লালমনিরহাট থেকে আসা আবদুস সালাম ও দিলরুবা আক্তার দম্পতির ৮ মাস বয়সী সন্তানের হামের চিকিৎসা চলছে। আজ রোববার দুপুরে রংপুর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের শিশু বিভাগে
লালমনিরহাট থেকে আসা আবদুস সালাম ও দিলরুবা আক্তার দম্পতির ৮ মাস বয়সী সন্তানের হামের চিকিৎসা চলছে। আজ রোববার দুপুরে রংপুর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের শিশু বিভাগে

রংপুর মেডিকেলে হামে আক্রান্ত ২ শিশু ভর্তি, আলাদা কক্ষে চলছে চিকিৎসা

রংপুর মেডিকেল কলেজ (রমেক) হাসপাতালে হামে আক্রান্ত দুই শিশু ভর্তি হয়েছে। ওই দুই শিশুর বয়স ৯ মাসের নিচে। তারা ৫-৬ দিন শিশু ওয়ার্ডে চিকিৎসা নিয়েছে। তবে আজ রোববার থেকে তাদের আলাদা কক্ষে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

এই দুই শিশুর হামে আক্রান্তের বিষয়টি প্রথম আলোকে নিশ্চিত করেছেন হাসপাতালের শিশু বিভাগের প্রধান অধ্যাপক আয়েশা সুলতানা।

আয়েশা সুলতানা বলেন, ঈদুল ফিতরের সময়ও হামে আক্রান্ত আরও দুই শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। তারা চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছে।

রমেক হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, দেশের বিভিন্ন জেলায় হামের প্রাদুর্ভাব বেড়ে যাওয়ায় এই হাসপাতালে শিশু ওয়ার্ডের পাশে একটি কক্ষ আইসোলেশন করা হয়েছে। আজ সকাল থেকে হামে আক্রান্ত ওই দুই শিশুকে সেখানে স্থানান্তর করা হয়েছে।
প্রথম আলোর আজকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশে হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। অন্তত সাত জেলায় রোগটি বড় আকারে ছড়িয়ে পড়েছে। শুধু চলতি মাসেই হামে ২১টি শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, হামের ব্যাপারে যথাযথ মনোযোগ না দেওয়ায় পরিস্থিতি এ পর্যায়ে এসে পৌঁছেছে। শিশুদের হামের টিকা দেওয়ার ঘাটতি রয়েছে। হাম খুবই সংক্রামক, অতিদ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। একজন আক্রান্ত হলে তার থেকে ১৫-১৮ জন সংক্রমিত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে এই রোগ আরও ছড়িয়ে পড়তে পারে, শিশুমৃত্যু বাড়তে পারে।

রমেক হাসপাতালের শিশু বিভাগ সূত্রে জানা যায়, চিকিৎসাধীন দুই শিশুর মধ্যে আমাতুল্লাহ জান্নাত (৮ মাস) এসেছে লালমনিরহাট থেকে।। তাকে ভর্তি করা হয় ২৩ মার্চ। তার বাবা আবদুস সালাম ও মা দিলরুবা আখতার লালমনিরহাট শহরের মিশন মোড়ের বাসিন্দা।

আবদুস সালাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘ঈদের আগের দিন বাচ্চার জ্বর আসে। রমেক হাসপাতালের এক অধ্যাপকের মাধ্যমে চিকিৎসা করতাম, উনি বাচ্চাকে নিয়ে আসতে বলে। ২৩ মার্চ বাচ্চাকে হাসপাতালে ভর্তি করি। বাচ্চার গায়ে র‌্যাশ উঠেছিল। হার্ট ফেইলের দিকে চলে গেছিল। হার্ট ফেইলের ট্রিটমেন্ট দেওয়ার পর আজ অক্সিজেন মাস্ক খুলে দিছে। বাচ্চার হার্ট এখন মোটামুটি ভালো আছে।’

আরেক শিশু প্রজ্ঞা রায়কে (৭ মাস) ভর্তি করা হয় ২৫ মার্চ। তার বাবা রণজিৎ রায়ের বাড়ি দিনাজপুরের পার্বতীপুরে। কিন্তু চাকরিসূত্রে তিনি জয়পুরহাটে থাকেন।
রণজিৎ প্রথম আলোকে বলেন, ৬ মার্চ প্রজ্ঞার শরীরে রোগ দেখা দিলে তাকে জয়পুরহাট সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসা চলার পর তাকে ঈদের দুদিন আগে বাড়িতে পাঠানো হয়। তারপর আবার জ্বর এলে তাকে দিনাজপুরের অরবিন্দু শিশু হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ওখান থেকে বাসায় নিয়ে আসার পর ২৪ মার্চ আবার জ্বর আসে। পরদিন প্রজ্ঞাকে রমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

রমেক হাসপাতালে দেখা যায়, ১০ নম্বর ওয়ার্ডের (শিশু ওয়ার্ড) বাঁ পাশে শিশুদের একটি খেলার কক্ষকে আইসোলেশন করা হয়েছে। সেখানে দুই শিশু ও তাদের মা-বাবা আছেন। দুই শিশুর অভিভাবকেরা বলছেন, আইসোলেশন কক্ষ নতুন হওয়ায় নেবুলাইজার মেশিন ও অক্সিজেনের ঘাটতি রয়েছে।

রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আশিকুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, তাদের হাসপাতালে হামে আক্রান্ত রোগীর চিকিৎসার জন্য প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। শিশু ওয়ার্ডের সঙ্গে শিশু আইসোলেশন ওয়ার্ড করা হয়েছে। সেখানে দুই শিশু ভর্তি আছে ও চিকিৎসা নিচ্ছে। এ ছাড়া হামে আক্রান্ত বয়স্ক রোগীদের চিকিৎসার জন্য আইসোলেশনের জন্য আলাদা কর্নার করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত রংপুর অঞ্চলে হাম বিপজ্জনক পর্যায়ে ছড়িয়ে যায়নি।