দ ভিজিএফের চালের কার্ডের ভাগ না পেয়ে ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) প্যানেল চেয়ারম্যানকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে স্বেচ্ছাসেবক দলের এক নেতার বিরুদ্ধে। আজ মঙ্গলবার বেলা তিনটার দিকে উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে এ ঘটনা ঘটে।
মারধরের শিকার মির্জা সোহেল বকশীগঞ্জ সদর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ও প্যানেল চেয়ারম্যান। অন্যদিকে অভিযুক্ত আশিকুর রহমান উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক।
মির্জা সোহেল প্রথম আলোকে বলেন, আশিকুর রহমান ফোন করে তাঁর কাছে ভিজিএফ চালের কার্ডের ভাগ চান। জবাবে তিনি বলেন, বরাদ্দ কার্ডের ২০ শতাংশ উপজেলা বিএনপিকে দিতে হবে। আলাদা করে কাউকে ভাগ দেওয়া সম্ভব নয়। এটি জানালে তাঁকে ডেকে মারধর করেন আশিকুর রহমান।
স্থানীয় সূত্রের ভাষ্য, দুপুরে আশিকুর রহমান ও স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব শহিদুর রহমান উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা ও সদর ইউনিয়নের প্রশাসক আবদুল জলিলের কার্যালয়ে যান। সেখান থেকে আশিকুর রহমান ফোন করে মির্জা সোহেলকে। কার্যালয়ের বারান্দায় দেখা হলে ভিজিএফ কার্ডের ভাগ চাওয়াকে কেন্দ্র করে তাঁদের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে আশিকুর রহমান সোহেলকে কিলঘুষি মারেন। পরে স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করেন।
সদর ইউনিয়নের প্রশাসক আবদুল জলিল বলেন, এখনো চাল বিতরণ শুরু হয়নি, কার্ড তৈরির কাজ চলছে। এর মধ্যেই ব্যক্তিগতভাবে কার্ড চাওয়াকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি তিনি প্যানেল চেয়ারম্যানকে সঙ্গে নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) জানিয়েছেন। তবে উপজেলা বিএনপিকে ২০ শতাংশ কার্ড দেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, দলীয়ভাবে কিছু তালিকা দেওয়ার কথা শোনা গেছে, যাতে যাচাই-বাছাই করে কার্ড দেওয়া যায়।
অভিযোগ অস্বীকার করে আশিকুর রহমান বলেন, তিনি কাউকে মারধর করেননি। তাঁর সঙ্গে শুধু কথা-কাটাকাটি হয়েছে। ভিজিএফ কার্ডের ভাগ নিয়েও কোনো কথা হয়নি। একটি গোডাউনের লাইসেন্স–সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে তাঁদের মধ্যে আগের বিরোধ ছিল।
এ বিষয়ে কথা বলতে বকশীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি মানিক সওদাগরের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবদুল হাই বলেন, প্যানেল চেয়ারম্যান তাঁর কাছে অভিযোগ করেছেন। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে। চাল বা কার্ডের কোনো ভাগ দেওয়ার সুযোগ নেই। নির্ধারিত কমিটির মাধ্যমে যাচাই-বাছাই করে কার্ড বিতরণ করা হবে।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ঈদুল ফিতর উপলক্ষে উপজেলায় ভিজিএফের ৩৭ হাজার ৩০৬টি কার্ড বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি কার্ডের বিপরীতে ১০ কেজি চাল দেওয়া হবে। এর মধ্যে বকশীগঞ্জ সদর ইউনিয়ন পরিষদ পেয়েছে ১ হাজার ৫৩৭টি কার্ড। বুধবার থেকে চাল বিতরণ শুরু হওয়ার কথা আছে।