খাগড়াছড়িতে আবদুর রহমান নামের সাত বছর বয়সী এক শিক্ষার্থীকে মারধর করে হত্যার অভিযোগে একটি মাদ্রাসার শিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাঁর নাম আমিন হোসাইন। তাঁর বাড়ি খাগড়াছড়ির মানিকছড়ি এলাকায়। তিনি খাগড়াছড়ি সদরের ভুয়াছড়ির বায়তুল আমান ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষক।
গতকাল সোমবার রাতে চট্টগ্রাম নগরের চান্দগাঁও এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে খাগড়াছড়ি সদর থানার পুলিশ। পরে তাঁকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে আজ মঙ্গলবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলন করেন খাগড়াছড়ির পুলিশ সুপার মুক্তা ধর।
নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত এই সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মুক্তা ধর বলেন, পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আবদুর রহমানকে পিটিয়ে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন অভিযুক্ত মাদ্রাসাশিক্ষক। আবদুর রহমান চঞ্চল প্রকৃতির ছিল, পড়ালেখায় মনোযোগী ছিল না। তাই তাকে তার দিয়ে পেটাতেন শিক্ষক আমিন হোসাইন। মৃত্যুর দিন ও তার আগের দিন আবদুর রহমানকে কয়েক দফায় মারধর করা হয়। তাঁর পিটুনিতেই শিশুটির মৃত্যু হয়।
পুলিশ সুপার বলেন, আবদুর রহমানের মৃত্যুর পর অভিযুক্ত শিক্ষক আমিন হোসাইন আত্মগোপনে ছিলেন। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তাঁকে চট্টগ্রাম নগর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরে তাঁকে আদালতে সোপর্দ করা হয়।
নিহত আবদুর রহমান খাগড়াছড়ির পানছড়ির আইয়ুবনগর এলাকার সরোয়ার হোসেনের ছেলে। সে ভুয়াছড়ির বায়তুল আমান ইসলামিয়া মাদ্রাসার হেফজ বিভাগে পড়ত। গত রোববার মারধরে আহত অবস্থায় শিশু আবদুর রহমানকে খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করা হলে অভিযুক্ত শিক্ষক আমিন হোসাইন পালিয়ে যান।
খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালের আবাসিক স্বাস্থ্য কর্মকর্তা (আরএমও) রিপল বাপ্পী চাকমা বলেন, শিশুটির মুখমণ্ডলসহ সারা শরীরে আঘাতের চিহ্ন ছিল।